অং সান সুচির কুশপুত্তলিকা দাহ
‘মিয়ানমার সরকার মানবতাকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে’

রফিক আহমেদ : বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিষ্ট ফোরাম (বোয়াফ) সভাপতি কবীর চৌধুরী তন্ময় বলেছেন, তৃতীয় বিশ্বের আধুনিক সভ্যতায় মিয়ানমারের সরকার মানুষ-মানবতাকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে; যা বিশ্ব নেতৃবৃন্দ ঐক্যবদ্ধভাবে চাপ সৃষ্টি করে বন্ধ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘বার্মার রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় রোহিঙ্গা গণহত্যা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও অং সান সুচি’র কুশপুত্তলিকা দাহ’ এক কর্মসূচিতে তিনি এ আহ্বান জানান।

কবীর চৌধুরী তন্ময় বলেন, বার্মার রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের উপর যে নিপীড়ন-নির্যাতন-বিতাড়ন আর গণহত্যা অব্যাহত রেখেছে, তা এই মানবতাবিরোধী অপরাধ বন্ধ বা প্রতিহত করার জন্যে বিশ্বনেতাদের মাঝে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত-চীনকে সবার আগে আন্তরিকতার সহিত এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, ১৯৬২ সালে সামরিকজান্তা ক্ষমতা দখলের পর রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের উপর যে হত্যা-নিপীড়ন-নির্যাতন আর বিতাড়ন শুরু হয়েছিল; তা তথাকথিত গণতান্ত্রিক আবরণ দেওয়া বার্মার সরকার বন্ধ না করে বরং গণহত্যা করে যাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। আর আশির দশক থেকে রোহিঙ্গাদের দলে ভিড়িয়ে বিএনপি-জামায়াত যে অপরাজনীতি শুরু করেছিল, বর্তমান সরকার তা করার ষড়যন্ত্র করলে এদেশের জনগণ তা প্রতিহত করতে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে।

বক্তারা আরও বলেন, শান্তিতে নোবেল জয়ী মানবতাবিরোধী অপরাধী ও অশান্তি সৃষ্টিকারী অং সান সুচি নীরব থাকলেও বিশ্বের মানুষ নীরব থাকবে না। তাই রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের উপর মিয়ানমার সরকারের হত্যা-নিপীড়ন-নির্যাতন আর বিতারনের বিষয়বস্তু বিশ্ব নেতৃবৃন্দের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে জাতিসংঘের দৃষ্টি আকর্ষণ করা বাংলাদেশ সরকারের একান্ত দায়িত্ব-কর্তব্য বলেও মতামত দেন বক্তারা।

সংগঠনের সভাপতি কবীর চৌধুরী তন্ময়ের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করেন মুফতি মাসুম বিল্লাহ নাফিয়ী, আশরাফ আলী হাওলাদার, সাহীকুল আলম টিটু, মাজহারুল ইসলাম জুয়েল ও রফিকুল ইসলাম রাকিব প্রমুখ।