বরগুনার ইউএনওর বিরুদ্ধে মামলার নেপথ্যে

ডেস্ক রিপোর্ট : পঞ্চম শ্রেণির শিশুর আঁকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি দিয়ে কার্ড প্রকাশের পর বরগুনার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজী তারিক সালমনের মামলার মুখোমুখি হওয়া নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ছাড়াও জনমনে এ মামলা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। কী কারণে মামলার মুখোমুখি হতে হলো ইউএনওকে তারও কারণ খুঁজছেন সবাই।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে পেছনের দিকে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃত করে ছাপানো হয়েছে অভিযোগ করে গত ৭ জুন বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা হয় ইউএনও গাজী তারেকের বিরুদ্ধে। মামলার শুনানি ছিল বুধবার। সকালে জামনি নামঞ্জুর হলেও বিকেলে জামিন পান বরগুনার ইউএনও।

মামলার বাদী অ্যাডভোকেট সৈয়দ ওবায়েদ উল্লাহ সাজু বলেন, ইউএনও কাজী তারিক সালমন বঙ্গবন্ধুর বিকৃত ছবি আমন্ত্রণপত্রে ছেপেছেন এবং শেষের পাতায় ছেপে বঙ্গবন্ধুর অবমাননা করেছেন।

ইউএনও’র বিরুদ্ধে মামলার কারণের খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসে এইচএসসি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে আগৈলঝাড়ার শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে পিয়াল নামের এক পরীক্ষার্থীকে বহিস্কার করেন ইউএনও গাজী তারিক সালমন। পিয়াল স্থানীয় এক আওয়ামীলীগ নেতার ছেলে। বরগুনার ইউএনওর বিরুদ্ধে মামলার নেপথ্যে।

ওইদিন বহিষ্কার হওয়ার পর পিয়াল ইউএনও’র সঙ্গে অসদাচরণ করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ৬ মাসের কারাদ- দেওয়া হয়। পিয়ালকে নকল সরবরাহের দায়ে একই দিন ওই কলেজের দফতরি নারায়ণকে ২ মাসের কারাদ- দেয় ভ্রম্যমাণ আদালত। এছাড়া নকল সরবরাহের দায়ে কলেজের প্রভাষক অরুন বাড়ইকে পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়।

স্থানীয়দের ধারণা, এসব কারণে স্থানীয় ক্ষমতাশীন দলের প্রভাবশালী মহল চরম ক্ষুদ্ধ হয়েছিলেন ইউএনও গাজী তারিক সালমনের ওপর।

একটি সূত্র জানায়, টিআর-কাবিখা প্রকল্পের আওতায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আগৈলঝাড়া উপজেলার সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ৭৯ লাখ টাকা ফেরত পাঠান ইউএনও।

স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারা ওই টাকা তাদের নিজেদের মত করে খরচ করতে চেয়েছিলেন। তাতে সফল না হয়ে ইউএনও গাজী তারিক সালমনকে জব্দ করতে তার বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃত করার অভিযোগ তুলে মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে ইউএনও তারিক সালমনের বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে বুধবার থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

৭ জুন গাজী তারিক সালমনের বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলাটি করেন বরিশালের আইনজীবী সমিতির সভাপতি ওবায়েদ উল্লাহ সাজু। ওইদিন মামলা আমলে নিয়ে আদালতের বিচারক ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে তারিক সালমনকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন জারির আদেশ দেন।

বুধবার আদালতে ইউএনও তারিক হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে প্রথমে নাকচ হলেও দ্বিতীয়বারে তার জামিন মঞ্জুর হয়।

সূত্র : সমকাল