মিয়ানমারে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা ঠেকাতে ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতা 

আমাদের সময়.কম
প্রকাশের সময় : 13/09/2017 -11:11
আপডেট সময় : 13/09/ 2017-12:34

সাজ্জাদুল হক : নিউ ইয়র্কে আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যেকোনও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব ঠেকানোর লক্ষ্যে পর্দার অন্তরালে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে ভারত।পাশাপাশি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের স্রোত সামলাতে বাংলাদেশকে সাহায্য করার ব্যাপারেও এ তৎপরতা চালাচ্ছে দেশটি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, রোহিঙ্গা সংকট ভারতকে এক নজিরবিহীন ‘ডিপ্লোম্যাটিক ডিলেমা’র (কূটনৈতিক দ্বিধা) মধ্যে ফেলে দিয়েছে ।কারণ, এই সংকটকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার প্রায় মুখোমুখি অবস্থানে চলে এসেছে। অথচ এই দুই প্রতিবেশীর সঙ্গেই ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক খুব ভাল। এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রেখে ভারত কিভাবে রোহিঙ্গা প্রশ্নে নিজেদের ভূমিকা রাখতে পারে, এখন তা চূড়ান্ত করার চেষ্টা চলছে। এ ক্ষেত্রে ভারতের লক্ষ্য হলো- এমন একটা ফর্মুলা প্রস্তাব করা, যা মিয়ানমার ও বাংলাদেশ উভয় দেশেরই স্বার্থরক্ষা করে এবং দু’পক্ষের কাছেই গ্রহণযোগ্য হয়।

কূটনৈতিক মহলে ভারতের এমন প্রচেষ্টায় বিভিন্ন দিকের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে যে বিতর্ক শুরু হবে, সেখানে ওআইসি (অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কান্ট্রিজ) ভুক্ত বিভিন্ন দেশ মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরব হতে পারে। এমনকি মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও প্রস্তাব আসতে পারে। সেক্ষেত্রে ভারত সর্বশক্তি দিয়ে সেই প্রস্তাবের বিরোধিতা করবে।

নিরাপত্তা পরিষদে এ ধরনের কোনও প্রস্তাব যদি ওঠে, আর চীন তাতে ভেটো দেবে এটাও ভারতের একরকম জানাই আছে। কিন্তু ভারত মিয়ানমারকে একটা স্পষ্ট বার্তা দিতে চায় যে, রোহিঙ্গা প্রশ্নে তারা বরাবরের মতোই পুরোপুরি মিয়ানমারের পাশে আছে। মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ওআইসি দেশগুলো কতটা কঠোর অবস্থান নিতে চায়, সেটা আঁচ করতে ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর ইতোমধ্যেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন।

এছাড়া, রোহিঙ্গা সংকটকে ঘিরে নরেন্দ্র মোদির নীরবতায় বাংলাদেশে যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়েও ভারত অবহিত। দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশি রাষ্ট্রদূত সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী দু’দিন আগেই এ ব্যাপারে তাদের (বাংলাদেশের) উদ্বেগের কথা ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্করকে জানিয়ে দিয়েছেন। এরপরই নতুন করে একটি বিবৃতিতে রাখাইন স্টেট থেকে শরণার্থীদের ঢল নামার বিষয়ে ভারত উদ্বেগ ব্যক্ত করে। কিন্তু ওই বিবৃতিতেও রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ব্যাপারে কোনও উচ্চবাচ্য করেনি ভারত।

এই পরিস্থিতিতে ভারত চাইছে, লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে সামলানোর বিষয়ে বাংলাদেশ যাতে সব ধরনের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা পায়, তা নিশ্চিত করা। এই সাহায্য শুধু আর্থিক সহায়তা বা ত্রাণসামগ্রী দিয়েই নয়, পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলো যাতে কিছু কিছু রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেয়, ভারত সেই দাবিও তুলতে পারে।

দিল্লিতে সাউথ ব্লকের একটি সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, ‘সিরিয়া-ইরাকের শরণার্থীদের যদি ইউরোপের সব দেশ নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে আশ্রয় দিতে পারে, এমনকি তারা কানাডা-যুক্তরাষ্ট্রেও যেতে পারেন, তাহলে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ক্ষেত্রেও তা করতে অসুবিধা কোথায়?’

