মিয়ানমারে মসজিদ ধ্বংসকে কেন্দ্র করে ধর্মীয় উত্তেজনা

MOSQUE-550x417লিহান লিমা: মুসলমানদের একটি মসজিদ ধ্বংস করাকে কেন্দ্র করে ফের টান টান ধর্মীয় উত্তেজনা বিরাজ করছে বৌদ্ধ অধ্যুষিত মিয়ানমারে। সম্প্রতি মধ্য মিয়ানমারে একটি মসজিদ ধ্বংস করে বৌদ্ধ জনতা। এ ঘটনায় সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে শনিবার জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এর আগে বাগো প্রদেশের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ওই গ্রামে একটি মুসলিম স্কুল নিমার্ণ নিয়ে প্রতিবেশির সাথে তর্ক হয়। এর প্রেক্ষিতে ২০০ বৌদ্ধ সমবেত হয়ে এ তা-ব চালায়।
স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা ওন লিয়ন এএফপিকে জানান, পরিস্থিতি মোকাবেলা করার জন্য ওই গ্রামে প্রায় ১০০ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে মসজিদ ধ্বংসের ঘটনায় কাউকে আটক করা যায় নি।
মসজিদ এর সহকারী উইস শিউ বলেন, আমরা মুসলিমরা নিরপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং আমরা ভীত। আমরা এই গ্রাম ছেড়ে পাশ্ববর্তী শহরে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি।
মিয়ানমারের মুসলিম বিরোধী সহিংসতা সত্যিকার অর্থেই অনেক দুঃখজনক। ২০১১ সালে সামরিক জান্তা সরকারের পদত্যাগের পর এই সহিংসতা আরো বেড়ে যায়। ২০১২ সাল থেকেই মিয়ানমারে দফায় দফায় ঝরছে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের রক্ত। মধ্য মিয়ানমার এবং পশ্চিম রাখাইন অঞ্চলে এই ঘৃণ্য ধর্মীয় সহিংসতা মাত্রা ছাড়িয়েছে। সেখানে রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যালঘূদের বাস্তুহারা করা হচ্ছে। প্রায় দশ হাজারেরও বেশি মানুষ ধর্মীয় দাঙ্গার পর অসহায়ের মত ঘুরছে। বৌদ্ধ জাতীয়তাবাদের ধারণা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী অং সান সুচির কাছে এ সমস্যা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
এদিকে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের উপর কঠোর নীতি প্রণয়ন করেছে। ‘রোহিঙ্গা’ শব্দ ব্যবহার নিষিদ্ধ করে পরিবর্তে তাদের ‘বাঙালী’, বাংলাদেশ সীমান্তে বসবাস করা অবৈধ জনগোষ্ঠি বলে উল্লেখ করছে।
মানবতাবাদী নেত্রী সুচি মিয়ানমারের নির্যাতিত জনগোষ্ঠি রোহিঙ্গাদের সমস্যা সমাধানে কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছেন। এই মাসে জাতিসংঘ মিয়ানমারকে সর্তক করে তার প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের উপর অত্যাচার ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ ’ বলে উল্লেখ করেছে।
শান্তিতে নোবেল জয়ী নেত্রী সুচির দল মিয়ানমারের প্রথম গণতান্ত্রিক সরকার গঠন করেছেন। গণতন্ত্রকামীও শান্তির নেত্রী সুচি তার দেশেও সাম্প্রদায়িক শান্তি ও রোহিঙ্গাদের অধিকার ফিরিয়ে দিবেন বলে আশা করেছিল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠি।
সূত্র: র‌্যাপলার.কম