রাঙ্গামাটিতে প্রশাসনের সহযোগিতায় উজাড় হচ্ছে বন

Wood-550x364নাসিমুজ্জামান সুমন : রাঙ্গামাটিতে অবাধে চলছে কাঠ পাচার। সঙ্গে জড়িত স্থানীয় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। আর এই সিন্ডিকেট প্রশাসনের সহায়তায় কাঠ পাচার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে উজাড় হচ্ছে প্রায় ৪ লাখ একর সংরক্ষিত বনভূমি।
রাঙ্গামাটি-পার্বত্য জেলার ৫টি বন বিভাগের অধীনে বনভূমি রয়েছে ১৮ লাখ একর। যার ৪৫ শতাংশই সংরক্ষিত। এই বনভূমি রক্ষায় বন বিভাগের পাশাপাশি কাজ করছে পুলিশ ও বিজিবি। তবুও থামছেনা নির্বিচারে গাছ কাটা এবং কাঠ পাচার। অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতায় রাজনৈতিক নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র এ ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারিদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে সিন্ডিকেটের কাছে আসহায়ত্বের কথা বলছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সম্প্রতি কাপ্তাইয়ে বিজিবি’র একটি তল্লাশী চৌকিতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার নেপথ্যেও ছিল কাঠ পাচারকারীদের বাধা দেয়ার ঘটনা। ব্যাটালিয়ন ১৯ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সোহেল উদ্দিন পাঠান মনে করেন, কাঠ পাচারে তৎপরতা এবং অভিযানের কারণে অবৈধ ব্যবসায়ীদের স্বার্থে আঘাত লাগায় এমন কর্মকা- তাদের উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
কাঠ পাচার নিয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ থাকলেও এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি তারা। তবে পুলিশ বলছেন, কাঠ পাচার রোধে বন বিভাগকে সহযোগিতা করা হচ্ছে। চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহিরুল আনোয়ার বলেন, ‘বন বিভাগ আমাদের কাছে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা চায় এবং অনেক সময় তারা তাদের বন সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে আমাদের কাছে এলে আমরা তাদের সাহায্য সহযোগিতা করি।’
গত ৫ মাসে রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে কেবল দমছড়ি তল্লাশী চৌকিতে আটক হয়েছে প্রায় ৬৮ লাখ টাকা মূল্যের কাঠ। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, মূল সড়কে যে পরিমাণ কাঠ ধরা পড়ে তা পাচার হওয়া কাঠের ১০ শতাংশেরও কম।
সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভি।