মানিকগঞ্জের সিংগাইরে দুইটি মন্দিরে মূর্তি ভাংচুর

আবুল বাসার আব্বাসী,মানিকগঞ্জ  : মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার শোলাই বাঙ্গালা গ্রামে রক্ষাকালী ও লোকনাথ মন্দিরের ৮টি মূর্তি ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার রাতের কোন এক সময় মন্দিরের তালা ভেঙ্গে দুর্বৃত্তরা ভিতরে ঢুকে মূর্তি গুলো ভাংচুরের করে। এতে স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারন সম্পাদক সন্তোষ রাজবংশী জানায় মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় লোকজন মন্দির প্রাঙ্গনে ভাংচুর করা মূর্তিগুলো এলোমেলো পড়ে থাকতে দেখে মন্দির কমিটিকে খবর দেয়। কমিটির নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে এসে পুলিশকে খবর দেন। পরে সিংগাইর থানা পুলিশের একটি ক্রাইমসিন দল ঘটনাস্থলে পৌছে আলামত সংগ্রহ করে। মন্দিরের জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।

মন্দির কমিটির সভাপতি লালচান রাজবংশী জানান, মন্দিরের দখলে থাকা ২০ শতাংশ খাস জমির নিয়ে প্রতিবেশী আব্দুল জলিলের সাথে বিরোধ রয়েছে। সোমবার বিকেলে আব্দুল জলিল ওই জমিতে ঘর তুলতে আসে। এতে বাঁধা দিলে আব্দুল জলিল দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়। এর পর রাতে মূর্তি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা রাধাকৃষ্ণ, গৌর নিতাই, ডাকিনি জুকিনি, মহাদেব ও লোকনাথ মূর্তি ভাংচুর করে। দুটো মন্দিরের ৮টি মূর্তি ভাংচুরের ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে শাস্তির দাবি করে তিনি।

সিংগাইর থানার ওসি খন্দকার ঈমাম হোসেন, জানান, মূর্তি ভাংচুরের খবর পেয়ে পুলিশের একটি ক্রাইমসিন দল ঘটনাস্থলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সেই সাথে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। এব্যাপারের মন্দির কমিটির সভাপতি লালচান রাজবংশী বাদি হয়ে একটি মামলা করেছেন। মন্দির পাশে ২০ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টির পাশাপাশি কি কারণে মূর্তি ভাংচুর করা হয়েছে এবং কারা ঘটনার সাথে জড়িত তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। খুব শিগগিরই দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে। সম্পাদনা : মাহফুজ উদ্দিন খান