চালের দাম কমলেও অনেকে বেচছেন বেশিতে

বাড়তি দাম রাখা ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা বেশি দামে চাল কেনার পর হঠাৎ বিক্রি কমার পাশাপাশি পাইকারিতে দাম কমতে শুরু করে। তাই আগের দামেই এখনও বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।

শুক্রবার ঢাকায় চালের পাইকারির বৃহৎ আড়ত বাবুবাজারে প্রতি বস্তা নাজিরশাইল ২৯৫০ থেকে ৩২৫০ টাকা, মিনিকেট ২৮০০ থেকে ২৮৫০ টাকা, আটাশ ২৪৫০ থেকে ২৫৫০ টাকা এবং গুটি ও স্বর্ণা ২২০০ থেকে ২৩০০ টাকা করে বিক্রি হয়। গত শুক্রবার এই বাজারে প্রতি বস্তা নাজিরশাইল ৩০০০ থেকে ৩৩০০ টাকা, মিনিকেট ২৯০০ থেকে ৩১০০ টাকা, আটাশ ২৪৫০ থেকে ২৬০০ টাকা এবং গুটি ও স্বর্ণা ২৩৫০ থেকে ২৪০০ টাকা করে বিক্রি হয়েছিল।

নতুন দাম অনুযায়ী পাইকারিতে কেজিপ্রতি নাজিরশাইল ৬০ টাকায়, মিনিকেট ৫৪ টাকায়, বিআর আটাশ ৪৯ টাকা, গুটি ও স্বর্ণা ৪৪ টাকায় বিক্রি হয়।

তবে এদিন ঢাকার মিরপুরের মণিপুরে একটি মুদি দোকানে কেজি প্রতি নাজিরশাইল ৬৬ টাকা, মিনিকেট ৬৩ টাকা, গুটি ও স্বর্ণা ৫৪ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়।

সুমাইয়া জেনারেল স্টোর নামের এই দোকানের একজন বিক্রয়কর্মী বলেন, বেশি দামে কেনায় তাদের এখনও বেশি দামে চাল বিক্রি করতে হচ্ছে। বিক্রি কমে যাওয়ায় আগের দামে কেনা চাল এখনও শেষ হয়নি।

কারওয়ান বাজারের খুচরা দোকানগুলোতেও ৫০ কেজি ওজনের এক বস্তা নাজিরশাইল ৩০০০ থেকে ৩৪০০ টাকা, মিনিকেট ২৯৫০ থেকে ৩১০০ টাকা, আটাশ ২৪০০ থেকে ২৫০০ টাকা, গুটি ও স্বর্ণা ২১৫০ থেকে ২২৫০ টাকা এবং পারিজা (সরু) ২৩৫০ থেকে ২৪০০ টাকা করে বিক্রি হয়।

গত সপ্তায় কারওয়ানবাজারে ৫০ কেজি ওজনের এক বস্তা নাজিরশাইল ৩০০০ থেকে ৩৫০০ টাকা, মিনিকেট ৩০০০ থেকে ৩২০০ টাকা, আটাশ ২৬০০ থেকে ২৮০০ টাকা এবং গুটি ও স্বর্ণা ২৪৫০ থেকে ২৬০০ টাকা করে বিক্রি হয়।

ঢাকার পাড়া-মহল্লার খুচরা দোকানগুলোর তুলনায় কারওয়ানবাজারের দোকানগুলোতে বিক্রি তুলনামূলক বেশি। এই বাজারের অনেকে মিল পর্যায় থেকে চাল কিনলেও মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, বাবু বাজার থেকেও অনেকে চাল কিনে থাকেন।

কারওয়ান বাজারে কুমিল্লা রাইস এজেন্সির মালিক আবুল কাশেম বলেন, “ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকারের বৈঠক ও চালকলগুলোতে অভিযান চালানোয় চালের দাম অনেক কমেছে।

