বৃষ্টিতে দিশেহারা রোহিঙ্গারা
আশ্রয়, খাবার ও চিকিৎসা সংকটে রোহিঙ্গা শিবির

মাঈন উদ্দিন আরিফ, কক্সবাজার, উখিয়া থেকে : গত কয়েকদিন ধরে রোহিঙ্গারা নানা কষ্টের মধ্যে দিন অতিবাহিত করলেও নতুন করে তাদেরকে বাড়তি দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়েছে। কক্সবাজারে উখিয়া সকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি তাদেরকে আরো বেশী নাকাল অবস্থার মধ্যে ফেলেছে।

মিয়ানমার থেকে প্রাণে বেঁচে আসা মহিলা রহিমা খাতুন। তার মেয়ে জামাইকে হারিয়ে দুই নাতিকে নিয়ে একটু আশ্রয় খোঁজার চেষ্টা করতে দেখা গেছে। কিন্তু বৃষ্টির মধ্যে তারা কোথাও ঠাই না পেয়ে বৃষ্টিতেই ভেজেন। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে কেউ গাছের নিচে কেউ আবার কারো ঘরের কার্নিশের নিচে আশ্রয় নেন। এক ছাতার নিছে ৫/৬ জনকে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে। তবে উখিয়া-টেকনাফের রাস্তার দুই ধারে হাজার হাজার রোহিঙ্গা বৃষ্টিতে ভিজে নিজেদের শেষ সম্বলটুকু আঁকড়ে ধরে আছেন এখনো।

রহিমা খাতুন বলেন, এভাবেই বৃষ্টিতে ভিজে ৩ রাত মা-বাবা হারা এই নাতি-নাতনিকে নিয়ে দিন কাটাচ্ছি। অশ্রু চোখে তিনি বলেন, আমি না হয় উপবাস, না খেয়ে থাকতে পারবো। বৃষ্টিতে ভেজা, টাকার অভাবে কী খাওয়াবেন এ নাতি-নাতনিকে তা জানেন না অসহায় বৃদ্ধা নারী। শুধু রহিমা নয়, এভাবেই উখিয় থেকে টেকনাফ পর্যন্ত হাজার হাজার নারী শিশু বৃষ্টিতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

অন্যদিকে একটু ত্রাণের জন্য বৃষ্টিতে ভিজে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা এই দৃশ্যপট এখন খুবই সাভাবিক।
রহিমা খাতুন। বার্মার হাইসুরাতা থেকে ৩দিন আগে এসেছে বাংলাদেশে। চোখের সামনেই খুন হতে দেখেছে মেয়ে এবং মেয়ের জামাইকে। মা-বাবাকে হারানো ৩ বছর এবং ৪বছর মেয়ে এবং ৫বছরের ছেলে শিশুকে নিয়ে নাফ নদী দিয়ে ছোট নৌকা করে বাংলাদেশে প্রাণ রক্ষা পালিয়ে এসেছে এ নানি।