সরকার সংসদকে বিচারবিভাগের প্রতিপক্ষ বানাচ্ছে : মির্জা ফখরুল

কিরণ সেখ: সরকার সুপরিকল্পিভাবে সংসদকে বিচারবিভাগের বিরুদ্ধে লাগিয়ে প্রতিপক্ষ বানাতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বুধবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে বিএনপি আয়োজিত ‘দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১০ কারামুক্তি দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বর্তমান সরকার দেশের সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করেছে। আজকে তারা বিচারবিভাগকে প্রতিপক্ষ বানিয়েছে। সংসদকে বিচারবিভাগের বিরুদ্ধে লাগিয়েছে। আজকে ঘোড়শ সংশোধনী অসাংবাদিক ঘোষণা করে বাতিলের বিষয়ে সংসদে প্রস্তাব আনা হচ্ছে। এটা সুনির্দিষ্টভাবে সংসদকে বিচারবিভাগের বিরুদ্ধে লাগিয়ে প্রতিপক্ষ বানানো হচ্ছে। আমরা এর নিন্দা জানাই। এভাবে বিচারবিভাগ, বিচারপতিদের ও বিচারপতিকে হেয়প্রতিপন্ন করে রাষ্ট্রের মূল ভিত্তিকে নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে- বলে মনে করেন তিনি।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সহযোগিতার জন্য বিএনপির ত্রাণ কমিটি ২০ টি ট্রাক নিয়ে সেখানে যাচ্ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের ত্রাণ টিমকে বাধা দেওয়া হয়েছে। আপনাদের (প্রধানমন্ত্রী) প্রতি ধিক্কার জানাই, ঘৃণা প্রকাশ করি যে, ত্রাণের মত একটি অনুষ্ঠান পর্যন্ত আপনারা করতে দেন না। আমরা দাবি জানাই, রোহিঙ্গাদের মাঝে এই ত্রাণ বিলি করবার জন্য আমাদের নেতাদের যেতে দেওয়া হোক।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য মির্জা ফখরুল বলেন, আপনি যে রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিতে গিয়ে কাঁদলেন, এটা পত্র-পত্রিকায় বিভিন্নভাবে লেখা হলো, প্রধানমন্ত্রী কাঁদলেন এবং কাঁদালেন। আমাদের নেতাকর্মীরা ২০ টি ট্রাক নিয়ে গিলেন, তারা তো চাঁর ভাগের এক ভাগ লোকের মুখে খাবার তুলে দিতে পারতেন। সেই খাদ্য থেকে কেনো আপনি তাদেরকে বঞ্চিত করলেন? আপনাদের উদ্দেশ্য একটা, লোক দেখানো। মানুষদের জন্য এটা করছেন না!

বিএনপির এই মহাসচিব বলেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সাহায্য সরকারিভাবে সেখানে একটি চিকিৎসা কেন্দ্র হয়েছে কী না, তা আমি জানি না। এখন পর্যন্ত তাদের থাকার জন্য কোন ছাউনিও তৈরী হয়েছে কি না, সেটা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। আমরা দেখেছি, তারা কিভাবে বৃষ্টির দিনে উন্মুক্ত আকাশের নিচে শিশুদের নিয়ে দুস্থ ও অভূক্ত অবস্থান মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।