চাঁপাইনবাবগঞ্জে কিশোরী ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের যাজ্জীবন

মেহেদী হাসান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ : চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১৪ বছরের এক কিশোরীকে অপহরণের পর ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহযোগিতার অপরাধে ধর্ষক সহ তিনজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড,প্রত্যেককে ১ লক্ষ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ বছর করে বিনাশ্রম কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সেই সাথে জরিমানার অর্থ ওই কিশোরী (ভিকটিম) প্রাপ্ত হবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়।

বুধবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-২ এর বিচারক ও অতিরিক্ত দায়রা জজ জিয়াউর রহমান আসামীদের উপস্থিতিতে এই দন্ড ঘোষনা করেন। দন্ডিতরা হলেন, জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের মিছু আলীর ছেলে জিয়ারুল ইসলাম (২৮), একই উপজেলার বাটা গ্রামের এসান আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম(৪০) ও কাশিয়াবাড়ি খাসপাড়া গ্রামের মৃত.সাজু আলীর ছেলে এজু ওরফে নজু ওরফে নজরুল (৪৯)। মামলার বিবরণ ও অতিরিক্ত সরকারী কৌসুলী (আ্যাড.পিপি)

আঞ্জুমান আরা বেগম জানান, শিবগঞ্জের দাইপুকুরিয়া ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়িতে খালার বাড়ীতে বেড়াতে যেয়ে ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় গত ২০১৩ সালের ২০ আগষ্ট রাতে মাটির দেয়াল কেটে ওই কিশোরীকে মুখ বেঁধে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে জোর করে একাধিকবার ধর্ষণ করে মূল অভিযুক্ত জিয়ারুল। পূর্বপরিকল্পিত এই অপরাধ সংঘটনে অন্যরা তাকে সহযোগিতা করে। পরদিন ২১ আগষ্ট রাতে ওই কিশোরীকে এলাকাবাসীর সহায়তায় একটি আমবাগান থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনার কিশোরীর পিতা বাদী হয়ে ২৫ আগষ্ট শিবগঞ্জ থানায় ৫ জনের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। (মামলা নং- ৫৬, শিবগঞ্জ থানা, তাং-২৫-০৮-১৩,জিআর নং ৩৫৭/২০১৩,নারী ও শিশু মামলা নং ৩০/২০১৩)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) ও শিবগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ ২০১৩ সালের ২১ নভেম্বর ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশীট) দাখিল করেন। ৭ জন সাক্ষির সাক্ষ্য প্রদান ও দীর্ঘ শুনানীর পর আদালত বুধবার ওই ৩ জনকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে দন্ডাদেশ প্রদান করেন। আসামী পক্ষে ছিলেন আ্যাড. নুরুল ইসলাম সেন্টু।