নামাজ : ব্যক্তিগত শুদ্ধির পরশ পাথর

মাহফুজ আল মাদানী : প্রতিটি মুসলমানই একথা জানেন, দ্বীনে ইসলামে নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান। এটি একটি মহিমান্বিত ইবাদত। দ্বীনের অন্যতম স্তম্ভ এটি। এ সবকিছুর পাশাপাশি নামাজের আরও একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, তা মানুষের ব্যক্তিগত পরিশুদ্ধি ও চারিত্রিক উৎকর্ষ অর্জনে মহৌষধের ভূমিকা রাখে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, আপনার কাছে যে প্রত্যাদেশ পাঠানো হয়েছে তা আপনি তেলাওয়াত করুন আর নামাজ আদায় করুন। নিশ্চয় নামাজ যাবতীয় অশ্লীল ও গর্হিত কার‌্যাবলি থেকে বিরত রাখে। এ আয়াতে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে নামাজের ওই বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে বলা হয়েছে, তা মানুষকে যাবতীয় অসভ্য ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত রেখে চারিত্রিকভাবে সভ্য ও পরিশুদ্ধ করে গড়ে তোলে। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য হাদিসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, নামাজের ভেতর অতিমাত্রার এমন একটি প্রভাবশক্তি রয়েছে, যার প্রতিটি ক্রিয়ায় নামাজির অপরাধ-প্রবণতা ও খারাপ অভ্যাসগুলো ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যায়। তবে শর্ত হচ্ছে, নামাজকে একটি বোঝা মনে করে দায়সারা গোছের মতো আদায় করলে চলবে না; বরং আল কোরআনের ভাষ্যমতে, ইকামাতে সালাত করতে হবে।

ইকামাতে সালাতের শাব্দিক অর্থ সরল-সোজাভাবে নামাজ আদায় করা। তবে এর অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য হচ্ছে, নামাজের বাহ্যিক ও ভেতরগত সব ধরনের আদব ও শিষ্টাচার যথাযথভাবে বজায় রেখে ঠিক সেভাবে নামাজ পড়তে সর্বাত্মক চেষ্টা করা যেভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাজ পড়েছেন। এর জন্য জরুরি হলো, নামাজের প্রাথমিক শর্তাবলি, সুন্নতগুলো ও আদব-কায়দা সঠিকভাবে শিক্ষা করে সেগুলো পূর্ণভাবে পালন করা। দ্বিতীয়ত যতটুকু বিনয়-ভক্তি, একাগ্রতা ও নিবিষ্টতা সৃষ্টি করা মানুষের সাধ্যে কুলায় তার সবটুকু ভেতরে জাগ্রত করে এমন বিগলিত হয়ে নামাজ আদায় করা যেন আল্লাহর কাছে সরাসরি কোনো আবেদন পেশ করা হচ্ছে।