এটর্নি জেনারেলের যুক্তি খ-নের কারণে রায়ে রাজনৈতিক বক্তব্য এসেছে : এডভোকেট মনজিল মোরসেদ

মোহাম্মদ আবদুল অদুদ : সম্প্রতি সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে রায় ঘোষণা দেন। রায় নিয়ে দেশে-বিদেশে, পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ রায়ে কিছুটা অসন্তুষ্ট হলেও বিএনপি স্বাগত জানিয়েছে। রায়ে সামরিক সরকারকে ব্যানানা রিপাবলিক বলা হয়েছে। কারণ, স্বাধীনতার মূল দৃষ্টিভঙ্গিটাই ছিল গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হঠাৎ করে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে সামরিক শাসন চালু হলো। আপনারা জানেন যে, সামরিক শাসনের সময় দেশের সংবিধান ও আইন কানুনের প্রয়োগ থাকে না। সামরিক শাসকেরা যে আইন তৈরি করে, সেটাই বাস্তবায়িত করেন। যদি দীর্ঘকাল পর্যন্ত মানুষ আইনের শাসনের বাইরে থাকে, সেটি আইনের শাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। এই যে ক্ষতটা, সেটা পূরণ করতে অনেক সময় লাগেÑ আমাদের অর্থনীতির সঙ্গে আলাপকালে এমন মন্তব্য করেন সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল চেয়ে রীট আবেদনকারী ও হিউম্যান রাইটস এন্ড পীস ফর বাংলাদেশ’র সভাপতি এডভোকেট মনজিল মোরসেদ।
তিনি বলেন, যারা আইন-কানুন ও সংবিধান জানেন, যারা শিক্ষিত, সুশীলসমাজের প্রতিনিধি সবাই ইতিমধ্যে বুঝতে পেরেছেন যে, সংসদ যে আইন পাস করল, সেই আইনটা যখনই যার পক্ষে যায়, তখনই আইনটা ঠিক থাকে। তবে আদালতের প্রতি অসম্মান হয় বা আদালত অবমাননা হয় এমন কোনো বক্তব্য দেওয়া ঠিক নয়। সংসদে যারা থাকেন তারাও জানেন এবং বিচারবিভাগে যারা থাকেন তারাও জানেন, কার কর্তৃত্ব কতটুকু।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কোনো কোনো নেতার বক্তব্য রাজনৈতিক। প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দলই যেকোনো ঘটনার প্রেক্ষিতে আদালতের রায় নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে চায়। এটি ঠিক নয়। আদালতের রায় নিয়ে অনেকে কথা বলেন, কিন্তু আদালতের রায় নিয়ে মন্তব্য করা আদালতকে অপমান করার শামিল।
মামলা যখন আদালতে আসবে, সেখানে বিচার করতে হবে। সরকারের পক্ষে কিন্তু বহু রায় আছে, তাই না? প্রধান বিচারপতির ৮০ ভাগ রায় তো সরকারের পক্ষে। কেউ যদি বলতে চান, তিনি সরকারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, অন্য কেউ উল্টো যদি বলেন, ৮০ ভাগ রায় যদি সরকারের পক্ষে হয় আর ২০ ভাগ রায় যদি সরকারের বিপক্ষে হয়, তাতে সরকারের বিপক্ষে তার অবস্থান কিভাবে বোঝা যায়? ষোড়শ সংশোধনীর রায় অত্যন্ত স্বাভাবিক, যাকে অন্যভাবে ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই। কোনো রায় যখন সামনে আসে তখন সেটা দিতে হয়। রায়টা দিতে গেলে কারও পক্ষে বা কারও বিপক্ষে যাবে। পক্ষে না বিপক্ষে গেল এ নিয়ে কারও অবস্থান নির্ণয় করা যায় না। বিচারক হিসেবে তিনি যেটা সঠিক মনে করবেন সেটাই রায় দিবেন। রায়ের উপর এখন রিভিউ হতে পারে।

তিনি বলেন, রায়ে রাজনৈতিক কথাগুলো এসেছে এটর্নি জেনারেল এর কাছ থেকে। এটর্নি জেনারেল মামলার শুনানিতে কয়েকটি রাজনৈতিক কথা বলে যুক্তি দিয়েছেন। আমরাও আমাদের কথা বলেছি। আপনি জানেন যে, রায় যখন দেওয়া হয়, তখন প্রত্যেকটি যুক্তি খ-ন করে রায় দিতে হয়। খ-ন করতে গেলে বিচারকদের মতামত নিতে হয়, কে কী চিন্তা করছেন। সে কারণেই আমি মনে করি, এটর্নি জেনারেলের কাউন্টার বক্তব্য দিতে গিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্যগুলো এসেছে। তবে এই রায়কে সকলের ইতিবাচকভাবে নেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।