মানবতাবিরোধী অপরাধ
আজহার ও কায়সারের আপিল শুনানি ১০ অক্টোবর

এস এম নুর মোহাম্মদ : মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এটিএম আজহারুল ইসলাম ও জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতা সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারের আপিল শুনানি ১০’ই অক্টোবর ধার্য্য করেছে আপিল বিভাগ। আজ (রোববার) প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সীনহার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বিভাগ আসামিপক্ষের সময় আবেনের প্রেক্ষিতে এ দিন ধার্য্য করেছেন। সেই সাথে ২৪ আগষ্টের মধ্যে আপিলের সার সংক্ষেপ জমা দিতে বলেছে আদালত।

 

এর আগে ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর রংপুর এটিএম আজহারুল ইসলামকে ফাঁসির আদেশ দিয়ে রায় দেন ট্রাইব্যুনাল। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাকে এ সাজা দেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।

এটিএম আজহারুলের বিরুদ্ধে গঠন করা ছয়টি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটি প্রমাণিত হয়েছে বলে ট্রাইব্যুনালের রায়ে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে তিনটি অভিযোগে তাকে ফাঁসির দন্ড দেয়া হয়। একটিতে ২৫ বছর এবং অপরটিতে ৫ বছরের কারাদন্ড দেয়া হয় এ জামায়াত নেতাকে। আর প্রমাণিত না হওয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের আনা ১ নম্বর অভিযোগ থকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়। ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদন্ডের রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি আপিল দায়ের করেন এটিএম আজহারুল ইসলাম। সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় তার আইনজীবীরা এ আপিল দায়ের করেন।

অপরদিকে জাতীয় পার্টির (জাপা) নেতা সাবেক কৃষি প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার খালাস চেয়ে ট্রাইবব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ১৯ জানুয়ারি সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আপিল করা হয়।

২০১৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন আদালত কায়সারকে মৃক্যুদন্ড ঘোষণা করে রায় দেন।

কায়সারের বিরুদ্ধে মোট ১৬টি অভিযোগ আনা হয়, যার মধ্যে ১৪টি ট্রাইব্যুনালের রায়ে প্রমাণিত হয়েছে। এর মধ্যে ৩, ৫, ৬, ৮, ১০, ১২ ও ১৬ নম্বর অভিযোগে তাকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়।

এছাড়া ১, ৯, ১৩ ও ১৪ নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদন্ড ও ২ নম্বর অভিযোগে ১০ বছর, ৭ নম্বরে সাত বছর ও ১১ নম্বরে পাঁচ বছর কারাদন্ড দেয়া হয়। ৪ ও ১৫ নম্বর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এ অভিযোগগুলোতে তাকে খালাস দেয়া হয়।