টাঙ্গুয়ার হাওরের তলদেশে প্রথমবারের মতো গবেষণা

জান্নাতুল ফেরদৌসী : মাছের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রায় ৫০ প্রজাতির দেশী মাছ বিপন্ন হয়ে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা গবেষকদের । এ কারণে মাছের এই হাওরে জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় নেওয়া হয়েছে নতুন উদ্যোগ। এরই অংশ হিসেবে মাছের হাওরের তলদেশে চালানো হয়েছে অনুসন্ধান।

টাঙ্গুয়ার হাওরে উপরিভাগ নিয়ে গবেষণা হলেও তলদেশে অনুসন্ধান এই প্রথম। প্রাথমিক গবেষণার প্রথম ধাপে হাওরে আলনদোয়া নামক স্থানটিকে বেছে নেন গবেষকরা, যেটি কে চিতল মাছের অভয়ারণ্য ও প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শুধু তাই নয় শামুক, ঝিনুক, কাছিম, সরিসৃপসহ অজ¯্র লতাপাতায় ভরপুর এই অংশ। নানা প্রজাতি মাছেরও দেখা মিলে এখানে। যার নমুনা নেয়া হয়েছে বিস্তারিত গবেষণার জন্য।

গবেষকরা বলছে, তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে হাওরের তলদেশ এখন আর ভালো নেই। কেননা যে উদ্ভিদ গুলো থাকার কথা সেগুলো আগের মতো যথেষ্ট পরিমানে আর নেই। যে কারণে নষ্ট হচ্ছে মাছের আবাস ও খাবার।

ইসাবেলা ফাউন্ডেশন,পানির তলদেশ অনুসন্ধানকারী এস এম আতিক রহমান বলেন, যে ক্লেসেটিমেট এটা প্রায় ৩ ফিটের মতো প্যানিটেশন হয় এটা অস্থায়ী একটা বস্তু । বেশ কিছু ফরেন ম্যাটারিয়ালস আবর্জনা সেখানে ছিল।

গবেষকরা বলছেন, অতিরিক্ত পলি জমে টাঙ্গুয়ার গভীরতা কমছে। আধিক্য বাড়ছে ঢোল কলমির মতো লতাপাতা যা পঁচে পানিতে বিষাক্ত গ্যাস তৈরি করছে।

ইসাবেলা ফাউন্ডেশন, প্রধান গবেষক ড. আনিসুজ্জামান খান বলেন, এখানে অনেক প্রজাতি মাছের প্রজনন ক্ষেত্র ও বিচরণ ক্ষেত্র। অন্যান্য জায়গায় মাছ হারিয়ে গেলেও টাঙ্গুয়ার হাওরে বিশেষ করে স্থানীয় মাছের যে প্রজাতি বৈচিত্র্য বা উৎপাদন সংখ্যা অনেকটা বহাল আছে।

গবেষণায় পাওয়ার তথ্য থেকে হাওর রক্ষায় দীর্ঘ মেয়াদী কর্মপরিকল্পনার কথা জানালেন সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

মহাপরিচালক (প্রশাসন), প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় কবির বিন আনোয়ার বলেন, এখানে মা চিতল মাছগুলো থাকে এবং পোনা প্রজনন করে থাকে। এটাকে আমাদের রক্ষা করা দরকার। এটাকে সেঞ্চুরি ফিসাস হিসেবে ইতিমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে ।

টাঙ্গুয়ায় জীব ও বৈচিত্রের জন্য সহায়ক প্রাকৃতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দিচ্ছেন গবেষকরা। কেননা বিলীন হওয়ার পথে এখানকার ৫৫ প্রজাতির মাছ।

সূত্র : ইন্ডিপেনডেন্ট টিভি