ব্লু-হোয়েল এবং প্রযুক্তির সদ্ব্যবহার

 

 

অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা  : প্রযুক্তি উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীদের হাতে আসলে এমন সব অস্ত্র তুলে দিচ্ছে, যা তাদের বিপথগামী করছে। আমরা স্যাটেলাইট চ্যানেলের মাধ্যমে তরুণদের এমন সব জিনিস দিচ্ছি যা আমাদের তরুণদের জন্য একটা ফ্যান্টাসি জগৎ তৈরি করছে। এই ফ্যান্টাসি জগতের মধ্য দিয়ে তরুণেরা একেবারে বাস্তবতাবর্জিত এক্সট্রিম পর্যায়ের চিন্তাভাবনা করছে।

যেখানে তরুণদের গঠনমূলক চিন্তাভাবনা করা উচিত; যেমন: দেশের স্বার্থ, সামাজিক স্বার্থ, গরিবদের সহায়তা, পড়াশোনা, সংস্কৃতি চর্চা এসব করা উচিত। সেখানে তারা এসবের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে না বরং তারা অতিমাত্রায় কম্পিউটার, ইন্টারনেট, নিত্যনতুন অ্যাপস এগুলোর মধ্যে একেবারে বুঁদ হয়ে আছে। এবং এসবের মধ্য দিয়ে তাদের একেবারে অদ্ভূত, যা বাস্তবতাবর্জিত, জীবনবর্জিত, বিকৃত চিন্তাধারায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবং ব্লু-হোয়েল হচ্ছে এ ধরনের একটি অবস্থা। এখানে এমন একটি রোমাঞ্চকর ফ্যান্টাসি অবস্থার তৈরি করে, একটা ঝড় তোলে এই উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীদের মনে; যা আসলে সাংস্কৃতিক আবশ্যিকরণ, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন আমাদের তরুণ সমাজকে অবস করে দিচ্ছে। তারা সমাজের জন্য নতুন, গঠনমূলক কিছু চিন্তা করতে পারছে না। তারা নেশায় বুঁদ হয়ে আছে।

হেরোইন, ড্রাগস ইত্যাদি যেমন নেশা, তেমন তার সঙ্গে নতুন সংযুক্ত হলো এই ব্লু-হোয়েল। এ ধরনের বিকৃত ও ধ্বংসাত্মক রুচি তরুণেরা অন্ধের মতো অনুসরণ করছে। যেখানে কোনো জ্ঞান, বুদ্ধি, বিবেচনা, মা-বাবা কোনো কিছুই তারা ভাবছে না। এটা এখন তাদের সরাসরি ধ্বংসাত্মক আত্মহননের পথে নিয়ে যাচ্ছে, এসব আমরা বারবারই বলছি। সময় এসেছে এ ধরনের মিডিয়াগুলোকে কন্ট্রোল করা এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা।

পরিচিতি : সমাজবিজ্ঞানী
মতামত গ্রহণ : তানভীর হক তুহিন
সম্পাদনা : খন্দকার আলমগীর হোসেন