পদবঞ্চিত নেতারা খালেদা জিয়ার সাক্ষাতের অপেক্ষায়

rrrrrrrrrrrrr-550x365নাশরাত আর্শিয়ানা চৌধুরী : কমিটিতে পদ না পেয়ে বঞ্চিত বিএনপি নেতারা এখনও আশা ছাড়েননি। পদ পাওয়ার জন্য নিরন্তন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই জন্য বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। কিন্তু এই ধরনের কোন সুযোগ না থাকার কারণে তার ঘনিষ্ট নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন। তার বিশেষ সহকারি, দলের মহাসচিবের সঙ্গেও যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু দলের কমিটিতে ঠাঁই পাবেন এই রকম কোন আশ্বাস পাচ্ছেন না কোনদিক থেকেই।
সূত্র জানায়, বিএনপির কমিটি গঠনে চেয়ারপারসন বেগম খলেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান সব কাজ করেছেন। তারাই ঠিক করেছেন কে কোন পদ পাবেন। এই কাজ করার জন্য যারা কয়েকজন নেতার সহায়তা নিয়েছেন। তাদের মতামত নিয়েছেন। দলের জন্য যাদেরকে পদ দেওয়া হয়েছে তারা কতখানি কাজ করতে পারবেন সেই ব্যাপারে পরামর্শ নিয়েছেন। অনেক দিন বিবেচনা করেই তারা কমিটির নেতা নির্বাচন করেছেন। তবে নেতা নির্বাচন করার পর অনেক নেতাই মনে করছেন তারা যথাযথ পদ পাননি। এই জন্য তাদেরকে যথাযথ মূল্যায়ন না করে বঞ্চিত করা হয়েছে ও অবমূল্যায়ণ করা হয়েছে। এই কারণে নিজেরা বিব্রত বোধ করছেন। ওই সব নেতারা কাঙ্খিত পদ পাওয়ার জন্য চেষ্টা করছেন। তবে তাদের পদ পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদার জিয়ার ঘনিষ্ট এক বিএনপি নেতা।
বিএনপির ওই নেতা বলেন, দলের চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদ দিয়েছেন। এখন পদ পরিবর্তন করতে গেলে অনেক সমস্যা হবে। নতুন করে জটিলতা তৈরি হবে। তাছাড়া কেউ যদি নিজে নিজে মনে করেন তাকে কোন পদে বসানো হবে এরপর সেই পদ না পেলে ক্ষুব্ধ হবেন ও পদত্যাগ করবেন সেটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। এই ব্যাপারে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান কোন ধরনের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করবেন না। কোন কোন নেতা তারেক রহমানের সহকারিকে ফোন করে তারেক রহমানের সঙ্গে একবারের জন্য টেলিফোনে কথা বলার অনুরোধ করেছেন। কিন্তু সেই ধরনের সুযোগ নেই বলেও ওই সব নেতাদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
তারেক রহমানের ঘনিষ্ট সূত্র জানায়, পদ বঞ্চিত ও কাঙ্খিত পদ না পাওয়া নেতারা এখনও মনে করছেন তাদের সামনে সুযোগ রয়েছে। তারা বিএনপি চেয়ারপারসনের ক্ষমতা বলে পদ পেতে পারেন। সেই জন্য চেষ্টা করছেন। এমনকি লন্ডনে তারা তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করার জন্য সিডিউল পাওয়ার চেষ্টা করছেন। যোগাযোগ করছেন তার ব্যক্তিগত সহকারির সঙ্গে। এছাড়াও যুক্তরাজ্য বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করছেন। তারেক রহমান এখনও পর্যন্ত কাউকে তার সঙ্গে দেখা করার জন্য অনুমতি দেননি। যারাই যোগাযোগ করেছেন তাদেরকে তার সহকারি বলে দিয়েছেন তারেক রহমান বলে দিতে বলেছেন, ব্যক্তিগত যোগাযোগ এই মুহুর্তে দরকার নেই। নেতারা যাতে যে যার অবস্থান থেকে কাজ করেন।
এদিকে বিএনপির কোন কোন নেতা পদ প্রত্যাশীদের পদ মিলতে পারে এমন কথা বলেছেন ও চেষ্টা করে যেতে বলেছেন সেই জন্য অনেকেই চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কমিটি ঘোষণা করার পর তারেক রহমানের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে নেতারা যোগাযোগ করার কারণে বিষয়টি তিনি ভালভাবে নেননি। এদিকে জাতীয় নির্বাহী কমিটির পদ পাওয়া নিয়েও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ক্ষুব্ধ এক নেতারা পদত্যাগ করেছেন। আরো দুই জন নেতারা পদত্যাগ করতে চাইছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় জাতীয় নির্বাহী কমিটি নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে। এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ নেই।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যে সিদ্ধান্ত হয়েছে ও কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে তাই মানতে হবে। এটা পরিবর্তনের কোন সিদ্ধান্ত নেই। পরিবর্তন হবেও না। বড় দলে অনেক যোগ্য নেতা থাকেন। কিন্তু সবাইকে দলে জায়গা দেয়া সম্ভব হয় না। কমিটি ঘোষণা হয়ে গেছে। এখন আর পুনর্বিবেচনার সুযোগ নেই। যারা বাদ পড়েছেন তাদের উপ-কমিটিতে জায়গা দেয়া হবে। যদি তাতেও সুযোগ না হয় তাহলে তাদের কাউন্সিল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কমিটি করা দলের ব্যাপার। দলের পক্ষ থেকে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এনিয়ে সমালোচনার কিছু নেই। কারণ এই কমিটি করার জন্য ম্যাডামকে কাউন্সিলররা ক্ষমতা দিয়েছেন। কাউন্সিলরদের দেওয়া ক্ষমতা বলে তিনি কমিটি করেছেন।