১৬ কর্মকর্তার পদোন্নতি কেন্দ্র করে অশান্ত বিএসএমএমইউ

রিকু আমির : ১৬ কর্মকর্তার পদোন্নতি কেন্দ্র করে কিছুটা অশান্ত হয়ে উঠেছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)-এর পরিবেশ। অভিযোগ উঠেছেÑ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান সমর্থিত সিন্ডিকেট সদস্যরা ভিসি বিরোধী সিন্ডিকেট সদস্যদের না জানিয়ে ও মতামত গ্রহণ না করে নিজেদের পছন্দে পদোন্নতির জন্য ১৬ কর্মকর্তাকে বাছাই করেছেন। যাদের কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাকরিতে নৈতিকতা স্খলন, আর্থিক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগের পাশপাশি শিক্ষাগত যোগ্যতায় সীমাবদ্ধতা আছে। এছাড়াও যোগ্যদের বাদ দেওয়া হয়েছে।
৩১ জুলাই বিএসএমএমইউতে সিন্ডিকেট সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় পদোন্নতির জন্য প্রস্তাবিত ১৬ জনের নাম পাঠ করে শোনান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ।
ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, ১৬ জনের নাম পাঠের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. এএসএম জাকারিয়া স্বপন, প্রো-ভিসি (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. শহীদুল্লাহ সিকদার এবং নিউরো সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া ওই প্রস্তাবে তীব্র আপত্তি জানান। তারা উচ্চস্বরে যুক্তি দেখানÑ নিয়ম অনুযায়ী, সিন্ডিকেটে যে যে এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা করা হবে, তা সিন্ডিকেট মিটিং অনুষ্ঠিত হবার অন্তত ৭ দিন আগে সিন্ডিকেটের সব সদস্যকে অবগত করতে হয়। কিন্তু ১৬ কর্মকর্তার পদোন্নতির বিষয়ে এ নিয়ম মানা হয়নি। এ নিয়ে ভিসি পক্ষ-বিপক্ষের সিন্ডিকেট সদস্যদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। এ নিয়ে চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করতে পারায় আগামী শনিবার পর্যন্ত এই সিন্ডিকেট মিটিং মুলতবি ঘোষণা করা হয়।
ঘনিষ্ঠ সূত্র থেকে জানা যায়, ১৬ জনের তালিকার একজনের বিরুদ্ধে নৈতিকতা স্খলন ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ আছে। বিভিন্ন অভিযোগে তাকে তিনবার সাসপেন্ডও করা হয়েছে। তালিকায় নাম থাকা অপর একজনকে অতিরিক্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে পদোন্নতি দেওয়ার প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতক পরীক্ষার যেকোনো একটিতে তার তৃতীয় শ্রেণী আছে যা প্রচলিত চাকরি বিধান অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নয়। একই অবস্থা অতিরিক্ত পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) পদে পদোন্নতির প্রস্তাব নিয়েও।
অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার দুপুরে ভিসির কক্ষে দল বেঁধে যান যোগ্য অথচ পদোন্নতির তালিকায় নাম নেইÑ এমন দাবিকারীরা। এসময় ভিসির কক্ষে উত্তপ্ত বাক্য প্রয়োগ করে বাছাই করা ১৬ জনের বিষয়ে প্রতিবাদ জানানো হয়। সমস্যা ভালভাবে সমাধানের আশ্বাস দিলে বিক্ষুব্ধরা ভিসির কক্ষ ত্যাগ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পদোন্নতিবঞ্চিত দাবিকারী একজন এ প্রতিবেদককে জানান, যদি এতে কোনো ধরনের অনিয়মের আশ্রয় গ্রহণ করা হয়, আমরা আন্দোলনে নামবই। সবাই একত্রিত হয়ে গেছি।
যোগাযোগ করা হলে বিএসএমএমইউর ভিসি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বুধবার সকালে এ প্রতিবেদককে বলেন, পদোন্নতি নিয়ে চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় শনিবার ফের সিন্ডিকেটের বৈঠক ডাকা হয়েছে। এটা নিয়ে কোনো অপ্রীতিকর কিছু হয়নি। যোগ্য দাবীকারীদের বিষয়ে তিনি বলেন, তারা যোগ্য হলে পদোন্নতি পাবে। যাদের তালিকায় আনা হয়েছে পরীক্ষারভিত্তিতে দেখা হয়েছে তারা যোগ্য নাকি অযোগ্য।