ওয়াসার কর্মকর্তা পরিচয়ে ‘জরিমানা’ আদায়, পাঁচ প্রতারক আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক : নিজেদের ওয়াসার কর্মকর্তা-কর্মচারী পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন এলাকার বাসাবাড়িতে হানা দিচ্ছিল তারা। পানির মিটার ও লাইন পরীক্ষা করে নানা ‘অসঙ্গতি’ও আবিষ্কার করছিল। পরে লাইন বিচ্ছিন্ন ও জেল-জরিমানার ভয় দেখিয়ে গ্রাহককে নাস্তানাবুদ করে বিপদ থেকে রক্ষা করতে ঘুষ আদায় করছিল তারা। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। র‌্যাবের জালে ধরা পড়েছে ওয়াসার কর্মকর্তা পরিচয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া পাঁচ প্রতারক।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর রায়েরবাগ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে র‌্যাব-৩ এর একটি দল এই প্রতারকদের আটক করে।

র‌্যাব-৩ এর এএসপি আবদুল করিম জানান, গোয়েন্দা সূত্রে তারা ওই প্রতারকচক্রের অপকর্মের কথা জানতে পারেন। এ খবরের সূত্র ধরে বুধবার দুপুরে যাত্রাবাড়ী থানার রায়েরবাগ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে প্রতারক চক্রের লিটন শিকদার (৪২),রফিকুল ইসলাম (২৫), জিয়াউর রহমান জিয়া (৩৫) ও দুলাল হোসেনকে (৩৭) আটক করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী চক্রের আরেক সদস্য বিপ্লব মিয়াকে (৩০) রাজধানীর দারুসসালাম থেকে আটক করা হয়।

এসময় তাদের কাছ থেকে ওয়াসার তিনটি সিল, একটি স্ট্যাম প্যাড, একটি লোহার হাতুড়ি, একটি টর্চ লাইট, একটি হ্যাকসো ব্লেড, ওয়াসা লেখা কভার ফাইল, সিল স্বাক্ষরযুক্ত ওয়াসার হোল্ডিং জরিপ তালিকা, ওয়াসার গ্রাহকদের বকেয়া প্রত্যয়নপত্র, একটি ব্যাগ, ওয়াসার মনোগ্রামযুক্ত উপসহকারী প্রকৌশলী এমদাদুল হক ও একটি আইডি কার্ড উদ্ধার করা হয়।

এএসপি আবদুল করিম আরও জানান, বিপ্লব মিয়া মিরপুর ওয়াসা অফিসের ইন্সপেক্টর জহির উদ্দিনের সহকারী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছিল। বিপ্লব ইন্সপেক্টর জহির উদ্দিনের দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় তার পক্ষে গ্রাহকদের মিটার রিডিং নেওয়া এবং বিল দেওয়ার কাজ করে। এই সুযোগে বিপ্লব ওই অফিস থেকে কাওরান বাজার এবং যাত্রাবাড়ী ওয়াসা অফিস থেকে ওয়াসার গ্রাহকদের হোল্ডিং জরিপ তালিকা, ওয়াসার গ্রাহকদের বকেয়া প্রত্যয়নপত্র ফরমগুলো সংগ্রহ করে সেগুলো তার বাবা রুহুল আমিনকে সরবরাহ করে। রুহুল আমিন আটকদের সহযোগী এবং চক্রের অন্যতম সদস্য হিসেবে কাজ করে।

হোল্ডিং জরিপ তালিকা অনুযায়ী গ্রাহকদের বাসাবাড়িতে গিয়ে আটক লিটন শিকদার নিজেকে ওয়াসার উপসহকারী প্রকৌশলী এমদাদুল হক হিসেবে পরিচয় দেয়। রফিকুল নিজেদের ওয়াসার স্যানিটারি মিস্ত্রী এবং জিয়া ও দুলাল নিজেদের ওয়াসার কর্মচারী পরিচয় দিতো। তারা র‌্যাবকে জানায়, দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের ওয়াসার পরিদর্শন টিম পরিচয় দিয়ে এভাবে প্রতারণা করে আসছে।