চবি’তে দীর্ঘ হচ্ছে নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের তালিকা (ভিডিও)

Capture-134রাকিব খান : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নিখোঁজ শিক্ষার্থীর তালিকা ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। শুধু মাত্র আরবি বিভাগেই নিখোঁজ ৪৯ জন। যারা দীর্ঘদিন ধরে ক্লাসে অনুপস্থিত কিংবা অংশ নেয়নি পরীক্ষা ও একাডেমিক কোনো কার্যক্রমে। সম্প্রতি সেসব তালিকা তৈরি করে তাদের অবস্থান সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের আরবি বিভাগে ভর্তির পর প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষায় অংশ নিলেও তৃতীয় বর্ষে ভর্তি হননি গুলশান হামলার অন্যতম মাষ্টারমাইন্ড নুরুল ইসলাম মারজান। মারজানের সাথে ১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি হওয়া দুই শিক্ষার্থী মোবারক হোসেন এবং আবু তালেবও নিখোঁজ। এই দুই জনও প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন কিন্তু তৃতীয় বর্ষে আর ভর্তি হননি। বিভাগ থেকে দেয়া অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের তালিকা থেকে পাওয়া গেছে এমন তথ্য।
চবি প্রভাষক আরবি বিভাগ মুফতি হুমায়ুন কবির খালভী বলেন, ‘কোনো বর্ষে যদি কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি না হয় বা ভর্তি হওয়ার পরে ক্লাসে অনুপস্থিত থাকলে তাদের ভর্তি এমনিই বাতিল হয়ে যায়। এই প্রতিষ্ঠানের যে শিক্ষার্থী ছিল মারজান তারতো ভর্তি বাতিল হয়ে গিয়েছিল অনেক আগেই।’
এদিকে গুলশান হামলায় মারজানের জড়িত থাকার বিষয়টি জানাজানির পর আরবি বিভাগের ৪৯ অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর তালিকা তৈরি করে কর্তৃপক্ষ। এই তালিকায় দেখা যায় শুধু মানজানের শিক্ষাবর্ষ থেকেই দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত ১৬ জন। যদিও এই তালিকা এখনো যাচাইবাছাই করা হচ্ছে।
চবি প্রক্টর আলী আসগর চৌধুরী বলেন, ‘এই তালিকায় যারা রয়েছেন তাদের ব্যাপারে আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি আর দেখছি তারা আদৌ অনুপস্থিত কিনা বা অন্য কোনো স্থানে ভর্তি হয়েছে কিনা কিংবা লেখাপড়া ছেড়ে দিয়েছে কিনা।’
এদিকে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীর তালিকা জমা দেয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরো ৮টি বিভাগ। কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব তালিকা যাচাইবাছাইয়ের পর সন্দেহজনক কাউকে পাওয়া গেলে তাদের তথ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দেয়া হবে।
এর আগেও প্রথম দফায় ৬ জন নিখাঁজ শিক্ষার্থীর তালিকা তৈরি করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। যদিও পরে তাদের প্রত্যেকের খোঁজ পাওয়া গেছে।
সূত্র : যমুনা টিভি