কাবুলে নিরাপদ পানি এখন অর্থসাধ্য

অরণ্য কাশ্যপ: আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের সমৃদ্ধ অঞ্চলে অবস্থিত দূতাবাস এবং অন্যান্য গুরুত্বপুর্ণ অফিসগুলোতে প্রতিদিন আকাশী নীল ভ্যান যোগে প্লাস্টিকের ওয়াটার কুলার জার সহ নিরাপদ পানি সরবরাহ করা হয়। তবে কাবুলের বেশিরভাগ জায়গায় এখন নিরাপদ পানির সন্ধান পাওয়া দুস্কর।

গত এক দশকে যেখানে জনসংখ্যা বেড়েছে ৫০ লাখ, সেখানে বাড়ে নি নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা। অনেক এলাকায় প্রথাগত পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ছাড়াই মানুষ কুপ খনন করছে। শুকিয়ে গেলে আবার সেগুলোকে আরো গভীর পর্যস্ত নিয়ে যাচ্ছে।

শহরের স্যুয়ারেজ ব্যবস্থাও ভঙ্গুর। কেউ কেউ সেপটিক ট্যাঙ্ক নির্মাণ করলেও অনেকে খনন করে শুধু ল্যাট্রিন করছে। এর ফলে, নিরাপদ পানি মাঝে মাঝে ভূগর্ভস্থ নিষ্কাষণ ব্যবস্থার সাথে মিশে দূষিত হচ্ছে। নির্মাণাধীন বাড়ি কিংবা কারখানা থেকেও রাসায়নিক পদার্থ মাটিতে মিশে পানির স্বাদ তিক্ত করে ফেলছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত বেশ কিছু প্রতিবেদনে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে যে কাবুলে প্রাপ্য পানি বিপজ্জনকভাবে দূষিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরাও ভবিতব্য এই দূষণ সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে সরকারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন যে সেগুলো অযৌক্তিক।

গত মার্চে ন্যাশনাল এনভায়রনমেন্ট প্রোটেকশন এজেন্সি কর্তৃক কাবুলে পানি সংযোগের একটি জরিপ করলে, প্রতি ২২টি স্থানের মধ্যে ৫টি স্থানে ই-কোলি ব্যাকটেরিয়া পায়।

কাবুলের ক্রমবর্ধমান পানির সমস্যাটি রাজধানীর আদি পানির উৎস দ্বারা বেষ্টিত, যার মধ্যে রয়েছে হিন্দু কুশ পর্বত তুষারপাত থেকে আসা নিকটবর্তী দুটি প্রদেশের শক্তিশালী নদী ও তার উপরে গঠিত বাঁধ। কিন্তু কাবুলে হাজার হাজার পরিবারকে পাহাড় ও নদীর পানি সরবরাহ করা অনেক ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ উদ্যোগ হবে।

গত দশকের বার বার সংঘর্ষের ফলে শহরটি অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এখনও বিদ্রোহীদের দ্বারা বোমা হামলা হয়। তাদের অনেকে এখনও গ্রামীণ জলাধার ও বাঁধে আক্রমণ চালায়।

আশাবদী কর্তৃপক্ষ দুই বছর আগে আন্তর্জাতিক অর্থায়নে উচ্চাভিলাসী জলাধার ও কুপ নির্মাণের প্রকল্প চালু করার কথা বললেও তা এখনও প্রারম্ভিক পর্যায়ে আটকে আছে। ওয়াশিংটন পোস্ট