চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে আছে ১১৩টি দামি গাড়ি

ডেস্ক রিপোর্ট : বিশ্বের নামীদামি ব্র্যান্ডের পুরোনো গাড়ির নিলামে প্রথমবারের মতো আশাতীত সাড়া পেয়েছে কাস্টমস। গাড়িভেদে সর্বোচ্চ দর পড়েছে পৌনে ৩ লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত। তবে দরপত্র জমা দেওয়ার আড়াই মাসেও গাড়ি বিক্রি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ফলে নিলামে অংশগ্রহণকারী সর্বোচ্চ দরদাতারা হতাশ।

গাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তহীনতার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা কনটেইনারের সংখ্যা কমছে না। বিলাসবহুল এসব গাড়ি ১১৩টি কনটেইনারে পাঁচ-ছয় বছর ধরে পড়ে আছে বন্দর চত্বরে। নিলামে বিক্রি করা গেলে ওই জায়গায় বছরে ৪ হাজারের বেশি কনটেইনার ওঠানো-নামানো সম্ভব হতো।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ মে পর্যটন-সুবিধায় আনা ১১৩টি গাড়ি দ্বিতীয়বারের মতো বিশেষ নিলামে তোলা হয়। এর মধ্যে ল্যান্ড রোভার, মার্সিডিজ, বিএমডব্লিউ, লেক্সাস, মিতসুবিশি জিপসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৯৩টি গাড়ি কেনার জন্য দর দেয় ৪৬৫টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। সর্বোচ্চ দর হিসেবে ৯৩টি গাড়ির দাম ওঠে ২৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। গত জুনে এই সর্বোচ্চ দরের তালিকা প্রকাশ করা হয়।

কাস্টমস কমিশনার এ এফ এম আবদুল্লাহ খান বলেন, নিলাম কমিটিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একজন প্রতিনিধি রয়েছেন। এই প্রতিনিধি উপস্থিত না হওয়ায় কমিটি বৈঠকে বসতে পারছে না। বিষয়টি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে দুদককে জানানো হয়েছে। কমিটি একবার বৈঠকে বসতে পারলে যাচাই করে গাড়ি বিক্রির অনুমোদন প্রদান বা বাতিল করার সিদ্ধান্ত দিতে পারবে।

কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, নিলামে তোলা গাড়িগুলো ২০১১ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে পর্যটন-সুবিধায় যুক্তরাজ্য থেকে বন্দরে আনা হয়। পর্যটন-সুবিধার অপব্যবহারের কারণে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কড়াকড়ি আরোপ করলে আমদানিকারকেরা এসব গাড়ি আর খালাস নেননি। দীর্ঘদিন পড়ে থাকা গাড়িগুলোর মধ্যে গত বছর প্রথমে ৮৫টি একসঙ্গে নিলামে তোলা হয়েছিল। সেবার একটিও বিক্রির অনুমোদন দেয়নি কাস্টমস। প্রথমবার একটি ল্যান্ড রোভার ১ কোটি ১১ লাখ টাকা দর দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হয়েছিল পিএইচপি গ্রুপ। এই দর দিয়েও তারা গাড়িটি পায়নি।

দ্বিতীয়বার ২৪ মে মোট ১১৩টি গাড়ি নিলামে তোলা হয়। এর মধ্যে ৫৬টি গাড়িতে আগের চেয়ে পৌনে ৯ কোটি টাকা বেশি দর পড়েছে। কাস্টমসের নিয়মানুযায়ী, প্রথমবারের নিলামের চেয়ে বেশি দর পাওয়ায় ৫৬টি গাড়ির বিক্রির অনুমোদন দিতে কোনো বাধা নেই।

নিলামে সর্বাধিক ২৬টি গাড়িতে সর্বোচ্চ দরদাতা হয়েছে তাজ ট্রেডিং ও আর অ্যান্ড এইচ সিন্ডিকেট। আর অ্যান্ড এইচ সিন্ডিকেটের কর্ণধার ও তাজ ট্রেডিংয়ের ব্যবস্থাপনা অংশীদার মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ২৬টি গাড়িতে প্রায় ১০ কোটি টাকা দর দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতা হয়েছে তাঁর ২টি প্রতিষ্ঠান। এ জন্য প্রায় ১ কোটি টাকা পে-অর্ডারও জমা দেওয়া হয়েছে, তবে আড়াই মাসেও কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় হতাশ।

নিলামে সাড়ে ২২ লাখ টাকা দর দিয়ে মিতসুবিশি সোগান ব্র্যান্ডের ১টি জিপ গাড়ির সর্বোচ্চ দরদাতা হয়েছে শাহ আমানত ট্রেডিং। প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার সেলিম রেজা বলেন, বিশেষ নিলাম হিসেবে খুব দ্রুত সব প্রক্রিয়া শেষ করা হবে ভেবে তিনি অংশ নেন।

নিলামের দর পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ৯৩টি গাড়ির সর্বোচ্চ দরদাতা হয়েছে ৪০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে ল্যান্ড রোভার ব্র্যান্ডের ১টি গাড়ির সর্বোচ্চ দর পড়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা। একই ব্র্যান্ডের আরেকটি গাড়ির সর্বোচ্চ দর পড়েছে ১ কোটি ৭ লাখ টাকা। আবার সর্বনিম্ন পৌনে ৩ লাখ টাকা দর দিয়ে মার্সিডিজ বেঞ্জ ব্র্যান্ডের ১টি গাড়ির সর্বোচ্চ দরদাতা হয়েছেন একজন।

সর্বোচ্চ দর পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিএমডব্লিউ ব্র্যান্ডের ২৮টি গাড়ির গড় দর পড়েছে ৩৫ লাখ টাকা। মডেল ও বয়সভেদে গাড়ির সর্বনিম্ন দর সাড়ে ৭ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ দর ৬৪ লাখ টাকা। মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ির ১৯টির দর পড়েছে গড়ে সাড়ে ২৫ লাখ টাকা।

মিতসুবিশি জিপ গাড়ির গড় দর পৌনে ১৯ লাখ টাকা করে। এর মধ্যে সর্বনিম্ন ৩ লাখ থেকে সর্বোচ্চ ৫৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা দর পড়েছে। ল্যান্ড রোভার ৫টির গড় দর পড়েছে ৮৪ লাখ টাকা করে। সর্বোচ্চ ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা। সর্বনিম্ন ৫২ লাখ টাকা। প্রথম আলো