রাজনীতিতে সক্রিয় চিত্রনায়িকা অঞ্জনা

আউয়াল চৌধুরী : বাংলা চলচ্চিত্রের পর্দা কাঁপানো অভিনেত্রী, এশীয় মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়ন নৃত্যশিল্পী ও একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার বিজয়ী কিংবদন্তী গুনি চলচ্চিত্র অভিনেত্রী চিত্রনায়িকা অঞ্জনা। এ পর্যন্ত তিনি ৩০০ বাংলা চলচ্চিত্রে পূর্নাঙ্গ নায়িকা হিসেবে অভিনয় করে বাংলাদেশের দর্শকদের মন জয় করেছেন।

বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশ যুবমহিলা লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে।

রাজনীতির প্রসঙ্গে আলাপকালে চিত্রনায়িকা অঞ্জনা বলেন, সেই ছোট্ট বেলা থেকে বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বড় হয়েছি। আমার সৌভাগ্য হয়েছিলো এই মহান মানুষটির আশীর্বাদ পাবার। স্বাধীনতার পরে আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিঃ কিসিঞ্জার বাংলাদেশে এসেছিলেন। সেই সময় বঙ্গভবনে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছিলো, সেই অনুষ্ঠানে আমি নৃত্য পরিবেশন করি।

তিনি বলেন, আমার নাচ শেষ হলে বঙ্গবন্ধু আমাকে তার কাছে ডেকে নিলেন। আমি তখন খুব ছোট্ট হওয়ায় ভয় পাচ্ছিলাম কিন্তু তিনি আমাকে কাছে ডেকে নিয়ে আমার দুই হাতধরে বললেন তুমি অনেক ভালো নৃত্য করেছো, তিনি খুব প্রশংসা করলেন এবং আমাকে তিনি তার কোলে বসিয়ে মিঃ কিসিঞ্জার কে বললেন, লুক মিঃ কিসিঞ্জার ডু ইউ লাইক হার ডান্স? উওরে মিঃ কিসিঞ্জার বলেলেন ইয়েস ভেরি নাইস ডান্স।

অঞ্জনা বলেন, এ সময় বঙ্গবন্ধু বললেন প্রাউড অফ আওয়ার কান্ট্রি। ভবিষ্যতে তুমি অনেক বড় একজন শিল্পী হবে, আমি এই দোয়া করি। বঙ্গবন্ধু আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন এবং আমার বাবাকে ডেকে এনে অনেক প্রশংসা করলেন। আমার জীবনে এটিই সবচাইতে বড় পাওয়া।

বর্তমান রাজনীতি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে অঞ্জনা বলেন, বঙ্গবন্ধুর সেই আদর্শকে বুকে লালন করেই আমি বড় হয়েছি এবং রাজনীতিতে পদার্পণ করেছি। মৃতে্যুর আগ পর্যন্ত রাজনীতির মাধ্যমে আমি মানুষের সেবা করে যেতে চাই। আমার রাজনীতিতে আসার পিছনে আমার একমাত্র আপন ছোট ভাই সাজ্জাত মনি সবসময় অনুপ্রেরণা দিয়েছে আর আমি চীর কৃতজ্ঞ বাংলাদেশ যুবমহিলা লীগের সম্মানিত সাধারন সম্পাদিকা অধ্যাপিকা অপু উকিল দিদির কাছে। কারন তিনি আমাকে যুবমহিলা লীগের সদস্য হিসেবে মনোনীত করেছেন।

নির্বাচন প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে অঞ্জনা বলেন, ইচ্ছে আছে ইলেকশনে প্রার্থী হওয়ার। তবে সব কিছু নির্ভর করবে আমার প্রাণ প্রিয় নেত্রীর ওপর। তিনি যা বলবেন আমি তাই করবো। আমার বাবা আওয়ামীলীগ করতেন আমার ছোট চাচা মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। জয় বাংলা ধ্বনী আমার রক্তে প্রবাহিত। আমি দেশের জন্য জনগনের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাজকে আরো সমৃদ্ধ করার লক্ষে নিজের জীবন উৎস্বর্গ করতেও পিছপা হবোনা।