অথচ, এক্ষেত্রে সমস্যা হলো, ভারত নিজেই ঘোষণা করেছে- এ দেশে বসবাসকারী চল্লিশ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে চায়। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু পার্লামেন্টের ভেতরে ও বাইরে জানিয়ে দিয়েছেন, এই রোহিঙ্গারা অবৈধ অভিবাসী। ফলে তাদের ভারতে থাকার কোনও অধিকার নেই।

তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভারত সেই নীতি আপাতত স্থগিত রাখার কথা বিবেচনা করতে পারে।

অন্যদিকে, এ বছর সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মোদি যাচ্ছেন না । তার পরিবর্তে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সুষমা স্বরাজের ব্যক্তিগত সমীকরণ অত্যন্ত মধুর। ভারত আশা করছে, স্বরাজ শেখ হাসিনার সঙ্গে একান্ত আলোচনায় রোহিঙ্গা প্রশ্নে ভারতের বাধ্যবাধকতার দিকটি তাকে বোঝাতে পারবেন ।

তবে এই কূটনৈতিক ভারসাম্য বিধানের পরিকল্পনা করা যত সহজ, বিষয়টি বাস্তবে করে দেখানো যে তার চেয়ে অনেক কঠিন , ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তা বিলক্ষণ জানেন।

উল্লেখ্য, সংঘাতপূর্ণ রাখাইন থেকে এ পর্যন্ত ৩ লাখ ৭০ হাজার মানুষ বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। এরই মধ্যেই মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগ এনে দেশটিতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে হোয়াইট হাউজ।

রাখাইনে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় নতুন করে আগুন দেয়ার একটি ভিডিও প্রকাশ হয়েছে। সোমবার দক্ষিণাঞ্চলীয় মংডুর কয়েকটি বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয় বলে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের বরাতে রয়টার্স জানান। মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বেসামরিক লোকজনকে হত্যার পাশাপাশি তাদের ঘর-বাড়ি পুড়িয়ে দিচ্ছে বলে জানায় রোহিঙ্গারা।

মার্কিন যুক্তরাষ্টের হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারা হাকাবি জানান, রাখাইনে অব্যাহত সংঘাতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীকে আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে চলার আহ্বান জানাচ্ছি। সেখানকার বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশটির সরকারের উচিত দ্রুত রাখাইন কমিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা উচিত।

এর মধ্যেই জোরালো হচ্ছে মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচির নোবেল প্রত্যাহারের দাবি। এই দাবিতে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক ‘চেইঞ্জ ডট ওআরজি’ নামের একটি ওয়েবসাইটে পিটিশনে চার লাখের বেশি মানুষ স্বাক্ষর করেছে। -তথ্যসূত্র : বাংলা ট্রিবিউন ও ইনডিপেনডেন্ট টিভি

এক্সক্লুসিভ নিউজ

কম সংরক্ষণ ক্ষমতার আতপ চালের মজুদ আমদানি
বিপাকে সরকার

ডেস্ক রিপোর্ট : অত্যন্ত কম সংরক্ষণ ক্ষমতার আতপ চালের মজুদ... বিস্তারিত

ওবামার জন্য মরিয়া দলীয় নেতারা, যাচ্ছেন নিউ জার্সি ও ভার্জিনিয়ায়

রবি মোহাম্মদ: সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মার্কিন মসনদ ছাড়ার... বিস্তারিত

ট্রাম্পের ইরান বৈরী ভাষণে সৌদি সমর্থন ও নেতানিয়াহুর প্রশান্ত মুখ

লিহান লিমা: জাতিসংঘে প্রথমবারের মত ভাষণ দিতে গিয়ে একের পর... বিস্তারিত

রোহিঙ্গা শিবিরে মানবিক বিপর্যয়

রাহাত : উখিয়ার বালুখালীর তেলিপাড়া রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির। সেখানে খালপাড়... বিস্তারিত

রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে শেখ হাসিনার ৬ প্রস্তাব

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক :  রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে নির্যাতন বন্ধ করে... বিস্তারিত

মুসলিম দেশগুলোর ঐক্যের ব্যাপারে জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

আরিফ আহমেদ : বিশ্বে মুসলমানেরা শরণার্থী হচ্ছে কেন—সে প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রী... বিস্তারিত





আজকের আরো সর্বশেষ সংবাদ

Privacy Policy

credit amadershomoy
Chief Editor : Nayeemul Islam Khan, Editor : Nasima Khan Monty
Executive Editor : Rashid Riaz,
Office : 19/3 Bir Uttam Kazi Nuruzzaman Road.
West Panthapath (East side of Square Hospital), Dhaka-1205, Bangladesh.
Phone : 09617175101,9128391 (Advertisement ):01713067929,01712158807
Email : [email protected], [email protected]
Send any Assignment at this address : [email protected]