“অভিযান ঠিক রাখলে চালের দাম আরও কমবে। অভিযান থামানো যাবে না। যারা মজুদ করে দাম বাড়িয়ে দেয় তাদের শাস্তি দিতে হবে।”

চালের দাম কমলেও ক্রেতা তেমন আসছে না জানিয়ে এই ব্যবসায়ী বলেন, “দাম কমার পরেও কেন লোকজন চাল কিনছে না বুঝতে পারছি না।”

বাবুবাজারের মেসার্স নিলয় রাইস এজেন্সির বিক্রেতা সোহানও বলছেন, চালের দাম কমলেও আশা অনুরূপ ক্রেতা মিলছে না।

“কেন ক্রেতা আসছে না বুঝতেছি না। দাম তো অনেক কমেছে। মনে হয় আরও দাম কমার অপেক্ষায় বসে আছে সবাই।”

মিরপুর-২ নম্বর কাঁচাবাজারে শাহীন জেনারেল স্টোরের ব্যবস্থাপক শহীদুল বলেন, গত দুই সপ্তাহে চালের দাম কিছুটা কমেছে। ধীরে ধীরে আরও কমবে।

মিনিকেট চাল যেটা প্রতিকেজি ৭০ টাকার উপরে বিক্রি হত সেটা এখন ৬০-৬২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মোটা চালের দামও কমেছে। তিন সপ্তাহ আগে যেটা প্রতিকেজি ৫৪ টাকা ছিল এখন সেই চাল ৪৮ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে।

বগুড়ার মেসার্স মা মনি চাল কলের মালিক মো. আমিনুল হক দুদু শুক্রবার বলেন, “চালের দাম অনেক কমে গেছে। কারণ আমরা সরকারের সঙ্গে বৈঠকের পর চালকল মালিকদের চাল বাজারে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলাম।

“চট্টগ্রাম অঞ্চলে এখনও তিন-চার লাখ বস্তা চাল মিলে মজুদ আছে। সেগুলোতে যদি সরকার নজর দেয়, আর ওগুলো বাজারে এলে চালের দাম আরও কমবে।”

বাংলাদেশ অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভপপতি আবু ইউসুফ বাচ্চু শুক্রবার বলেন, চালের দাম আরও কমবে।

“শুল্ক দুই শতাংশ করার পর অনেক চাল আমদানি হয়েছে। ভারত চাল রপ্তানি করবে না বলে যে খবর ছড়িয়ে পড়েছিল তা ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া প্লাস্টিকের বস্তায় চাল আমদানি করা যাচ্ছে। ফলে অবশ্যই দাম আরও কমবে।”

ওএমএস চালু করায় চালের বাজারে এর প্রভাব পড়েছে জানিয়ে ইউসুফ বলেন, চালের দাম কমে যাওয়ায় কৃষকরা ঘরে থাকা ধান বাজারে ছেড়ে দিচ্ছেন। মাস দেড়েক পর আমন ধান উঠলে বাজারে এর প্রভাবও পড়বে।

খুচরা বিক্রেতাদের অনেকে এখনও চড়া দামে চাল বিক্রি করছেন জানিয়ে কুমিল্লার এই চাল ব্যবসায়ী বলেন, “অনেক খুচরা ব্যবসায়ী বেশি দামে চাল কিনেছিল, সেগুলো তারা একটু বেশি দামেই বিক্রি করছেন। কম দামের চাল তাদের দোকানে উঠলে তারাও কম দামে বিক্রি করবে।”

শুক্রবার কুমিল্লার মিল গেইটে মোটা চাল ৪০ টাকা এবং আটাশ ৪৬ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে জানিয়ে কুমিল্লা জেলা অটো মেজর অ্যান্ড হাসকিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইউসুফ বলেন, কিছু দিন আগেও মোটা চাল ৪৮ টাকা ও আটাশ ৫২ টাকা করে বিক্রি হচ্ছিল।

 

সূত্র: বিডিনিউজ