শাহজালাল বিমানবন্দরে উচ্ছিষ্ট খাবারের সন্ধানে পাখি আসায় বিমান চলাচলে ঝুঁকি

এইচএম দেলোয়ার : এবার ঘুপচি টন্ডারও নয়Ñ একদম বিনা টেন্ডারে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের টার্মিনাল -১ ও টার্মিনাল-২ সংলগ্ন স্থানে খোলা জায়গায় ১০ টি ফাস্ট ফুডের দোকান বরাদ্দ দিয়েছে সিভিল এভিয়েশনের এ্যারো/এটিএস বিভাগ নিয়ন্ত্রিত সম্পত্তি শাখা।
এরমধ্যে ৬টি দোকান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বরগুনার এক সরকার দলীয় সংসদ সদস্যা আত্মীয়স্বজনের ফার্মেও নামে । বাকি ৪টির মধ্যে ২টি দোকান তদবির করে তার আত্মীয় ভাগিনার নামে বরাদ্দ নিয়েছে সিএএবিতে সম্পত্তি শাখার এক এম্বারকেশন ফি কালেকটর। এ ছাড়াও একই প্রক্রিয়ায় বিমানবন্দর টার্মিনাল ভবনের ভিতরে আরো ১৫ টি দোকান বিনা টেন্ডারে ইজারা দেয়া হয়েছে বলে সিএএবি সূত্রে জানা গেছে।
এই ফাস্টফুডের দোকানগুলোতে উচ্ছিষ্ট খাবারের সন্ধানে প্রতিদিন ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি আসছে। এ সব পাখি খাবার খেয়ে অবাধে রানওয়েতে প্রবেশ করছে। আর এতে বিমান উড্ডয়ন- অবতরণের সময় বিমানের ডানায় পাখির আঘাত করলে চলাচল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠতে পারে বলে সিএএবির একাধিক কর্মকর্তা তাদের মতামত ব্যক্ত করেছেন।
যে কোন সময় বিমানবন্দরে বিমানের ডানায় পাখির আঘাতে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনারও আশংকা করছেন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা।
ডবনা টেন্ডারের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সিএএবি সম্পত্তি শাখায় কর্মরত ফাইল উপস্থাপক/ এম্বারকেশন ফি কালেকটর অদুদ শেখ বলেন, শাহজালাল বিমানবন্দরের ভিতরে- বাইরে সামনে দোকান বরাদ্দ দিতে সিএএবিকে টেন্ডার আহবান করার প্রয়োজন হয় না। আর তাই বিমানবন্দর টার্মিনাল ভবনের বাইরে সামনের দিকে ১০ টি দোকান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ৬টি দোকান বরগুনার এক এমপিকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তবে তিনি তার ভাগিনার নামে দোকান বরাদ্দ নেয়ার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এ্যারো/এটিএস বিভাগ থেকে দোকানগুলো বিনা টেন্ডারে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আবেদনের প্রেক্ষিতে দোকানগুলো বরাদ্দ দেয়া হয়ে থাকে।
এ ব্যাপারে সিএএবির একজন প্রথম শ্রেনীর ঠিকাদার বলেন, বিনা টেন্ডারে কোন স্থাপনা ইজারা দেয়ার নিয়ম নেই। সিভিল এভিয়েশন ঢাকার প্রধান বিমানবন্দরসহ দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে কোন স্থাপনা ইজারা দিতে হলে তা ওপেন টেন্ডারে দিতে হবে। কিন্ত শাহজালাল বিমানবন্দর টার্মিনাল ভবনের সামনে ১০টি দোকান ইজারা দেয়া হয়েছে একদম বিনা টেন্ডারে। তিনি বলেন , বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবনের সামনে খোলা জায়গায় ফাস্টফুডের দোকান বরাদ্দ দেয়ায় বিমানবন্দরে খাবারের সন্ধ্যানে অসংখ্য পাখি আসছে। যেখানে বিমানবন্দরে পাখি মারার জন্য সিএএবি কর্তৃপক্ষ বার্ড শ্যুটার নিয়োগ দিয়ে চব্বিশ ঘন্টা পাখি নিধন করছে সেখানে বিমানবন্দরে সামনে খাবারের দোকান বরাদ্দ দিয়ে পাখি ডেকে আনা হচ্ছে। এতে বিমান চলাচল ঝুকিপূর্ন হয়ে ওঠছে। পাখি খাবার খেয়ে রানওয়েতে প্রবেশ করে উড়ন্ত বিমানের পাখার ভিতর ঢুকে পড়লে যে কোন সময় বিমান দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। অর্থাৎ পাখির জন্য বিমান চলাচল মারাত্মক ঝুকিপূর্ন। কিন্ত সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ সেদিক বিবেচনায় না নিয়ে কতিপয় কর্মকর্তার ব্যক্তি স্বার্থে বিমানবন্দরের সামনে ১০ টি খাবার দোকান বরাদ্দ দিয়েছে।
টেন্ডার সিডিউল শর্ত লংঘন : টেন্ডারের শর্ত লংঘন করে বিমানবন্দর এয়ারপোর্ট রেস্টরেন্টু সংলগ্ন স্থানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমআর এন্টারপ্রাইজ অতিরিক্ত ৫টি দোকার নিজ কন্সট্রাকশনে নির্মাণ করে দোকান প্রতি ৪ লাখ টাকা করে জামানত নিয়ে ভাড়া দিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। আর এ সাথে জড়িত ঠিকাদার সাকিব সটকে পড়েছে বলে অন্য ঠিকাদাররা জানান। এই অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ার সাথে সিএএবির সম্পত্তি শাখা ও হিসাব শাখার কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা জড়িত রয়েছে। এদের মধ্যে সম্পত্তি শাখার শেখ এবং একজন সহকারি পরিচালকের নাম সবার মুখে মুখে। এই অবৈধ স্থাপনা নির্মান বন্ধের জন্য সিএএবির সিভিল ডিভিশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম সিএএবি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্টের আশপাশে অতিরিক্ত ৫টি দোকান নির্মান এবং ছাদের ওপর ঢালাইকরন কাজ বন্ধ করার জন্য এক অফিসিয়াল চিঠি জারি করেন বলে নির্বাহী প্রকৌশলী জানান। কিন্ত সিএএবির এক উর্ধতন কর্মকর্তার নির্দেশে পরবর্তীতে তা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি বলেও তিনি জানান।
সূত্র জানায় , এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্টের সেই সাকিব এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্টকে ঢেলে সাজিয়ে সংস্কারের নামে লাখ লাখ টাকার তহবিল তছরুপ করে সটকে পড়েছে বলে প্রকৃত ইজারাদার অভিযোগ করেন। ফলে এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্ট ঘিরে ব্যবসা লাটে ওঠার উপক্রম হয়েছে বলেও প্রকৃত ঠিকাদার জানান।
এ ব্যাপারে সহকারি পরিচালক (হিসাব) মো: আনোয়ার হোসেন জানান , বিনা টেন্ডারে সিএএবির কোন স্থাপনাই ইজারা বা টেন্ডারে দেয়ার নিয়ম নেই। দিয়ে থাকলে সেটা সম্পত্তি শাখার বিষয়। এয়ারপোর্ট রেস্টুরেন্ট স্থাপনার বাইরে ঠিকাদারের মনগড়া ৫টি দোকান করা টেন্ডার সিডিউল লংঘনের সামিল বলেও তিনি জানান। এর এ জন্য টেন্ডার সিডিউল শর্ত লংঘন করায় টেন্ডার বাতিল হতে পারে।