জিও ছাড়াই ৭ দিন আমেরিকায়!

এইচএম দেলোয়ার : বিনা জিওতে (গর্ভমেন্ট অর্ডার) ৭ দিন আমেরিকায় বসে ছুটি কাটালেন হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা ( সিএসও) রাশিদা সুলতানা। ৪ জুলাই তিনি দেশে ফিরে আসেন। পরের দিন ৫ জুলাই তিনি কাজে যোগদান করতে গেলে সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ তাকে যোগদান করতে দেয়নি। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান বিনা জিওতে ছুটি কাটানো চাকরি শৃঙ্খলাজনিত অপরাধ।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, একটি প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণের জন্য প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তাসহ ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি টিম গত ২২ জুন আমেরিকা যায়। কিন্তু সিএসও রাশিদা ২২ জুন না গিয়ে একদিন পর অর্থাৎ ২৩ জুন তিনি আমেরিকা গমন করেন। একদিন তার আত্মীয়ের বাসায় কাটানোর পর ২৫ জুন তিনি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। পুরো টিমের সদস্যরা গত ২৭ জুন দেশে ফিরে এলেও সিএসও রাশিদা সুলতানা বিনা জিওতে ৭দিন ছুটি কাটিয়ে গত ৪ জুলাই তিনি দেশে ফিরে আসেন। তার ৭দিন ছুটি কাটানো বিমান মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন নেই বলে মন্ত্রনালয়ের সূত্র জানায়।

সূত্র জানায়, আমেরিকা ট্রেনিংয়ে যাবার সময় সিএসও রাশিদা সুলতানা অফিসিয়াল মোবাইল (সরকারি মোবাইল সেটসহ অন্যান্য আনুসঙিক প্রয়োজনীয় বিষয়াদি) তিনি কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে না দিয়েই আমেরিকা যান। ফলে তাকে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে ফোন করেও পায়নি বলে সূত্র জানায়।

সিএএবির সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সিএসও রাশিদা সুলতানা বিনা অনুমোদনে অতিরিক্ত ৭ দিন ছুটি কাটানোর পর তা ‘ব্যাকডেইটে’ অনুমোদন কারনোর জন্য মন্ত্রনালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তদবির করে বেড়াচ্ছেন।

এ ব্যাপারে শাহজালাল বিমানবন্দরের উপরিচালক মোশারফ হোসেন জানান, সিএসও রাশিদা সুলতানা বিনা অনুমোদনে নয়- চেয়ারম্যার স্যারের অনুমোদনে ৭ দিন আমেরিকায় ছুটি কাটানোর অনুমোদন আছে। তবে তিনি এখনও কাজে যোগদান করেননি।

বিষয়টি জানার জন্য শাহজালাল বিমানবনন্দরের পরিচালক উইং কমান্ডার ইকবাল করিমের সেল ফোনে কল করলে রিসিভ করে তিনি বলেন , আমি মিটিংয়ে আছি , পরে আপনাকে বিষয়টি জানাবো।

বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রনাালয়ের অতিরিক্ত সচিব  জিয়াউল হক দেশের বাইরে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপসচিব ( সিভিল এভিয়েশন এডমিন) ইসরাত চৌধুরি বলেন, সিএসও রাশিদা সুলতানার ব্যক্তিগত জিও‘র  বিষয়টি আমার জানা নেই।

উসচিব (সিভিল এভিয়েশন) মফিজুল ইসলাম পাটোয়ারি জানান, সিএসও রাশিদা সুলতানার সরকারি জিও ( সরকারি অনুমোদন বা গভর্মেন্ট অর্ডার) আছে কিন্ত ব্যক্তিগত ছুটি কাটানোর জিও নেই।

সিনিয়র সহকারি সচিব আব্দুর রশিদ বলেন, সিএসও রাশিদার ব্যক্তিগত জিও‘র অনুমোদন নেই। তিনি আরো বলেন, ৬ বা ৭ গ্রেডের কর্মকর্তা হলে সিএএবির চেয়ারম্যান ব্যক্তিগত ছুটির অনুমোদন দিতে পারেন।

সিএএবির সদস্য পরিকল্পনা ও পরিচালনা মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, সিএসও রাশিদার ব্যক্তিগত জিও‘র বিষয়টি এডমিন শাখা বলতে পারবে।

সিএএবির পরিচালক ( এডমিন) সাইফুল ইসলাম বলেন, সিএসও রাশিদা সুলতানার ব্যক্তিগত ছুটির  জিও‘র  বিষয়টি আমার জানা নেই।