চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদের মৃত্যুবার্ষিকী

জান্নাতুল ফেরদৌসী : চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১১ সালে ‘কাগজের ফুল’ এর লোকেশন দেখে ফেরার সময় মানিকগঞ্জে সড়ক দূর্ঘটনায় মারা যান তারেক মাসুদ, সাংবাদিক মিশুক মুনীরসহ ৫ জন। তার স্মৃতি ধরে রাখতে ফরিদপুরে সংগ্রহসালা করার দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা ।

কিছু মানুষ মৃত্যুর পরও বেঁচে থাকে তার কর্মে। তাদেরই একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ। ফরিদপুরে ভাঙ্গা উপজেলার নূরপুর গ্রামে জন্মেছিলেন তারেক মাসুদ । শিক্ষা জীবন স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় শুরু হলেও স্বাধীনতার পর এসএসসি পাস করেন ভাঙ্গা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে। আর নটরডেম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিকের পর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে।

স্বজনেরা জানিয়েছেন, তারেক মাসুদ চাইতেন চলচ্চিত্রের মধ্যদিয়ে সমাজের বৈষম্যকে তুলে আনতে। সেই স্বপ্নের সহযোদ্ধা হন শ্রী ক্যাটরিন মাসুদ। একে একে নির্মাণ করেন চলচ্চিত্র ‘আদম সুরত, মুক্তির গান, মুক্তির কথা, মাটির মানুষ ও নরসূত্রের অন্তরযাত্রা প্রাণ ।

তারেক মাসুদের মা নুরুন্নাহার মাসুদ বলেন, তারেকের যে স্মৃতি ও স্বপ্নগুলো আছে । সেগুলো দেখতে অনেক লোক এখনো আসে।

তারেক মাসুদের ভাই, সাঈদ মাসুদ বলেন, তার স্মৃতিকে ধরে রাখলে সবাই তাকে মনে রাখবে। তার ভক্তরাও মনে রাখবে।

এখন তার স্মৃতি ধরে রাখতে মিউজিয়াম নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন গ্রামবাসী। তারা বলেন নতুন প্রজন্ম যেন তার স্মৃতিকে ধরে রাখতে পারে তার জন্য এটা বিশেষভাবে দরকার।

কর্মজীবনের স্বীকৃতি হিসেবে ২০১২ সালে তারেক মাসুদ পেয়েছেন একুশে পদক। ২০০২ সালে ফ্রান্সের কান চলচিত্র উৎসবে সেরা সমালোচক হিসেবে পুরষ্কার পায় ‘মাটির ময়না, চলচ্চিত্রটি।

দিনটি উপলক্ষ্যে মানিকগঞ্জ-ঢাকা মহাসড়কে যেখানে দূর্ঘটনাটি ঘটেছিল সেখানে রয়েছে বিভিন্ন কর্মসূচি। এখানে অনেক স্মৃতির ফলক রয়েছে আজ সকাল ১০টায় সকলে সেখানে শ্রদ্ধা জানাবে। এখানে মানব বন্ধন কর্মসূচি রয়েছে সামাজিক, সাংস্কৃতিক কর্মসূচি অংশ নেবে।

সূত্র : একাত্তর টিভি