প্রতিদিন বিক্রি হয়েছে ২৫ হাজার টিকিট

নিজস্ব প্রতিবেদক: পবিত্র ঈদ উল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের জন্য ১৮ আগস্ট ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছিল। আর সেখানে প্রতিদিন বিক্রি হয়েছে ২৫ হাজার ১০২টি করে টিকিট।

কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে গত ১৮ আগস্ট বিক্রি হয়েছে ২৭ আগস্টের টিকিট। ক্রমান্বয়ে ২২ আগস্ট দেয়া হয় ৩১ আগস্টের টিকিট, সর্বশেষ আজ ২৩ তারিখ দেয়া হয়েছে ১ সেপ্টেম্বরে টিকিট। সেখানে প্রথম দুইদিনের প্রতিদিন ৩১টি আন্তঃনগর ট্রেনের জন্য ২২ হাজার ৪৯৬টি টিকিট বিক্রি করা হলেও ২৯ আগস্ট থেকে পরবর্তি দিনগুলোর জন্য বিশেষ ট্রেনের টিকিটসহ প্রতিদিন বিক্রি হয়েছে ২৫ হাজার ১০২টি করে টিকিট। এছাড়া অন্যান্য চলতি ট্রেন মিলিয়ে টিকিট বিক্রি হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার।

তবে প্রতিদিনই তুলনায় টিকিট প্রত্যাশিতদের উপস্থিতি ছিলো অনেক বেশি যে কারণে অনেককেই ফিরে যেতে হয়েছে খালি হাতে।

একদিকে বন্যা অন্যদিকে বৃষ্টি পরবর্তি মহাসড়কে খানাখন্দের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানের সড়ক চলাচলের জন্য প্রায় অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে। সে কারণে এবার ঈদ যাত্রায় ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেতে ঘরমুখো মানুষ ট্রেনের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠে। কিন্তু টিকিটের সংখ্যা নির্দিষ্ট থাকায় দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে পাননি কাঙ্খিত টিকিট।

এ বিষয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী জানান, প্রতিদিনই কমলাপুরে টিকিট প্রত্যাশীদের উপচে পড়া ভিড় ছিলো। যত জন লাইনে দাঁড়িয়েছে তাদের সবাইকে টিকিট দিতে পারিনি, কারণ টিকিট সীমিত তারপরও যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে কমলাপুর স্টেশনের ২৩টি কাউন্টারে টিকিট বিক্রি হয়েছে, যার মধ্যে দুটি কাউন্টার নারীদের জন্য সংরক্ষিত ছিলো। মোট টিকিটের ২৫ শতাংশ অনলাইন, ৫ শতাংশ ভিআইপি, ৫ শতাংশ রেলওয়ে কর্মকর্মতা-কর্মচারি জন্য বরাদ্দ ছিলো। বাকি ৬৫ শতাংশ টিকিট কাউন্টার থেকে বিক্রি হয়েছে প্রতিদিন।

আগামী ২৯ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর এবং ঈদের পর ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ সেপ্টেম্বর সাত জোড়া বিশেষ ট্রেন চলু হচ্ছে।

ফিরতি টিকিট
ঈদ ফেরত যাত্রীদের জন্য অগ্রীম টিকিট বিক্রি শুরু হবে ২৫ আগস্ট থেকে। ঈদ ফেরত যাত্রীদের জন্য অগ্রীম টিকিট রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, দিনাজপুর ও লালমনিরহাট স্টেশন থেকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায়া সকাল ৮টা থেকে বিক্রি হবে। সেখানে ২৫ আগস্ট পাওয়া যাবে ৩ সেপ্টেম্বরের টিকিট। ক্রমান্বয়ে ২৬, ২৭, ২৮ ও ২৯ আগস্ট পাওয়া যাবে ৪, ৫, ৬, ৭ সেপ্টেম্বরের ফিরতি টিকিট। এছাড়া ১ থেকে ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মৈত্রী এক্সপ্রেস চলাচল করবে না।

ঈদ যাত্রায় সাত জোড়া বিশেষ ট্রেন
ঈদকে সামনে রেখে যাত্রীদের সুবিধার্থে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সেই লক্ষ্যে সাত জোড়া বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করা হবে। বিশেষ ট্রেনে ঈদের পূর্বে চার দিন ও ঈদের পরে ৭ দিন চলবে।

নাশাকতা প্রতিরোধ
চলন্ত ট্রেনে, স্টেশনে বা রেললাইনে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধকল্পে আরএনবি, জিআরপি, ও রেলওয়ে কর্মচারিদের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। এছাড়া র‌্যাব, বিজিবি, স্থানীয় পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় সহযোগিতায় নাশকতাকারীদের কঠোরভাবে দমন করা হবে।

কোচ সংযোজন
পাহাড়তলী ওয়ার্কসপ হতে ৭২টি এমজি ও সৈয়দপুর ওয়ার্কশপ হতে ৬৬টিসহ (২৫ টি এমজি ও ৪১ টি বিজি) মোট ১৩৮ টি কোচ সপআউট-টার্ন হবে। ১৩৮টি শপ আউটটার্ন সহ মোট ১২৯৬টি কোচ চলাচল করবে। গত বছর ১৭০টি শপ আউটটার্ন সহ মোট ১২২২ টি কোচ চলাচল করেছে। এ বছর ৭৪টি কোচ বেশি চলাচল করবে।

লোকোমেটিভ সরবারাহ
ঈদে পূবাঞ্চলে ১১৬টি ও পশ্চিমাঞ্চলে ১১টিসহ মোট ২২৯ টি লোকোমোটিভ ব্যবহার করা হবে। গত বছর ২২৭ টি চলাচল করেছে।

যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের সুবিধার্থে ঈদে ৩ দিন পূর্ব থেকে কন্টেনার ও জ্বালানি তেলবাহি ট্রেন ছাড়া কোনো গুডস ট্রেন চলাচল করবে না। ঈদ উল আযহার দিন বিশেষ ব্যবস্থাপায় কতিপয় মেইল এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে।

টিকিটধারী যাত্রীদের ভ্রমণের সুবিধার্থে জয়দেবপুর ও বিমানবন্দর স্টেশন থেকে ঢাকাগামী আন্তঃজোনাল আন্তঃনগর ট্রেনে কোনো আসনবিহীন যাত্রী চলাচল করতে পারবেন না।

সুষ্ঠভাবে ও নিরাপদে ট্রেন চলাচলের সুবিধার্থে ট্রেন পরিচালনায় সম্পৃক্ত রেলওয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ২৮ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সকল প্রকার ছুটি বাতিল করা হয়েছে।