ফ্রান্সের চরমভাবাপন্ন জঙ্গি ও সিরিয়ায় আটকে পড়া তরুণী

france-1-Copy-550x309আবু সাইদ: হেডফোন মাথায় দিয়ে সর্বশেষ মডেলের কম্পিউটারের সামনে বসে ব্যস্ত সময় পার করার চিত্র দেখে যে কেউ মনে করবেন নিয়মিত অফিসকর্মী তিনি। কিন্তু ওমর ওমসেন নামের এই লোকটি সাধারণ কোন অফিসের কর্মী নন। সিরিয়ায় জঙ্গি সদস্য নিয়োগে উপকেন্দ্র পরিচালনাকারী তিনি।
কম্পিউটারে ব্যস্ত সময় পার করার মধ্য দিয়ে তার যে সৃষ্টিকর্ম বা ভিডিও কিøপ বের হয়েছে তা কোন পপ ভিডিও বা সংবাদ চিত্র নয়। বরং তা ছিল উগ্র ইসলামিক প্রপাগা-া। যা ২০১৫ সালে প্যারিসের শার্লি এবদো কার্যালয়ে হামলায় উৎসাহ যুগিয়েছে। যে বর্বরোচিত হামলায় কমপক্ষে ১২ জন প্রাণ হারিয়েছে।
ফ্রান্সের নিস শহরে হামলার আগে সিরিয়া থেকে এক সাক্ষাৎকারে উমর দাবি করেন, ফরাসি জঙ্গির এক আস্তানা বা ‘কাতিবা’র প্রধান ছিলেন তিনি। আর ওই জঙ্গিরা সবাই নিস শহর ও এর আশপাশের বাসিন্দা। উমর ২০১৩ সালে আল কায়েদার সিরিয়া শাখা আল নুসরা ফ্রন্টের হয়ে যুদ্ধ করতে যাওয়ার আগে নিস শহরে জঙ্গিদের নেতার দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। উমর বলেন, তিনি যখন কারাগারে ছিলেন তখনই তিনি চরমপন্থা গ্রহণ করেন। ১১ই সেপ্টেম্বরের হামলার আগে ওমর ১৯ এইচএইচ নামে ধারাবাহিকভাবে ভিডিও প্রকাশ করেন। ফ্রান্স কর্তৃপক্ষ বলছেন, ইরাক ও সিরিয়ায় জঙ্গি সংগঠনে নিয়োগের ক্ষেত্রে ওমরের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। এই সংগঠনের ৮০ শতাংশ নিয়োগ প্রক্রিয়ার জন্য ওমর দায়ী। ফ্রান্সের মুসলিম যুবকদেরকে জঙ্গি সংগঠনে যোগদানে অনুপ্রাণিত করতে ওমর যেসব ভিডিও ক্লিপ তৈরি করতো তাতে হলিউডের স্পেশাল ইফেক্ট, র‌্যাপ মিউজিক এবং ধর্মীয় ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ব্যবহার করতো। ৪১ বছর বয়সি ওমর ওমসেন সেনেগালে জন্মগ্রহণ করেন এবং শিশু বয়সেই তার পরিবার ফ্রান্সে চলে আসে। ফ্রান্সের নিস শহরে বেড়ে উঠে ওমর।
ফুয়াদ এল বাথি নামে এক ব্যক্তি বলেন, ওমর ওমসেন তার ভিডিও ক্লিপে এমন সব তত্ত্ব ব্যবহার করতো যা দেখে অনেক তরুণীরাও আকৃষ্ট হয়ে পড়তো যুদ্ধে অংশ নিতে। যার বড় সাক্ষী তিনি নিজেই। কেননা ১৫ বছর বয়সী তার এক বোনও ওমরের ফাঁদে পড়ে সিরিয়ায় পালিয়েছে। দি ইন্সটিটিউট ফর ইকনোমিক অ্যান্ড পিস এর তথ্য অনুযায়ী, আইএস সদস্যদের মধ্যে ২৫ থেকে ৩০ হাজারই বিদেশি। যাদের ২১ শতাংশই ইউরোপ থেকে এসেছে। ২০১১ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে তারা ইরাক ও সিরিয়ায় প্রবেশ করেছে। সূত্র: সিএনএন