বিচার না হওয়ায় উৎসাহিত অনেকে-সাত মাসে শিকার ১১৯ জন
আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে গণধর্ষণ, প্রতিকার কী?

আমাদের সময়.কম
প্রকাশের সময় : 13/08/2017 -0:07
আপডেট সময় : 13/08/ 2017-2:07

শিমুল রহমান : নারীর দেহ ও মনের ওপর এক চরম নির্মমতার নাম ধর্ষণ! দিন দিন বাড়ছে ধর্ষণ নামের নির্মমতা। শুধু নারীই নয়, শিশু-কিশোরও শিকার হচ্ছে বর্বরতার। বাংলাদেশে ধর্ষণের পরিসংখ্যান দেখলে যে কারোরই আঁতকে ওঠার কথা এবং একজন সুস্থ মনের মানুষের ভীষণ কষ্ট পাওয়ার কথা এবং সেটাই হচ্ছে। ধর্ষণ কিংবা গণধর্ষণই শেষ নয়, খুন করা হচ্ছে নৃশংসভাবে। গত কয়েক মাস ধরে যেন ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর খুনের উৎসব চলছে। শিক্ষা ও চাকরিসহ সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা এগিয়ে যাচ্ছে। আগের তুলনায় নারীরা তুলনামূলক বেশি প্রকাশ্যে। এখন সমাজের প্রায় প্রতিটি স্তরে বিরাজ করছে নিরাপত্তাহীনতা। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পরিসংখ্যানও দিচ্ছে অভিন্ন তথ্য। একাধিক সংস্থার হিসাবে গত ছয় বছরের মধ্যে প্রতি বছর গড়ে যতটি করে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে গত ৬ মাসেই তা ছাড়িয়ে গেছে। সে হিসেবে এ ভয়াবহ অপরাধ এখন দ্বিগুণহারে বাড়ছে। অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক বিচার না হওয়া, পুলিশে ধরলেও জামিন পাওয়া এবং ধর্ষকদের উপযুক্ত চিকিৎসা না হওয়ায় ধর্ষণের ঘটনায় নিরুৎসাহিত না হয়ে অনেকে উৎসাহিত হচ্ছে।

আমরা যারা এই সমাজিক অনাচার, সহিংতার বিরুদ্ধে কথা বলি, লিখি বা ভাবি, তারা সবাই ভীষণ বিষণ্ণ, ক্ষুব্ধ। তারপর আবার যখন এই ধর্ষকদের পক্ষে ক্ষমতাশালীরা দাঁড়ায় তখন মনের যন্ত্রণা কত তীব্র হয়, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশেষ করে নারীদের যন্ত্রণা মাপার সাধ্য আমাদের নেই, মনে হয় পৃথিবীর কোনো পুরুষেরই নেই। কারণ নারীই এই সহিংসতার শিকার। আর এ ঘটনা যখন নিয়মিতভাবে ঘটেই চলছে তখন নারীর চলার পথ স্বভাবতই ভরে যাচ্ছে ধর্ষকের কাঁটায়।

এভাবে প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে নারী। বাদ যাচ্ছে না ১৮ বছরের কম বয়সী কন্যা শিশুও। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে তিন বা চার বছরের দুধের শিশুও শিকার হচ্ছে এই বিকৃত যৌনতার। এতেই থামছে না ধর্ষক। ধর্ষণের পর ধর্ষিতাকে খুনও করা হচ্ছে। কিন্তু সমাজে ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর লোকলজ্জায় এসব ঘটনার সিংহভাগই প্রকাশ করছে না ভিকটিম। সামাজিক অসম্মানের ভয়ে তা লুকিয়ে যাচ্ছে তাদের পরিবার। দীর্ঘ মেয়াদে হেনস্থার ভয়ে করছে না মামলা। বরং জানাজানি হওয়ার ভয়ে নারীর উপর এসব ঘটনায় ভিকটিম ও পরিবার এমনভাবে চেপে যাচ্ছে যেন কিছুই ঘটেনি। তারপরও ছিটেফোঁটা যে ক’টি ঘটনা প্রকাশ পাচ্ছে তাতেই এখন আঁতকে উঠার মতো পরিস্থিতি। এতেই সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের হিসাবে চলতি বছর দ্বিগুণহারে বাড়ছে ধর্ষণের ঘটনা। এই চিত্র যেমন রাজধানী শহর ঢাকায়। তেমনি সারা দেশের। এর মধ্যে কিছু কিছু ধর্ষণের নির্মমতা হতবাক করে দিচ্ছে সবাইকে।

বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার প্রতিবেদন এবং পুলিশের তথ্যে তার প্রমাণ মিলছে৷ বিশ্লেষকরা বলছেন এর জন্য আইনের প্রয়োগে ঢিলেমি এবং সামাজিক অবস্থা কাজ করছে৷ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) সারা দেশ থেকে গড়ে প্রতিদিনই গড়ে চার-পাঁচজন নারী ধর্ষণের শিকার হয়ে চিকিত্‍সা নিতে আসছেন৷ আর প্রতিমাসে দেড় থেকে দুই শতাধিক ধর্ষিতাকে চিকিত্‍সা দিচ্ছেন তারা৷ এই হিসাব হচ্ছে যারা ওসিসিতে চিকিত্‍সা নিতে আসেন তাদের৷ এছাড়া দেশের অন্যান্য হাসপাতাল এবং চিকিত্‍সা কেন্দ্রে যারা চিকিত্‍সা নেন তাদের হিসাব নেই ওসিসি’র কাছে৷ চিকিত্‍সার বাইরে যারা থাকেন, ‘সামাজিক লজ্জায়’ যারা ঘটনা প্রকাশ করেন না তাদের হিসাব পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই৷ ওসিসি’র মতে সাধারণত এর শিকার ১৮-১৯ বছর বয়সি মেয়েরা৷

মাজারে ঘুরে ঘুরে গান গেয়ে বেড়ান এক বাউলশিল্পী। মাসখানেক আগে তার সঙ্গে পরিচয় হয় আরেক নারী শিল্পীর। এই সূত্রে বুধবার রাতে সাভারের আশুলিয়ার আউকপাড়ায় একটি অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার ডাক পান তিনি। ওই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ থেকে আশুলিয়ায় আসেন ওই শিল্পী। পূর্বপরিচিত শিল্পীর দেওয়া ঠিকানায় যাওয়ার পর তাকে একটি ঘরে আটকে রেখে কয়েকজন ধর্ষণ করেন। এটা শুধু একটা ঘটনা নয়, প্রতিদিনই ঘটে চলেছে এরকম ঘটনা। গত বুধবার রাজধানীর উত্তরখানে এক কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে।

রাত ৮টার দিকে ওই কিশোরী কালীগঞ্জ বোনের বাড়ি থেকে উত্তরখানের নিজ বাসায় ফিরছিলেন। তখন তার পূর্বপরিচিত অপু নামে একজন ফোন করে তাকে একটি মার্কেটের সামনে আসতে বলেন। ওই কিশোরী মার্কেটের সামনে গেলে অপু কয়েকজনের যোগসাজশে পাশের নির্মাণাধীন একটি ভবনে নিয়ে যায়। পরে এরা সবাই মিলে রাত ৯টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে। তারপর মেয়েটি রাস্তায় এসে চিৎকার করলে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ১১৯টি। জানুয়ারিতে ১৪টি, ফেব্রুয়ারিতে ১৩টি, মার্চে ১৪টি, এপ্রিলে ১৪টি, মে মাসে ২৫টি, জুন মাসে ২৪টি এবং জুলাই মাসে ১৫টি গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। গণধর্ষণ তো আছেই, এর সঙ্গে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ধর্ষণের ঘটনাও।

