জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বয় আইন পর্যালোচনা হচ্ছে

ফারুক আলম : রাজধানী ও চট্টগ্রামে মুষলধারে বৃষ্টি হলেই পানি ও যানজটে হাবুডুবু খাচ্ছে নগরবাসী। এতে বিপাকে পড়ে এলাকাবাসী। আর এ বিপাক থেকে যেন কোন চিরস্থায়ী সামাধান খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ নিয়ে এলাকাবাসী সিটি করপোরেশনকে দোষারোপ করলেও এর কোন প্রতিকার পায় না। এ সমস্যা সমাধানে ঢাকার দুই সিটি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজ সমন্বিতভাবে করার জন্য ওয়াসা ও সিটি করপোরেশনের বিদ্যমান আইনগুলো পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এ জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নাসরীন আকতারকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

সুপ্রভাত পরিবহনের চালক নোমান সিদ্দিক রাজু বলেন, গত কয়েক বছর ধরেই দেখে আসছি শুধু উন্নয়ন আর উন্নয়ন। তবুও শানিগর-মালিবাগ-মৌচাক-মগবাজার ও মালিবাগ রেলগেট সড়কের ভোগান্তি কমে না। এত উন্নয়ন হয় যে তাতে গাড়ি চালানো যায় না। বাধ্য হয়েই খিলগাঁও দিয়ে যাতায়াত করি। যাত্রীরাও অনেক সময় আমাদের ওপর ক্ষিপ্ত হন।

একই অবস্থা মিরপুর, রোকেয়া সরণি, বাড্ডা, পুরান ঢাকার নাজিমুদ্দিন রোড, বাসাবো, মাদারটেক, যাত্রাবাড়ী, ধনিয়া, গে-ারিয়া, সূত্রাপুর, ধানম-ি, মোহাম্মদপুর, নিউমার্কেট ও রায়েরবাজারসহ নগরীর অধিকাংশ এলাকায়। এসব স্থানে জমে গেছে পানি। সড়কগুলোতে সিটি করপোরেশন ও ঢাকা ওয়াসার ড্রেনেজ লাইন নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সেবা সংস্থার সংযোগ লাইন স্থাপনের জন্য সড়কের বিশাল অংশের মাটি খুঁড়ে রাখা হয়েছে গর্ত করে। বৃষ্টির সঙ্গে পানি জমে গর্তগুলো ভরাট হয়ে সমতল স্থানের মতো পরিণত হয়েছে। এ কারণে সড়ক দিয়ে চলাচলে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে যানবাহনগুলো।

আজ (মঙ্গলবার) সভায় সিটি করপোরেশনের মেয়র থেকে শুরু করে অন্য কর্মকর্তারা জলাবদ্ধতার কারণ হিসেবে খালসহ প্রাকৃতিক জলাধারগুলো দখল, আশপাশের নিম্নাঞ্চলগুলো ভরাট করে ফেলাসহ কয়েকটি কারণের কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা নিরসনের কাজে ব্যাপক সমন্বয়হীনতার কথা বলেন। সচিবালয়ে যখন এ সভা চলছিল, বাইরে তখন মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। সভা শেষে বাইরে এসে দেখা যায় সচিবালয়ের ভেতরের আঙিনায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে অফিস শেষে ঘরমুখী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিড়ম্বনায় পড়েন।