আর্থিক সংকট মোকাবেলায় গঠিত হবে ফাইন্যান্সিয়াল কাউন্সিল

নাফরুল হাসান : আর্থিক সংকট মোকাবেলায় ফাইন্যান্সিয়াল কাউন্সিল গঠন করবে সরকার। এ কাউন্সিল সমষ্টিক অর্থনিতিতে স্থিতিশীলতা রক্ষায় বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে সমন্ময় ভূমিকা পালন করবে। সরকারের এই উদ্দ্যোগকে ইতিবাচক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা । তবে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম বন্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে শক্তিশালী করার তাগিত দিয়েছে তারা। একই সাথে দ্বৈত শাসন পরিহারেরও পরামর্শ তাদের।
গত কয়েক বছরে সবচেয়ে বেশি অনিয়ম, দূর্নীতি, লুটপাট ধরা পরেছে ব্যাংকিং খাতে।

বিশেষ করে সোনালী ব্যাংকের হলমার্ক এবং বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চু জালিয়াতির মাধ্যমে হাতিয়ে নেয় হাজার হাজার কোটি টাকা। অনিয়ম ধরা পরেছে অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকও । ব্যাংকিং ক্ষাতে এসব অনিয়ম বন্ধে দীর্ঘদিন ধরে কমিশন গঠনের পরার্মশ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে দেরিতে হলেও তাদের পরামর্শের সাড়া দিয়েছে সরকার। তবে সংকট মোকাবেলায় কমিশনের বিপরীতে উদ্দ্যোগ নেয়া হয়েছে কাউন্সিল গঠনের।

অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে থাকবে আর্থিক খাত সম্পর্কিত নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধানরা। এদের মধ্যে সদস্য হিসেবে থাকছে অর্থমন্ত্রণালয়য়ের সচিব , বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর,বিএসইসির চেয়াম্যান , এনআরএয়ের চেয়ারম্যান, এনবিআরয়ের চেয়ারম্যান। এদিকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে সমন্ময় বাড়বে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

এ সম্পর্কে বিআইবিএময়ের মহাপরিচালক ড.তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘ফাইন্যান্সিয়াল পদ্ধতিতে ব্যাংকিং ক্ষাত ছাড়াও ইন্সুরেন্স , মাইক্র ফাইনেন্স থাকবে এদের মধ্যে যদি সমন্ময়হীনতা থাকে তাহলে তো আর ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি একা করা যাবে না।’

এ ধরনের কাউন্সিলের মাধ্যমে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম দূর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এ জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংককে শক্তিশালী করতে হবে। অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষমতা থাকতে হবে নিয়ন্ত্রক সংস্থার।

এ সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক মাহফুজুর রহমান বলেন, যেকোন নিয়ন্ত্রক সংস্থা শক্তিশালী না হলে সেই সংস্থার কোন কাজে আসে না।’

এদিকে রাষ্ট্রাত্ব ব্যাংক পরিচালনায় দ্বৈত শাসন বন্ধের পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র : যমুনা টিভি