প্রথম দিনে ড্যাবের চিকিৎসা সেবা পেল ৫হাজার রোগিঙ্গা, দাবি জাহিদের

কক্সবাজার উখিয়া থেকে মাঈন উদ্দিন আরিফ : কক্সবাজারের উখিয়াতে বিপন্ন ও নিরুপায় অসহায় রোহিঙ্গাদের জন্য প্রাথমিকভাবে তিন দিনব্যাপী ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও বিনামূল্যে ঔষধ বিতরণ শুরু করেছে  ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। প্রথম দিনেই ৫হাজার রোহিঙ্গাকে চিকিৎসা সেবা দিল বলে দাবি করছে সংগঠনটির মহাসচিব এজেডএম জাহিদ হোসেন ।

বুধবার সকাল সকাল ১০টায় উখিয়া জেলাস্থ বালুখালী পান বাজার নূরানী মাদ্রাসা এ সেবা শুরু হয়।

জাহিদ হোসেন বলেন, আমরা প্রথম দিনেই প্রায় ৫হাজার রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা সেবে দিতে পেরেছি। আমাদর এ সেবা চলবে ৩দিন পর্যন্ত।

বিএনপির সার্বিক তত্ত্ববোধনে এই কার্যক্রমে যৌথভাবে সহায়তা করছে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর কেন্দ্রীয় কমিটি ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ শাখা। এছাড়া চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগর, কক্সবাজার জেলা এবং বান্দরবান জেলা শাখাও এতে সম্পৃক্ত রয়েছে।

কি কি রোগ নিয়ে রোহিঙ্গা সেবার জন্য আসছেন জানতে চাইলে ড্যাব ঢাকা মহানগরের আহবায়ক ডা. সামিউল হাসান সোহান বলেন, আমরা এবং আমাদের ২৪ডাক্তার সকাল ১০টা থেকে রুগী দেখেছেন, যখানে বেশির ভাগ রুগীই ছিল শিশু এবং নারী। আর তাদের বেশির ভাগ সমস্যই হলো ঠান্ডা, কাশি, জ্বর, চুলকানী, আগাতের ব্যাথা, ডায়েরিয়া জনিত রোগ।

এই দিকে আগামীকাল বৃহস্পতির সকল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত উখিয়া বালুখালী এবং কুতুপালং ২জাগায় ফ্রি ক্যাম্প বসানো হবে এবং সেখানে হাইপ্রোটিন বিস্কুট ও জীবানুনাষক সাবান দেওয়া হবে বলে জানান ড্যাবের নেতা শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. কায়সার ইয়ামিন ইসাদ।
ডাক্তারদের মধ্যে আরো ছিলেন, অধ্যাপক মোস্তফা রহিম স্বপন, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, ডা. আবদুলাহিল জনি সহ-২৪জন ডাক্তার।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ড্যাব মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন কর্মসূচী উদ্ভোধন করে জানন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১০ম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে অসহায় রোহিঙ্গাদের চিকিৎসা সহায়তায় এই কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে কক্সবাজার শহরের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এই কর্মসূচী উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য মীর্জা আব্বাস বলেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকলে রোহিঙ্গা পরিস্থিতি অনেক আগেই কন্ট্রোল করা যেতো। শহীদ জিয়াউর রহমানের আমলেও রোহিঙ্গা পরিস্থিতি কন্ট্রোল করা গিয়েছিল কূটনৈতিক তৎপরতায়। ওই সময় এক চুক্তির মাধ্যমে দুই লাখ রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছিল। খালেদা সরকার আমলেও কূটনৈতিক তৎপরতায় কয়েকদফা শরণার্থী হয়ে আসা রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত পাঠানো গিয়েছিল। তারপর আর কোন সরকার এই কার্যক্রম এগিয়ে নিতে পারেনি।’

সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য নজরুল ইসলাম খান, দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুুদু ও ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, মৎস্যজীবী বিষয়ক সম্পাদক লুৎফুর রহমান কাজল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, সিনিয়র সহ-সভাপতি এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না, দপ্তর সম্পাদক ইউসুফ বদরী প্রমূখ।

গতকাল  বিএনপির এই প্রতিনিধি দলটি বেলা আড়াইটার ঢাকা থেকে যাত্রা করার কথা থাকলেও প্রায় আড়াই ঘন্টা পর বিকেল ৫টার দিকে তাঁরা বেসরকারি ফ্লাইটে কক্সবাজারের দিকে যাত্রা করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাথে দেখা করতে কক্সবাজার সফরে থাকায় কক্সবাজারগামি সব ফ্লাইট দীর্ঘ সময় বিরত করা হয়।