পাকিস্তান তাদের গ্রহণ করেনি, বাংলাদেশ শুধু পরিচয় পত্র দিয়েছে

আহমেদ সুমন : আব্দুল কায়েম খান। তিনি বিহারী। বর্তমানে সৈয়দপুরে থাকেন। ১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেলে তারা পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসেন। তাদের অধিকাংশরই ইচ্ছে ছিলো পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ার। কিন্তু সে আশা শুধু আশাই রয়ে গেছে। বারবার পাকিস্তান সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েও তারা ব্যর্থ। অতঃপর ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সরকার পরিচয় পত্র করে দিলে পাকিস্তানে যাওয়া আশা ত্যাগ করে বাংলাদেশেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অবশেষে।

বিবিসি বাংলার এক সাক্ষাৎকারে আব্দুল কায়েম খান বলেন, আমার বাড়ি মূলত বিহারে, হিন্দুস্তানে। পাকিস্তান ভাগের পরে আমরা পূর্ব পাকিস্তানে চলে আসি। পাকিস্তান আমাদের দেশ, আর হিন্দুস্তান হিন্দুদের দেশ বলে আমরা এই ভাগে চলে আসি। আজ পর্যন্ত আমরা আর পাকিস্তান যাইনি।

তিনি বলেন, আমাদেরকে ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সরকার পরিচয় পত্র করে দেয়। যাওয়ার কোন পথ নেই। তাই আমরা এখানে থেকে গেলাম। শুধু পরিচয় পত্রই পেয়েছি, আর কিছু পাইনি। আমরা এতে খুশি নয়। যদি চাকরির ব্যবস্থা করা হতো তাহলে আমরা খুশি হতাম। আমাদের সব ছেলেরা বেকার। আমাদের মন ভেঙ্গে গেছে। আমরা বারবার পাকিস্তান যাওয়ার কথা বললেও পাকিস্তান আমাদের কথা একবারও বলেনি। এরজন্য আমরা আর পাকিস্তানের কথা মনেও আনতে চাই না। পাকিস্তানে বোমা বিস্ফোরণ হচ্ছে এখানে সেরকম পরিস্থিতি নেই। বাংলাদেশে অন্তত রোজগার করে খেতে পারছি। আমরা আর কোথাও যেতেও চাই না। সরকার আমাদের চাকরি দিক, আমরা ভালো থাকবো।