আন্ধারমানিক নদীতে ইলিশের অভয়াশ্রম নিয়ে শঙ্কা (ভিডিও)

p-28আরিফুর রহমান : ইলিশের অভয়াশ্রম, আন্ধারমানিক নদীর মোহনায় তৈরি হচ্ছে পায়রা ১৩শো ২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যাবহার করা হবে নদীর পানি, যা গরম অবস্থায় আবার নদীতেই গিয়ে পড়বে। এতে ইলিশের চলাচল ও প্রজনন, মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, চীনের সাথে যৌথ উদ্যোগের এই প্রকল্পে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যাবহার হচ্ছে, ক্ষতির কোন সম্ভাবনা নেই।
মাছের রাজা ইলিশ। শুধু স্বাদ আর সৌন্দর্য্যের বিচারেই সেরা নয় আছে অর্থনৈতিক গুরুত্বও। দেশের মোট মৎস্য সম্পদের ১১ ভাগ আর জিডিপির ১ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে। গুরুত্ব অনুধাবন করতে পেরে ইলিশের জন্য দেশে পাঁচটি অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছে সরকার। তার একটি পটুয়াখালির আন্ধারমানিক নদী। যেখানে সমুদ্র থেকে আক্টোবরের পূর্ণিমায় ইলিশ আসে ডিম পাড়ার জন্য। তাই ইলিশের চলাচল ও বংশ বৃদ্ধির সুযোগ দিতে নভেম্বর থেকে জানুয়ারি এখানে সব ধরণের মাছ ধরা নিষেধ।
সমুদ্র থেকে যেসব পথ ধরে ইলিশ পদ্মা-মেঘনাসহ অন্যান্য নদীতে ঢোকে আন্ধারমানিক ও তেতুলিয়া নদী তার অন্যতম। কিন্তু এই দুই নদীর সংযোগস্থল, আন্ধারমানিকের তীরে স্থাপন করা হচ্ছে পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যেখনে প্রতিদিন ব্যবহার করা হবে প্রায় ১২ কোটি লিটার নদীর পানি। প্রকল্পের পরিবেশগত সমীক্ষা প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবহৃত পানি, স্বাভাবিকের চেয় ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি গরম হবে। যা আবার নদীতে গিয়ে পড়বে।
এক জেলে বলেন, ‘এই এলাকায় মাছ ডিম পাড়তে আসে। নদীতে যদি গরম পানি দেওয়া হয় তাহলে আর মাছ আসবে না। এই এলাকায় যদি মাছ না আসে আমরা গরিব মানুষ না খেয়ে মরব’।
ইলিশের ক্ষতি হবে, একথা জেনেও, নির্বিকার মৎস্য অধিদপ্তর। তাদের অভিব্যক্তি অনেকটা এমন যে, ৫টার মধ্যে একটা অভয়াশ্রমের ক্ষতি হলেও, ইলিশের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।
মৎস অধিদপ্তরের ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রমের পরিচালক এ বি এম জাহিদ হাবিব বলেন, ‘রাস্তাঘাট করলে ফসলি জমি নষ্ট হয়ে যায়। অতএব যে কোন একটা কাজ করলে আরেকটা জিনিস নষ্ট হতে পারে। আমরা যেটা দেখব সেটা হল ক্ষতিটা যাতে পুষিয়ে নেয়া যায় সেই কার্যক্রম হবে আমাদের দায়িত্ব’।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে এই প্রকল্প যা পরিবেশ বান্ধব। বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ব্যবহার করা পানি নদীর পানিকে সামান্যই গরম করবে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর পর যদি পরিবেশগত ক্ষতির প্রমাণ মেলে সেক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত গরম পানি নদীতে যাবে এবং ইলিশের মারাত্মক ক্ষতি হবে। সরকার জেনেশুনেই এই ক্ষতি করতে যাচ্ছে।
জাতিসংঘের আইপিসিসির সদস্য আহসান উদ্দিন আহমেদ বলেন, পাঁচটি অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছে সরকার। কিন্তু অবস্থা বিবেচনায় মনে হচ্ছে একটিকে হারিয়ে ফেলব, আমরা সেদিকেই যাচ্ছি। রাষ্ট্রের আরেক টি সংস্থা বলছে ইলিশ সংরক্ষণের জন্য এই জায়টিকে রক্ষা করতে হবে। এই প্রয়োজনটাকে উপেক্ষা করা হচ্ছে এবং বিজ্ঞানের অনেক চর্চা যেগুলো করা উচিত ছিল, বিকল্প অনুসন্ধানের চেষ্টা করা দরকার ছিল সেটি ইআইআর দিতে ব্যর্থ হয়েছে’।
বিদ্যুৎকেন্দ্র হলে হয়তো আন্ধারমানিক নদীর আন্ধার শব্দটির আর কোন মানে থাকবে না আলোয় ভরে যাবে। কিন্তু হারিয়ে যেতে পারে এই নদীর মানিক ইলিশ।
সূত্র: চ্যানেল টোয়েন্টিফোর