‘নোবেল’ সারপ্রাইজ

শামস্ সয়ূজ : ব্যক্তির মানসিক বিকার দেখা দেয়ায় তার আত্মীয় স্বজনেরা তাকে নিয়ে গেছে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে।

রোগির দিকে একপলক দেখেই ডাক্তার প্রশ্ন করলেন, রোগির সমস্যা কী?

– স্যার, উলের মোজা উনার খুব পছন্দ।

ডাক্তার সাহেব বেশ অবাক হয়ে বললেন, ধুর। এটা কোনো সমস্যা হলো? উলের মোজা তো আমারও খুব পছন্দ।
রোগী এতক্ষণ বেশ শান্তভাবে বসে ছিলেন। ডাক্তারের কথা শুনে তিনি বেশ উৎফুল্ল হয়ে প্রশ্ন করলেন, তাই? আপনি কি সিদ্ধ করে খান না ভেজে?

ডাক্তার কি বলেছিলেন তা জানা নেই। তবে এবারেও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। রোগী এবার মানুষ নয়। চিতা, মানে চিতা বাঘ।

লাল লাল চোখে চিতা ডাক্তারকে বলছে, ডাক্তার সাহেব, সমস্যা বড়ই প্রকট। আমি আমার বউয়ের গায়ে সবসময় ডট ডট দেখি।
– সেটাই স্বাভাবিক নয় কি? চিতার গায়ে তো ডট ডট-ই থাকার কথা।
– কিন্তু, ডাক্তার সাহেব আমার বউ তো চিতা নয় জেব্রা।

দৃশ্যপটে জেব্রা যখন চলেই এলো এবার তবে জ্রেবার গল্প।

জেব্রা স্টুডিওতে গেছে ছবি উঠাতে। পাসপোর্ট সাইজ ছবি। ছবি উঠলো। কিন্তু ঝামেলা বাঁধলো ছবি ডেলিভারি দেবার সময়। জেব্রা কিছুতেই ছবি নেবে না। তার এক কথা, আমি রঙ্গিন ছবির দাম দিয়েছি। দোকানদার আমাকে সাদা-কালো ছবি দেবে কেন?

গল্প শেষ এবার একটা কুইজ। জেব্রার গায়ে কি সাদার ওপর কালো দাগ নাকি কালোর ওপর সাদা?
উত্তর খুঁজতে থাকুন। এর ফাঁকে তাদের জন্য একটি ছোট্ট গল্প এবং টিপস যারা রচিত হয়ে যাওয়া চিত্রনাট্যের শেষদৃশ্যের জন্য গত ক’দিনের হ্যাঁ-পিত্যেশ শেষে অতিশয় ‘সারপ্রাইজড’।
আবারও মনোরোগ বিশেষজ্ঞের চেম্বার।

– ডাক্তার সাহেব। বিবাহিত জীবন একঘেয়ে হয়ে গেছে। কোনো টিপস্ দিন সেটাকে আবার রঙ্গিন করে তোলার।
– এতো খুব সহজ। বউকে ‘সারপ্রাইজ’ দিন। দেখবেন আবার সব লালে লাল আর নীলে নীল।
– সম্ভব না। আমার বউ কখনই ‘সারপ্রাইজড’ হবে না।
– কেন?
– ওর ভ্রুজোড়া প্লাক করে সে কপালে তুলে রেখেছে। ‘সারপ্রাইজড’ হবার প্রশ্নই আসে না।

বেশি ‘সারপ্রাইজড’ হতে নেই। বেশি বেশি ‘সারপ্রাইজড’ হওয়া মানে বোকা বনে যাওয়া। আর বোকারা জীবনে কখনই জেতেনা।

চালাকেরাই বরাবর জয়ী হয়।

তবে জেতার পর সব চালাক-ই কেন জানি বোকার খাতায় নাম লেখায়।
অতএব, সাধু সাবধান।

লেখক : সরকারি কর্মকর্তা, সাবেক সাব-এডিটর; আমাদেরসময় ডটকম।