মাসখানেক আগে গাজীপুর-শ্রীপুরের ছিটপাড়া গ্রামে এক প্রভাবশালীর ছেলের হাতে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয় ৭ বছরের শিশু আয়েশা আক্তার। ঘটনার বিচার চাইতে শিশুটির বাবা হযরত আলী গিয়েছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্যের কাছে। বিচার পাননি। অভিযোগ জানিয়েছিলেন শ্রীপুর থানায়। সেখান থেকেও ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ আখ্যা দিয়ে ভুক্তভোগী মেয়েসহ তাকে তাড়িয়ে দেয় পুলিশ। তাদের কোনো অভিযোগই আমলে নেয়নি প্রশাসন কিংবা সমাজপতিরা। উল্টো ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন তারা। অগত্যা কোথাও মেয়ের নির্যাতনের বিচার না পেয়ে গত ২৯ এপ্রিল শিশু আয়েশাকে নিয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে মারা যান বাবা-মেয়ে।

বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক সালমা আলী বলেন, ধর্ষণের অধিকাংশ ঘটনাই চাপা পড়ে যায়। বিশেষ করে শহরের বস্তি অঞ্চলগুলোতে অবস্থা খুবই খারাপ। রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশকে প্রভাবিত করে ধর্ষকেরা ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে। আর তাদের বিচার নিশ্চিত না হওয়ায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও সামাজিক হয়রানির ভয়ে ধর্ষণের শিকার নারী ও তাঁদের স্বজনেরা কোনো আইনি পদক্ষেপ নিতে চাইছেন না।
২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর দিল্লিতে এক ছাত্রীকে চলন্ত বাসে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা গোটা ভারতকেই নাড়িয়ে দেয়। এর কিছুদিন পরই ২০১৩ সালের ২৪ জানুয়ারি ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে (মানিকগঞ্জ এলাকায়) চলন্ত বাসে এক পোশাককর্মীকে ধর্ষণ করে দুই বাসকর্মী।

নোরোগ বিশেষজ্ঞ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. সালাউদ্দিন কাওসার বিপ্লব বলেন, যে যৌনাচার জোরপূর্বক করা হয় সেটাকে বলে ধর্ষণ। এটা অনেকটা অপরাধীর সুযোগ প্রাপ্তির ওপর নির্ভর করে। এর মানে, আগের চেয়ে সুযোগ বেশি পাচ্ছে অপরাধীরা। এর কারণের মধ্যে আছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ফেসবুক, ইন্টারনেট, যৌনাচার নিয়ে অবাধ আলোচনা, খুব সহজে এ ধরনের আচরণ মেনে নেয়ার প্রবণতা। ইন্টারনেটে পর্নোগ্রাফির কারণে মানুষ অনেক বেশি ‘স্টিমুলেটেড’ (উত্তেজিত) থাকে। সমাজ আগে অনেক বেশি রক্ষণশীল ছিল। হঠাৎ করে একটি শ্রেণী তৈরি হয়ে গেছে, যারা উৎসাহী হয়ে গেছে। তারা পারিবারিক, সামাজিক, ধর্মীয় কোনো রক্ষণশীলতা মানতে রাজি নন। একদিকে যৌন আচরণের বিষয়গুলো বেশি দেখা এবং এর থেকে স্টিমুলেশন (উত্তেজনা) অপরাধের ক্ষেত্র তৈরি করে। ছেলেমেয়েরা বিশেষ করে মেয়েদের ‘এক্সপোজেশন’ (প্রকাশ) বেড়ে যাওয়ায় অপরাধীরা এটাকে সুযোগ হিসেবে নিচ্ছে। তিনি বলেন, বিজ্ঞানের কথা হচ্ছে- যে কোনো আনঅথেনটিক (অসমর্থিত) কাজ বেশি হওয়ার কারণ হচ্ছে সহজলভ্যতা। নেশা বেশি গ্রহণ করে যখন নেশাজাতীয় দ্রব্য বেশি পাওয়া যায়। সভ্যতা তৈরি হয়েছে এসব অপরাধ থেকে মানুষকে সুরক্ষার জন্য। তিনি বলেন, ধর্ষণ প্রতিরোধে কয়েকটি কাজ করা যায়। তার মধ্যে স্কুলে-পরিবারে, সমাজে মৌলিক মূল্যবোধ চর্চা ও পারিবারিক প্রথা-রক্ষণশীলতা বাড়াতে হবে। সবক্ষেত্রে নারী ও কন্যা শিশুর নিরাপত্তা বাড়াতে হবে। ইন্টারনেটে যেসব সাইট মানুষকে বিপথে নেয়, তা নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। সচেতনতা, শিক্ষা ইত্যাদি বাড়াতে হবে।

এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত এই সাত মাসে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৫২৬টি। এর মধ্যে জুলাই মাসেই ঘটেছে ৯৭টি ধর্ষণের ঘটনা। আর ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৪১ জনকে। গত বছরের ১ এপ্রিল লক্ষ্মীপুরে দুই বোনকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণ করা হয়। বাড়ির উঠোন থেকে মুখ বেঁধে তুলে নিয়ে তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ বাজারের পাশে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে দুই বোনকে গণধর্ষণ করে দুর্বৃত্তরা।

প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাদের এই ঘটনার শিকার হতে হয়। এ ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জিনাত হুদা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আকাশ সংস্কৃতির কারণে উগ্র পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব তৈরি হচ্ছে। আর এসব সিরিয়ালে কখনো স্বাভাবিক পারিবারিক পরিবেশ কিংবা আদর্শগত ভিত্তি থাকে না। সমাজের নিম্নবিত্ত থেকে উচ্চবিত্ত পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে এই নোংরা মনোভাব। ধর্ষণের ঘটনা কেন ঘটছে এর কারণ অনুসন্ধান করতে গবেষণা প্রয়োজন। এর পাশাপাশি এসব ঘটনার উৎসমুখ খুঁজে বের করতে হবে ও প্রয়োজনে কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রথম আলো, যুগান্তর, বাংলাদেশ প্রতিদিন, ডিইডব্লিউ.ডিই,বিডিনিউজ

এক্সক্লুসিভ নিউজ

২ লাখ রোহিঙ্গা’র খাদ্য, আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা ও স্যানিটেশনে সহযোগিতা করবে তুরস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক : তুরস্ক সরকার বাংলাদেশে আশ্রিত ২ লাখ রোহিঙ্গার... বিস্তারিত

বিনামূল্যে দেয়া হবে ২০ লাখ ইন্টারনেট সিম

ডেস্ক রিপোর্ট : সারাদেশে বিনামূল্যে টেলিটকের ২০ লাখ সিম বিতরণ... বিস্তারিত

গলায় পাথর বাঁধা মেয়েটিকে একটি কুয়ায় পাওয়া গিয়েছিল..

আলী মোহ্ম্মদ ঢালী : দক্ষিণ আমেরিকার দেশ হন্ডুরাসের এক এতিম... বিস্তারিত

ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে এক বছর সময় চাইলেন এলজিআরডি মন্ত্রী

জান্নাতুল ফেরদৌসী: ঢাকার জলাবদ্ধতার স্থায়ী কোনো সমাধান সম্ভব নয়। তবে... বিস্তারিত

রাত ৮টায় খালেদা জিয়া ও সুষমা স্বরাজের বৈঠক

মাঈন উদ্দিন আরিফ : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার... বিস্তারিত





আজকের আরো সর্বশেষ সংবাদ

Privacy Policy

credit amadershomoy
Chief Editor : Nayeemul Islam Khan, Editor : Nasima Khan Monty
Executive Editor : Rashid Riaz,
Office : 19/3 Bir Uttam Kazi Nuruzzaman Road.
West Panthapath (East side of Square Hospital), Dhaka-1205, Bangladesh.
Phone : 09617175101,9128391 (Advertisement ):01713067929,01712158807
Email : [email protected], [email protected]
Send any Assignment at this address : [email protected]