বুধবার ১১ জানুয়ারী ২০১৭
  • প্রচ্ছদ » অর্থনীতি » ইসলামি ব্যাংকের অলস টাকা সরকারি বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ শিগগির হচ্ছে না



ইসলামি ব্যাংকের অলস টাকা সরকারি বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ শিগগির হচ্ছে না


আমাদের সময়.কম
Published Time : January 11, 2017-20:00
Last Update Time : January 11th, 2017-20:00

জাফর আহমদ : নব নিযুক্ত চেয়ারম্যার আরস্তু খান ইসলামি ব্যাংকের অলস টাকা সরকারি বড় প্রকল্পে বিনিয়োগের কথা বললেও শিগগিরই কাজে লাগানো যাচ্ছে না বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। সুত্রটির মতে, প্রথমত: ইসলামি ব্যাংকের টাকা বিনিয়োগের প্রয়োজনীয় ইনস্টুমেন্ট নেই। দ্বিতীয়ত: গুলিস্তান-যাত্রাবাড়ি ফ্লাইওভারে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একটি ব্যাংক বিনিয়োগ করে টাকা আটকে যাওয়ায় এ ধরনের বিনিয়োগে ব্যাংকের লাভ-লোকশান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে ইসলামি ব্যাংকের টাকা বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করার কথা বললেও এখনই সম্ভব হচ্ছে না।
বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে পড়ে আছে বিপুল পরিমান অলস অর্থ। টাকার অংকে যা প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা। এ সব টাকা জনগণের কাছে থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো চড়া সুদ দিয়ে সংগ্রহ করেছে। কিন্তু ঠিকই আমানতকারনীদের সুদ দিতে হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সবর্শেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো আমানতের ৬৯ শতাংশ বিনিয়োগ করতে পেরেছে। ইসলামী ব্যাংকগুলোর এর হার আরও কম।
তথ্য অনুযায়ী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বন্ডের মাধ্যমে সরকারের কাছে বিভিন্ন মেয়াদের বিনিয়োগ করে থাকে। কিন্তু এ বিনিয়োগে সুদের হার সামান্য। তারপরও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে অতিরিক্ত অলস টাকা পড়ে থাকার কারণে ব্যাংকগুলো কম সুদে হলেও বিনিয়োগ করছে। কিন্তু ইসলামী ব্যাংকের এ ধরনের বিনিয়োগের সুযোগ না থাকার কারণে এ সব ব্যাংকের অলস টাকার পরিমান আরও বেশি। ইসলামি ব্যাংক বড় হওয়ার কারণে অলস টাকা আরও বেশি। ইসলামি ব্যাংকের টাকা সরাসরি সুদের বিপরীতে বিনিয়োগ করার সুযোগ না থাকার কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এ টাকা বিনিয়োগ করতে হলে সরকারকে উদ্যোগি হয়েছে ইনস্টুমেন্ট তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শুধু ইসলামী ব্যাংকই নয়; তখন অন্যান্য ইসলামি ব্যাংকগুলোকেও সুযোগের অধীনে আনতে হবে।
অন্যদিকে ইসলামি ব্যাংকের টাকা সরাসরি বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করতে গুলিস্থান-যাত্রাবাড়ি ওড়াল সেতুতে বিনিয়োগের অভিজ্ঞতা মনে রাখতে হচ্ছে বাংলাদেশ ইসলামি ব্যাংককে। প্রকল্পটিতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক বিনিয়োগ করেছিল। এ টাকা সময়মত রিকোভারি এখন অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কিন্তু ওই বাণিজ্যিক ব্যাংকটি ঠিকই জনগনের আমানতের টাকা থেকে এ ঋণ দিয়েছিল। ফলে বাংলাদেশ ইসলামি ব্যাংককে সরকারি বড় প্রকল্পে বিনিয়োগের আগে এ বিষয়টিও মনে রাখতে হচ্ছে।
ইসলামি ব্যাংকের পরিচালনা পরিষদের একটি সুত্র জানায়, ব্যাংকটিতে নতুন পরিচালনা পরিষদ আসার পর ব্যাংকটির চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে অলস টাকার বিনিয়োগ করে আমানতকারীর টাকার সঠিক ব্যব্হার নিশ্চিত করা; ইসলামি ব্যাংকের সাথে একটি সমালোচিত রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতামুক্ত ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে পরিচালনা করা এবং আর্থিক খাতে ব্যাংকটির যে সুনাম রয়েছে তা ধরে রাখা। নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব নেওয়ার পর পরই চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করেন। কিন্তু আদত কতটুকু তা করতে পারবে তা নির্ভর করবে পরিচালনা পরিষদের পথনকশা বাস্তবায়নের সক্ষমতার উপর।