চামড়া ব্যবসায় শঙ্কা
ট্যানারি শিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে : বিটিএ’র চেয়ারম্যান

20160813_125818-400x400ফারুক আলম : রাজধানীর হাজারীবাগে বড় ট্যানারি শিল্পের মালিকরা প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে কারখানা চালাতে পারলেও ক্ষুদ্র ট্যানারি কারখানার মালিকরা তা পারছে না। এজন্যে ইতোমধ্যে ক্ষুদ্র ট্যানারি শিল্পের মালিকরা কারখানা বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে কিছু শ্রমিক কর্মসংস্থান হারিয়েছে। অর্থাৎ পাট শিল্পের মতো ট্যানারি শিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারা চালছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ট্যানারি অ্যা‍সোসিয়েশনের (বিটিএ) চেয়ারম্যান মো. শাহীন আহমেদ।
শাহীন আহমেদ বলেন, হাজারীবাগে ট্যানারি কারখানায় যাদের একটি ট্যানারি ড্রাম আছে তাদেরকেও ১০ হাজার জরিমানা দিতে হয়। আবার যাদের ২০ ড্রাম আছে তাদেকেও ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হয়। এরফলে ক্ষুদ্র ট্যানারি মালিকরা এ ব্যবসা থেকে ঝড়ে পড়বে। কারণ তারা ইচ্ছা করলেই কারখানা স্থানান্তর করতে পারবেন না। তাছাড়া আসন্ন চামড়া মৌসুমে রাতারাতি ট্যানারি সরিয়ে নেওয়াও সম্ভব হবে না। উপরন্তু সাভারের চামড়া শিল্প নগরীতে এখনও বর্জ্য অপসারণের পুরো কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় ব্যবসায় লোকসান না গুণে আসন্ন মৌসুমে চামড়া কেনা বন্ধ করে দিতে পারেন ট্যানারি মালিকরা। আর উচ্চ আদালতের রায় পুনর্বিবেচনার জন্য রিভিউ আবেদন করবো।
হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তর না করা পর্যন্ত ১৫৪ ট্যানারি শিল্প মালিককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করে গত ১৮ জুলাই রায় দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। সর্বোচ্চ আদালতের এ রায়ের পর একমাস হতে গেলেও সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের প্রস্তুতি নেননি মালিকরা। হাজারীবাগে ট্যানারি কারখানাগুলো এখনো চালু রয়েছে।
বিটিএ’র চেয়ারম্যান বলেন, এখনও বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়নি চামড়া শিল্প নগরী সাভারে। সেখানে রাতারাতি গেলে ব্যবসা বন্ধ হয়ে পড়বে। আর সাভারে স্থানান্তরিত একমাত্র রিলায়েন্স ট্যানারি লিমিটেড ইউনিট-২ থেকে এখনও বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা অসম্পূর্ণ। তাই স্থানান্তরের আগেই সব ব্যবস্থা সম্পন্ন করতে হবে সরকারকে।

সরিজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রাজধানী হাজারীবাগে ট্যানারি কারখানা আর কাঁচা চামড়ার গোডাউন লালবাগ এলাকায়। লালবাগ এলাকা লালবাগ পোস্ত মোড়ে রিকশা থেকে নামতেই চামড়ার গোডাউন। গোডাউনের ভেতরে ৫ থেকে ৬ জন শ্রমিক বসে আছেন। তাদের সঙ্গে কিছুক্ষণ গল্প করতেই মূল ইস্যুগুলো সামনের চলে আসতে থাকে। শ্রমিকদের ভাষ্যমতে, এক দিকে লবণের দাম বৃদ্ধি অন্যদিকে ট্যানারি কারখানা স্থানান্তর, আন্তর্জাতিবাজার খারাপ সব মিলে এখন চামড়ার ব্যবসা মন্দা যাচ্ছে।
হাইড এন্ড স্কীন রিটেইল ডিলার মার্চেন্টস এসোসিয়েশনের কার্যকরী সদস্য ফরিদ উদ্দিন বলেন, দেশের ভেতর অস্থিরতা অবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চামড়া ব্যবসা ধস নেমেছে। আগে লবণের বস্তা ৬শ টাকায় কিনতাম এখন তা ১২শ টাকায় কিনতে হচ্ছে। আবার চামড়া পুরনো হলে দাম কমে যায়। ঈদুল ফিতরের চামড়া এখন পর্যন্ত বিক্রি করতে পারিনি। এই মুহূর্তে চামড়া ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। এই কারণে ঈদুল আযাহায় অনেক ব্যবসায়ীরা চামড়া কিনবে না।
পটুয়াখালী আব্দুল গণি নামে এক ফরিয়া বলেন, ব্যবসা টিকে রাখার জন্যে ঈদুল ফিতরে ১ হাজার ও ১৫শ টাকায় চামড়া কিনেছি তা এখন ৬শ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। ভাবছি আগামী ঈদে চামড়া কিনবো না।