রাজধানীতে চারজনের অস্বাভাবিক মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকার কেরানীগঞ্জে অগ্নিদগ্ধ এক শিশু মঙ্গলবার (০৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢামেকের বার্ন ইউনিটে মারা গেছে। সোমবার রাতে রাজধানীর হাতিরঝিলে স্পিডব্রেকারে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মৃত্যু হয়েছে এক মোটরসাইকেল আরোহীর। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ঢাকায় এই দুই জনসহ মোট চারজনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীর বাসা থেকে মোহাম্মদ আলী (৫০) নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (০৫ সেপ্টেম্বর) সকালে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ১০ নম্বর রোডের ২ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলার বাসা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায় পুলিশ। পল্লবী থানার এসআই সারোয়ার জাহান বলেন, ‘ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মোহাম্মদ আলীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এক সন্তানের বাবা মোহাম্মদ আলী বেশ কিছুদিন ধরে বেকার ছিলেন। ফলে তিনি কিছুটা মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এ কারণে তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর হাতিরঝিলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় হৃদয় (২৭) নামের যুবক নিহত হয়েছেন। হাতিরঝিলে স্পিড ব্রেকারে গতি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় মোটরসাইকেলটি উল্টে গেলে গুরুতর আহত হন হৃদয়। পরে উদ্ধার ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে রাত সাড়ে ১২ টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন। ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই  মো. বাচ্চু মিয়া জানান, হৃদয়ের বাসা মগবাজারের আমবাগানে। তার বাবার নাম হাবিব উল্লাহ।

মোহাম্মদপুরে সোমবার রাতে পিচ্ছি বেগম (২৩) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। মোহাম্মদপুর থানার এসআই সানাউল হক জানান, রাত সাড়ে ১২টার দিকে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট বিহারি ক্যাম্পে খুরশিদা বেগমের বাড়ির একটি রুম থেকে পিচ্ছি বেগমের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি আরও জানান, মৃতদেহটি ফ্যানের সঙ্গে গামছা দিয়ে ঝুলানো ছিল। তবে তার হাঁটু ভাঁজ করা অবস্থায় পা দুটি ফ্লোরের সঙ্গে লাগানো ছিল। গলার বাম পাশে ছিল কালচে জখম। ডান পায়ের ওপরে ও নীচে বিভিন্ন স্থানে রক্ত জমাট বাঁধা জখম রয়েছে। এসআই সানাউল হক জানান, পিচ্ছি বেগমের স্বামী মনির হোসেনকে পাওয়া যায়নি। এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি সানাউল হক। তিনি বলেন, ‘মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আসলেই মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।’

এদিকে, সোমবার রাতে কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়ায় একটি বাসায় গ্যাস জমে বিস্ফোরণে একই পরিবারের দগ্ধ তিনজনের মধ্যে হামিম (৩) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তার বাবা-মায়ের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। হামিমের চাচি জেসমিন বেগম জানান, সোমবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে ঘরের চুলায় তরকারি গরম করতে গিয়ে হামিমের মা হাবিবা (২২) আগুন ধরানোর সঙ্গে সঙ্গে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারও বিস্ফোরিত হয়। এতে সুজন (৩০), তার স্ত্রী হাবিবা (২২) ও তাদের একমাত্র সন্তান হামিম দগ্ধ হয়। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে মিটফোর্ড হাসপাতাল ও পরে সেখান থেকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

বার্ন ইউনিটের আবাসিক সার্জন ডা. পার্থ শংকর পাল জানান, শিশু হামিম মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। তার শরীরে ৭০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। সুজনের ৪৫ শতাংশ ও হাবিবার ৬০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।