শাহজালালে বার বার সর্টসার্কিট
গাফিলতি থাকলেও তদন্ত কমিটিতে ইএম বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী!

আমাদের সময়.কম
প্রকাশের সময় : 12/08/2017 -12:19
আপডেট সময় : 12/08/ 2017-12:19

এইচএম দেলোয়ার : হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বার বার সর্টসার্কিট দেখা দিচ্ছে বলে গোয়েন্দা সূত্র জানতে পেরেছে।

সিভিল এভিয়েশনের ইএম ( ইলেকট্রিক এন্ড মেকানিক্যাল বিভাগ) বিভাগের শাহজালালে কর্মরত একজন নির্বাহী প্রকৌশলী, একজন সহকারি প্রকৌশলী এবং ১ জন উপসহকারি প্রকৌশলী ও তিন শিফটের ৬ জন টেকনিশিয়ানের গাফিলতির থাকলেও তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হচ্ছে না।

গত শুক্রবার বিমানবন্দরের অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ইএম বিভাগের কোন প্রকৌশলীকেই বিমানবন্দরে খুঁজে পায়নি উর্ধতন কর্তৃপক্ষ। অথচ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জরুরি মিটিং শেষে গঠিত তদন্ত কমিটিতে ইএম বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকেই তদন্ত কমিটিতে রাখা হয়েছে।

ফ্লাকব্যাক আগুন :  মূল টার্মিনাল ভবনের তিনতলায় এয়ার ইন্ডিয়ান ( ইন্ডিয়ার সরকারি এয়ার লাইন্স )  অফিসে গত শুক্রবার ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে মূহুর্তে পুরো বিমানবন্দর ছড়িয়ে পড়ে। দমকল বাহিনীর ১০টি ইউনিট প্রায় দুই ঘন্টা চেষ্টার পর বিকেল তিনটায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমান প্রায় কোটি টাকা বলে বিমানবন্দর কর্তৃৃপক্ষ আশংকা করছেন।  ফায়ার সার্ভিসের তিন সদস্য বিশিষ্ট গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনার তদন্ত করছে । সিভিল এভিয়েশন কর্র্তৃপক্ষও ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এরমধ্যে দুটি বড় গোয়েন্দা সংস্থার দুই সদস্যকে রাখা হয়েছে।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার জুমার নামাজের সময় দুপুর পৌনে দুটায় বিমানবন্দর মূল টার্মিনাল ভবনের তিনতলায়  এয়ার ইন্ডিয়ান অফিস থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মূহুর্তের মধ্যে পুরো টার্মিনাল ভবনের (টার্মিনাল-২ এবং টার্মিনাল-১) আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে। ধোয়ার কুন্ডলি টার্মিনাল ভবন ছেদ করে বাইরে বের হয়ে আসে। এ সময় আন্তর্জতিক আগমনি ও বহির্গন যাত্রি এবং দর্শনার্থিরা অজানা আতংকে দিকবিদিক ছুটাছুটি করতে থাকেন। বিমান উড্ডয়ন ও অবতরনসহ বিমানবন্দরের সমস্ত অপারেশনমুলক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে। খবর পেয়ে উত্তরার ফায়ার সার্ভিসের ১০ টি ইউনিট আগুন নিয়তন্ত্রে কাজ করতে থাকে। বিমানের প্রশাসনিক ভবনের পুকুরে ফায়ার সার্ভিসের পানি সেচনের মেশিন বসিয়ে বিমানবন্দরের ভিতরে আগুনের উৎপত্তিস্থলে পানি ছিটানোর কাজ চলতে থাকে। প্রায় তিনঘন্টা পর আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনার সময় বিমানবন্দরে ‘ইয়েলো এলাটর্’ জারি করা হয়। ভিতরে কর্মরত সমস্ত জনবল একএক করে বের হয়ে আসেন। এ সময় পুরো বিমানবন্দর এক ভুতুরে অবস্থায় পরিনত হয়। ঘটনার সময় বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রæপ ক্যাপ্টেন কাজি ইকবাল করিম এবং প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা রাশিদা সুলতানাকে ওয়াকিটকিতে ম্যানেজ দেয়া হলেও তারা কেউই সময়মতো উপস্থিত হয়ে দিকনির্দেশনা দেননি। আগুন লাগার প্রায় একঘন্টা পর প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা রাশিদা সুলতানা বিমানবন্দরে আসেন।

