২৪ জুলাই হজ্ব ফ্লাইটের উদ্বোধন
হজ্ব ক্যাম্পের ডরমেটরি এখন আবাসিক এলাকা!

এইচএম দেলোয়ার ; আগামী ২৪ জুলাই এবারের হজ্ব ফ্লাইটের শুভ উদ্ধোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হজ্ব ফ্লাইট উদ্ধোধনের আগে হজ্ব ক্যাম্পের পবিত্রতার জন্য ধোয়ামুছার কাজ ঢিলেঢালাভাবে চলছে। হজ্ব ক্যাম্পের ভিতরে হজ্ব যাত্রীদের ব্যহারের জন্য নির্মিত ৫ তলা ডরমেটরির ৩য় তলার প্রায় পুরোটাই দখল করে আবাসিক এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। হজ্ব ক্যাম্পে কর্মরত সহকারি হজ্ব অফিসারসহ প্রায় ২৫ টি পরিবার ডরমেটরিকে আবাসিক এলাকা বানিয়ে দীর্ঘদিন যাবত বসবাস করলেও কোন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। ২৫টি পরিবার হজ্ব ক্যাম্পের সরকারি গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ব্যবহার করছে। হজ্ব ক্যাম্পের চতুরদিকে আবাসিক ব্যবহারকারীরা ময়লা ফেলে হজ্ব ক্যাম্প ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করেছে। হজ্ব ক্যাম্পের ডরমেটরিতে ২৫ টি পরিবার আবাসিক এলাকা বানানোর ফলে বিভিন্ন সংস্থা যেমন ব্যাংক-বীমা বিমানসহ বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রুম না পেয়ে হজ্ব যাত্রীদের সেবা দিতে পারছে না। হজ্ব মৌসুমে তাদের অফিস করার জন্য রুম পাচ্ছে না। হজ্ব ক্যাম্পের ভিতরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের রুমও দখল করে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক কর্মকর্তা বলেন , এটা যেন বিড়ালের ইদুর তাড়ানোর বদলে ইদুরের বিড়াল তাড়ানোর গল্প ।
হজ্ব ক্যাম্পের বাইরেও শত শত হকার দোকান বসিয়ে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। এ চাদার টাকা হজ্ব ক্যাম্পের কর্মকর্তাসহ পুলিশ , স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ভাগবাটোয়ারা করে খাচ্ছে। এতে করে হজ্ব ক্যাম্পের পবিত্রতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ ছাড়াও হজ্ব ক্যাম্পে কর্মরত বড় কর্মকর্তাসহ ছোট কর্মচারীরাও নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে। গত বছর হজ্বে অনিয়মের ঘটনা তদন্তে প্রমানিত হওয়ার পর সহকারি হজ্ব অফিসার আব্দুল মালেক ও কেরানি দীন মোহাম্মদকে (হজ্ব ক্যাম্পে কর্মরত কেরানি সোহেলের আপন শ্যালক) সাসপেন্ড করা হলেও আবার তারা বহাল তবিয়তে আশকোনা হজ্ব ক্যাম্পে ঘাঁটি গেড়ে বসেছেন। তাদেরকে এখান থেকে সরায় এমন সাধ্য কার। শালা- দুলাভাইর রামরাজত্ব চলছে। কারণ সব ঘাটে ঘাটে তারা ম্যানেজ করে চলেন।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা গেছে, যে পরিবেশে ও জায়গায় ডরমেটরিতে হজ্ব কর্মকর্তা মালেকসহ ২৫টি পরিবার বসবাস করছে সেই পরিবেশে বাসাভাড়া করে থাকতে হলে ২৫-৩০ হাজার টাকা প্রতিমাসে বাসা ভাড়া গুনতে হতো। কিন্তু হজ্ব ক্যাম্পের ডরমেটরি আবাসিক এলাকা হিসেবে ব্যবহার করায় সরকারকে বছরে গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির বিলা বাবদ লাখ লাখ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। অন্য দিকে হজ্ব ক্যাম্পে কর্মরত সহকারি হজ্ব অফিসারসহ কর্মচারিরা সরকার থেকে বাসা ভাড়ার টাকাও হাতিয়ে নিচ্ছেন। এ যেন আশকোনা হজ্ব ক্যাম্পে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সারা বছর পৌষ মাস। পরিচালকের গাড়ির চালকও হজ্ব ক্যাম্পের ভিতরে বিভিন্ন কোম্পানির পন্য রাখার গোডাউন বানিয়ে রেখেছে। তাছাড়া রেন্ট-এ কারের গাড়ির গ্যারেজ গড়ে তোলা হয়েছে হজ্ব ক্যাম্পের ভিতর। হজ্ব মৌসুমের সময় কর্মকর্তাদের টনক নড়লেও সারা বছর একই চিত্র বিরাজ করে। হজ্ব মৌসুমের সময় হজ্ব ক্যাম্পকে ঘিরে চোর, বাটপার, পকেটমার ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে পরিনত হয় হজ্ব ক্যাম্প। গত হজ্ব মৌসুমে বিমানবন্দর থানা পুলিশ হজ্ব ক্যাম্প এলাকা থেকে কয়েকজন ছিনতাইকারী ও পকেটমারকে পাকড়াও করেছিল।
হজ্ব মৌসুমে হজ্ব ক্যাম্পের ভিতরে ইজারাকৃত হোটেলগুলোতে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হয় কিন্তু দাম নেয়া হয় গলাকাটা।
হজ্ব ক্যাম্পে দীর্ঘদিন যাবত কর্মরত সহকারি হজ্ব অফিসার আব্দুল মালেক ১১টি হজ্ব এজন্সিসহ ট্রলি ব্যাগ সরবরাহকারি ঠিকাদারদের থেকে ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধাসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িগয়ে পড়ায় তাকে হজ¦ ক্যাম্প থেকে প্রত্যাহার করে নেয়ার পরও আবার বহাল রয়েছেন।
হজ্ব ক্যাম্পের ডরমেটরিতে আবাসিক এলাকা গড়ে তোলার ব্যাপারে হজ্ব পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, আবাসিক এলাকা এখান থেকে সরিয়ে নেয়া হবে।
গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে হজ্ব ক্যাম্পের ডরমেটরিতে সহকারি হজ্ব অফিসারের ব্যবহারের জন্য একটি ছোট রুম ভেংগে বড় রুম করার ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
এ ব্যাপারে ধর্ম সচিব মো. আব্দুল জলিল বলেন , হজ্ব ক্যাম্পের ডরমেটরিতে আবাসিক হিসেবে কেউ কেউ বসবাস করলে তাদের ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আবাসিক বাসিন্দাদের উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।