ঘুষসহ গ্রেপ্তার, নৌমন্ত্রীতে রক্ষা
প্রধান প্রকৌশলী ফখরুলকে বরখাস্ত করলে কাজ চলবে কীভাবে?

মুমিন আহমেদ : ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেনাতে আটক হওয়ার আগে গত বছর দুর্নীতির অভিযোগে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ও শিপ সার্ভেয়ার এ কে এম ফখরুল ইসলাম তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও সুপারিশ ছিল। কারণ নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান তখন প্রধান প্রকৌশলীর পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির গতকাল বৃহস্পতিবারের বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

কার্যবিবরণীতে দেখা যায়, গত ২০ জুলাইয়ের বৈঠকে ‘ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে নৌ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী গ্রেপ্তার’ শীর্ষক সংবাদের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম। সভাপতি বলেন, গত বছরের ১১ আগস্ট কমিটির বৈঠকে সাংসদ এম আবদুল লতিফ বলেছিলেন, দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নৌ প্রকৌশলীকে অপসারণ বা ওএসডি করে তদন্ত করার কথা, সেটিও হয়নি। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণ জানতে চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ওই বৈঠকে মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছিলেন, ‘প্রায় ১০ হাজার জাহাজ সার্ভে করার জন্য সার্ভেয়ার আছে মাত্র চারজন। এখান থেকে আবার যদি বরখাস্ত করা হয় তাহলে সার্ভে কার্যক্রম কে পরিচালনা করবে?’

কমিটির সভাপতি ওই বৈঠকে বলেন, সেদিন ফখরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে এখনকার পরিস্থিতি তৈরি হতো না, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সুনাম এভাবে ক্ষুণ্ন হতো না।

এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। সংসদীয় কমিটির একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মন্ত্রী তখন যুক্তি দিয়েছিলেন, ফখরুলকে বরখাস্ত করলে কাজ চলবে কীভাবে? তিনি বলেন, মন্ত্রীর কারণেই তখন ফখরুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি।

গত ১৮ জুলাই নিজ কার্যালয়ে বসে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেনাতে দুদকের হাতে গ্রেপ্তার হন এ কে এম ফখরুল ইসলাম। পরে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য যন্ত্রপাতি কেনার সুপারিশ

চট্টগ্রাম বন্দরের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য জেটি ও টার্মিনাল নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে। বন্দরের বাস্তব অবস্থা তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলন করার জন্যও মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করা হয়েছে।

গতকাল সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়।

জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে জেটি বাড়ানো ও নির্মাণের ওপর কমিটি জোর দিয়েছে। যেসব যন্ত্র খুব প্রয়োজনীয়, সেগুলো দ্রুত ক্রয় করতে বলেছে কমিটি।

গতকালের বৈঠকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে (চবক) ডাকা হয়। সেখানে চবক তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেছে, ঈদের ছুটি, ঘূর্ণিঝড় মোরা ও অতিবৃষ্টির কারণে বন্দরে জট তৈরি হয়েছিল। তারা জট কাটাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।

গতকালের বৈঠকে নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, সাংসদ তালুকদার আবদুল খালেক, মো. আবদুল হাই, মো. হাবিবর রহমান, এম আবদুল লতিফ, রণজিৎ কুমার রায়, মো. আনোয়ারুল আজীম ও মমতাজ বেগম উপস্থিত ছিলেন।

 

প্রথম আলো থেকে নেয়া