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যেখান থেকে আগুনের সূত্রপাত সেই এয়ার ইন্ডিয়ান অফিসে কর্মরত দুই  কর্মকর্তা অফিসে বসে সিগারেট খেয়ে থাকেন। সিগারেটের আগুন থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত কিনা তা তদন্ত সংস্থা খতিয়ে দেখছে। ফায়ার সার্ভিস প্রাথমিকভাবে ধারনা করছে বৈদ্যুতিক সর্টসার্কিট থেকেও আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। প্রায় ৫ ঘন্টা পর বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল শুরু করে বলে জানা গেছে। ৫টার সময়ের নির্ধারিত হজ¦ ফ্লাইট সন্ধা ৬ টায় শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। এ ছাড়া বাংলাদেশ বিমানসহ বিভিন্ন এয়ার লাইন্সের মোট ১৮টি ফ্লাইট সিডিউল লন্ডভন্ড হয়ে পড়ে।

বার বার সর্টসার্কিট : হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে দিনেরাতে বার বার বৈদ্যুতিক সর্টসার্কিট ঘটছে বলে ষূত্রে জানা গেছে। গত শুক্রবার মধ্যরাতেও বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিটের ঘটনা ঘটেছে বলে বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে। গত শুক্রবার  মধ্য দুপুরে বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিটে ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটল বলে তদন্ত সংস্থা ধারনা করছে। প্রশ্ন ওঠেছে সিভিল এভিয়েশনের ইএম বিভাগের একজন নির্বাহী প্রকৌশলীর নেতৃত্বে একজন সহকারি প্রকৌশলী ও একজন উপসহকারি প্রকৌশলীসহ ৬ জন বৈদ্যুতিক টেকনিশিয়ান ২৪ ঘন্টা বিমানবন্দরের অপারেশনমুলক কাজের স্বার্থে নির্বিঘœ বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ডিউটিরত থাকার কথা। কিন্ত ইএম বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের কাজের গাফিলতির জন্য বিমানবন্দরে বৈদ্যুতিক সর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হচ্ছে বলে সূত্র জানায়। কিন্ত সিভিল এভিয়েশনের ইএম বিভাগকে এজন্য জবাবদিহিতার আওতায় আনা হচ্ছে না বলেও সূত্র জানায়।

এ ব্যাপারে ইএম বিভাগের তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল মালেকের সেল ফোনে বার বার কল করেও  বন্ধ থাকায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

শাহজালাল বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রæপ ক্যাপ্টেন কাজি ইকবাল করিমের সেল ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেনি।

এ ব্যাপারে উপ-পরিচালক মোশাররফ হোসেন জানান, বিমানবন্দরে জরুরি মিটিং শেষে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সিএসও‘র সাফাই : শাহজালাল বিমানবন্দরে কর্মরত বিতর্কিত নারি প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা রাশিদা সুলতানাকে বিমানবন্দরে আগুন লাগার সাথে সাথে ওয়াকিটকিতে ম্যানেজ দেওয়া হলেও তিনি ঘটনা ঘটার প্রায় পৌনে একঘন্টা পর ঘটনাস্থলে আসেন। কিন্ত তিনি গণ মাধ্যমে জাহির করেছেন যে, তিনি ঘটনার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তিনি আরো বলেন যে, বিমানবন্দরে অগ্নিকান্ডের সময়ও এরাইভ্যাল কার্যক্রম চলছিল। অথচ বিমানবন্দরের বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে যে, বিমানবন্দরে আগুন লাগার পর পরই সমস্ত অপারেশনমুলক কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

এক্সক্লুসিভ নিউজ

যিশু নয়, রক্ষাকর্তা শি জিনপিং, মত চীনা খ্রিস্টানদের

মরিয়ম চম্পা : ঈসা মসিহ নয়, আপনার রক্ষাকর্তা শি জিনপিং... বিস্তারিত

নাগরিক সমাবেশ
সোহরাওয়ার্দীতে বাড়ছে নেতাকর্মীদের ভিড়

সজিব খান: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ... বিস্তারিত

কাশ্মীর উপত্যকায় নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত ৬জঙ্গি

আশিস গুপ্ত ,নয়াদিল্লি : কাশ্মীর উপত্যকায় জড়ো হয়ে নাশকতা করার... বিস্তারিত

কেউ যেন ইতিহাস বিকৃতির সুযোগ না পায়, অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর

সারোয়ার জাহান : মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি হওয়ার পরেও বাংলাদেশের মানুষ... বিস্তারিত

এখানে দাঁড়িয়ে আমার সেই দিনটির কথা মনে পড়ে: প্রধানমন্ত্রী

সারোয়ার জাহান : আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,... বিস্তারিত





আজকের আরো সর্বশেষ সংবাদ

Privacy Policy

credit amadershomoy
Chief Editor : Nayeemul Islam Khan, Editor : Nasima Khan Monty
Executive Editor : Rashid Riaz,
Office : 19/3 Bir Uttam Kazi Nuruzzaman Road.
West Panthapath (East side of Square Hospital), Dhaka-1205, Bangladesh.
Phone : 09617175101,9128391 (Advertisement ):01713067929,01712158807
Email : editor@amadershomoy.com, news@amadershomoy.com
Send any Assignment at this address : assignment@amadershomoy.com