কথা কম বলা ভালো: প্রধান বিচারপতিকে তোফায়েল

নিজস্ব প্রতিবেদক: বিচারপতি অপসারণসংক্রান্ত ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় রিভিউতে পাঠাতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

বুধবার সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের পর্যবেক্ষণ বাতিলে আনীত সাধারণ আলোচনার প্রস্তাবে অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।

জাতীয় সংসদে এ সাধারণ আলোচনার প্রস্তাব আনেন জাসদের একাংশের সভাপতি চট্টগ্রাম-৮ আসনের এমপি মঈন উদ্দীন খান বাদল।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল থেকে সংসদ কর্তৃক অপসারণের প্রস্তাব অনেক বেশি যৌক্তিক ও বিশ্ব প্রেক্ষাপটে গ্রহণযোগ্য। আইনমন্ত্রীকে বলব, এটাকে রিভিউতে পাঠানোর জন্য।’

প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘বিনয়ের সঙ্গে প্রধান বিচারপতিকে বলি, কথা কম বলা ভালো। অনেক পোড় খাওয়া লোক আমরা এখানে আছি। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ কত সুন্দরভাবে চলছে।’

এই রায় দিয়ে বিএনপিকে উৎফুল্ল করার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তোফায়েল বলেন, ‘প্রধান বিচারপতি পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা করতে পারেন না।’

ষোড়শ সংশোধনীতে থাকা বিচারপতি অপসারণের প্রক্রিয়া তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘একটি সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার আগেই মারা গেল। আমরা চাইলাম সবার মর্যাদা রাখতে।’

তোফায়েল বলেন, ‘জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কেউ ছোট করে কথা বললে সমগ্র জাতিকেই ছোট করা হয়। সংসদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে স্বাভাবিকভাবেই আমরা দুঃখিত হই।’

আদালতের বন্ধু অ্যামিকাস কিউরি তারা কারা? এ প্রশ্ন রেখে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা বলেন, ‘তারা আওয়ামী লীগ বিরোধী। ড. কামাল আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে নিজে দল করেছেন। ব্যারিস্টার আমীর-উল ইসলাম আওয়ামী লীগের কেউ নন। রোকউদ্দিন মাহমুদ হাইকোর্টে এক, আপিল বিভাগের আরেক বলেছেন। এ জে মোহাম্মদ আলী, ফিদা কামাল, হাসান আরিফ, টিএইচ খান-এরা কারা? একমাত্র আজমালুল হোসেন সংসদের পক্ষে কথা বলেছেন। আর কোনো লোক পাওয়া গেল না? এসব লোক দিয়ে সংশোধনী বাতিল করা হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, সংসদের ষোড়শ অধিবেশন শেষ হওয়ার পর গত ১ আগস্ট ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল আলোচনা চলছে।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ২০১৪ সালে ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে উচ্চ আদালতের বিচারক অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে এনেছিল।