আয়েশাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন প্রধানমন্ত্রী

এম আমানুল্লাহ : মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত হন আয়েশা বেগমের স্বামী, বাবা ও ভাই। দুই সন্তানকে নিয়ে কোনো রকমে প্রাণ বাঁচাতে পেরেছেন তিনি। এরপর মিয়ানমারের মংডু খয়েরিপাড়ার এই রোহিঙ্গা নারী দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। মঙ্গলবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কাছে পেয়ে আয়েশা চোখের সামনে স্বজন হত্যার মতো নিজের জীবনের নির্মমতা তুলে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শনে গিয়ে এ সময় শেখ হাসিনাও নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি। আয়েশাকে জড়িয়ে ধরে তিনি কেঁদে ফেলেন। সঙ্গে থাকা ছোট বোন রেহেনাও আবেগ ধরে রাখতে পারেননি।

পরে দুই বোন আয়েশাকে সান্ত্বনা দেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

ক্যাম্প পরিদর্শনের সময় আয়েশা ছাড়াও ১২ রোহিঙ্গা নারী-শিশু ও আহত পুরুষদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।

এ সময় তারাও মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর হাতে পরিবারের সদস্যদের করুণ মৃত্যুর বর্ণনা করেন।

তাদের কাছেও নির্যাতনের বর্ণনা শুনে প্রধানমন্ত্রীর চোখে পানি চলে আসে।

নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলা শেষে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন বন্ধের আহ্বান জানান।

প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারের কোনো অন্যায় মেনে নেওয়া হবে না বলেও কড়া হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

যতদিন মিয়ানমারে রোহিঙ্গারা ফেরত যেতে পারবে না, ততদিন তাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করেন শেখ হাসিনা।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে ঢাকা থেকে বিমানযোগে কক্সবাজার যান প্রধানমন্ত্রী। পরে কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে তিনি উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে যান।

সেখানে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলো পরিদর্শন করে তাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করেন।

উল্লেখ্য, বিগত কয়েক দশক ধরে রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনী ও স্থানীয় বৌদ্ধদের নির্যাতন বেড়ে গেছে। সর্বশেষ গত ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইনে সেনাবাহিনীর অভিযানে অন্তত ৩ হাজার রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। আর প্রাণ বাঁচাতে ৩ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

জাতিসংঘ মিয়ানমারের এই হত্যাযজ্ঞকে ‘জাতিগত গণহত্যা’ উল্লেখ করেছে।