আগুন দিয়ে মাছ ধরার পদ্ধতি !

Fish-550x367শেখ সাজ্জাদ: আগুন জ্বালিয়ে এক অদ্ভুত উপায়ে মাছ ধরে আসছে তাইওয়ানের জেলেরা। নিজেদের নৌকার ওপর একটা লাঠিতে আগুন জ্বালিয়ে ধরে রাখে জেলেরা। আর এ আগুন দেখে ভীষণভাবে আকৃষ্ট হয়ে পানিতে থাকা সার্ডিন মাছেরা পাগলের মতো পানির ওপর লাফাতে থাকে। আর এভাবেই এসে তারা নিজে থেকেই যেন ধরা দেয় জেলেদের জালে।
আগুন দিয়ে মাছ ধরার এ পদ্ধতি যতটা সরল, ততটাই মজার। রাতের বেলা একের পর এক মাছ ধরার নৌকা চলতে থাকে সমুদ্রের পথে। আর সেসব নৌকা থেকে ঝুলিয়ে দেওয়া বাঁশের লাঠিতে জ্বলতে থাকে আলো। আলো বেশি উজ্জ্বল করার জন্য আবার লাঠির মধ্যে মেশানো হয় সালফার মেশানো মাটি। এই সালফার পানির সঙ্গে মিশে যায়, আর এর দারুন তৈরি হওয়া গ্যাস আগুনের ঝলকানি অনেকটা বাড়িয়ে দেয়।
জাপানি শাসনামলে এমন অভিনব পদ্ধতিতে মাছ ধরার চল শুরু হয়। আর এখন শুধু জিনশান সালফার হারবারে মাছ ধরার এ রীতি চালু আছে। জিনশান প্রদেশটি তাইপের উত্তরের একটি এলাকা। একসময় তাইওয়ানে ৩০০টিরও বেশি নৌকায় এভাবে আগুন জ্বালিয়ে মাছ ধরার প্রচলন ছিল। কিন্তু জিনশান প্রদেশের স্থানীয় জেলেদের একটি সংস্থার হিসাব মতে, এ সংখ্যা এখন অনেকটাই কমে গেছে।
এ আলোর টানে শত শত সার্ডিন মাছ একসঙ্গে সাগরের তল থেকে লাফিয়ে উঠে আসতে থাকে। এত মাছ একসঙ্গে হওয়ার দৃশ্যটাও দেখার মতোই। এ বিশেষ পদ্ধতিতে আগুন জ্বালিয়ে মাছ ধরার প্রক্রিয়াটা পরিচিত সালফিউরিক ফায়ার ফিশিং নামে।
সাধারণত ছয় ঘণ্টাব্যাপী চলা মাছ ধরার এ প্রক্রিয়ায় এক নৌকায় ধরা পড়ে তিন থেকে চার টন সার্ডিন। কপাল ভালো হলে এক রাতেই একদল জেলে সাড়ে চার হাজার ডলারের ওপর আয় করতে পারে। এমনকি তাইওয়ানের সরকার এ পদ্ধতিকে জনপ্রিয় করার জন্য ভর্তুকিও দিচ্ছে।
পর্যটকদেরও এই প্রথা আকৃষ্ট করছে ভীষণভাবে। এত সব সুবিধা থাকা সত্ত্বেও আগুন জ্বালিয়ে মাছ ধরার এ ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি এখন প্রায় হারাতে চলেছে। এর একটা বড় কারণ হলো, সার্ডিন মাছের মৌসুম থাকে শুধু তিন মাস—মে থেকে জুলাই। তাই এখনকার তরুণ প্রজন্ম খুব একটা আগ্রহী নয় এভাবে মাছ ধরতে। তা ছাড়া প্রযুক্তির এ যুগে মাছ ধরার যন্ত্রপাতিও হয়েছে অনেক আধুনিক। তা ছাড়া এ পুরনো পদ্ধতিতে তরুণ জেলেরা মাছ ধরতে খুব একটা উৎসাহও পায় না। তাই বিচিত্র আর কার্যকর এই ঐতিহ্যবাহী মাছ শিকার পদ্ধতি হারিয়ে যেতে বসেছে।