প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধোধনের ১২ ঘণ্টা পরই আবার হজ্ব ক্যাম্পের ডরমেটরি আবাসিকদের দখলে

এইচএম দেলোয়ার : গত ২২ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশকোনায় হজ্ব ক্যাম্পের এবারের হজ্ব কার্যক্রমের উদ্ধোধনের ১২ ঘণ্টা পরই সহকারি হজ্ব অফিসারের নেতৃত্বে আবার হজ্ব ক্যামর তৃতীয়তলার ডরমেটরি পুরোটাই আবাসিক এলাকা হিসেবে দখল করে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ দিকে রাষ্ট্রায়ত্ব রূপালী ব্যাংকের নামে বরাদ্দকৃত দ্বিতীয়তলার রুমটি বেদখল হয়ে গেছে। ফলে ব্যাংকটির নামে বরাদ্দকৃত রুম না পেয়ে হাজিদের সেবা দিতে পারছে না। বহু দেনদরবারের পর দখল করে নেয়া অবশেষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালকের রুম ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। ধর্ম সচিবের জন্য হজ্ব ক্যাম্পের দ্বিতীয় তলায় একটি রুম রঙচঙ করে উন্নতমানের করা হয়েছে হয়েছে।

আর এ সব কিছুই হচ্ছে হজ্ব ক্যাম্পে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত সহকারি হজ্ব অফিসারের নেতৃত্বে- যাকে গত হজ্ব মৌসুমে দুর্নীতির দায়ে স্ট্যান্ডরিলিজ করা হয়েছিল। একজন কর্মকর্তা সহকারি হজ্ব অফিসারকে আশকোনা হজ্ব ক্যাম্পের ‘মুকুটহীন সম্রাট’ বলে অভিহিত করেন।
সূত্রে জানা গেছে, আশকোনা হজ্ব ক্যাম্পটি ধর্ম মন্ত্রনালয় ও গণপূর্ত অধিদপ্তর নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। প্রতিবছর হজ মৌসুমের সময় ডেকোরেশন করে তা ব্যবহার করা হয়্। এখানে একজন পরিচালক পদবী কর্মকর্তা হজ্ব ক্যাম্প অফিস নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। তার পরের পোষ্টটি হলো সহকারি হজ্ব অফিসারের। পরিচালক মহোদয় সহকারি হজ্ব অফিসারের ওপরই হজ্ব ক্যাম্পের পুরো কর্তৃত্ব দিয়ে থাকেন। আর এর সুবাধে সহকারি হজ্ব অফিসার হজ্ব ক্যাম্পের পুরো কর্তত্ব নিয়ে স্বেচ্ছাচারভাবে তা ব্যবহার করছেন। নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে গত হ্জ মৌসুমে সহকারি হজ্ব অফিসার ও কেরানি সোহেলকে হজ্ব ক্যাম্প থেকে স্ট্যান্ডরিলিজ করা হয়। কিন্তু তদবির করে আবার তারা আশকোনা হজ্ব ক্যাম্পেই ফিরে আসে। হজ্ব মৌসুম ব্যতীত সারাবছর জুড়েই সহকারি হজ্ব অফিসারের নেতৃত্বে ২৫টি পরিবার হজ্ব ক্যাম্পের তৃতীয়তলার ডরমেটরিকে আবাসিক এলাকা হিসেবে ব্যবহার করছে। ফলে হজ্ব ক্যাম্পের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। আবাসিকদের ব্যবহৃত গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির বিল বাবদ সরকারকে বছরে লাখ লাখ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। তবুও হজ্ব ক্যাম্প থেকে আবাসিকদের উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না।
এ ব্যাপারে ধর্মসচিব মো. আব্দুল জলিল বলেন, হজ্ব ক্যাম্প থেকে আবাসিকদের উচ্ছেদ করা হবে।
রাষ্ট্রায়ত্ব রূপালী ব্যাংকের নামে বরাবদদ্দকৃত রুম দখল করে নেয়া প্রসঙ্গে ব্যাংকটির ম্যানেজার আমিনুর রহমান বলেন, আমাদের ব্যাংকের নামে হজ্ব ক্যাম্পের দ্বিতীয় তলায় বরাদ্দকৃত রুমটি বেদখল হয়ে গেছে। আমরা হজ্ব যাত্রীদের সেবা দিতে পারছি না। তিনি আরো বলেন , সহকারি হজ্ব অফিসার মালেক সাব আমাদের ব্যাংকের নামে বরাদ্দ করা রুমটি অন্য একটি ব্যাংকের নামে বরাদ্দ দিয়েছেন। পরিচালককে অনেক বলে- কয়ে হজ্ব ক্যাম্পের বারান্দায় আমরা আমাদের ব্যাংকিং কার্যক্রম চালাচ্ছি। আমাদের রুমের ভিতর ব্যাংকের চেয়ার-টেবিল রয়ে গেছে, ব্যাংকের ভল্ট রয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন ৩৫ দিনের জন্য হজ্ব যাত্রীদের সেবা দিতে এসে আমরা হয়রানির শিকার হচ্ছি।