কলম্বিয়ার ৫ রঙের নদী

Color-River-550x309আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ দক্ষিণ আমেরিকার আশ্চর্য দেশ কলম্বিয়া, আর আশ্চর্য নদী ক্যানো ক্রিসটালেস।বছরের কয়েক মাস এই নদীতে খেলা করে পঞ্চরঙ। যা এই বিশ্বের আর কোথাও দেখতে পাওয়া যায়না।
আন্দেল পর্বতমালার পূর্ব পাশ থেকে জন্ম ক্যানো ক্রিসটালেস নদীর। ১শ’ কিলোমিটার দৈর্ঘের এই নদীর রূপের খেলা আর কোথাও দেখতে পাওয়া যায়না। এই নদীকে বলা যায় তরল রংধনু। বছরের কয়েক মাস জুড়ে এই নদীতে খেলা করে লাল, নীল, হলুদ, কমলা আর গাঢ় সবুজ রঙ।
গেরিলা তৎপরতার জন্য ২০০০ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত ক্যানো ক্রিস্টালেসে যাওয়া যেতোনা। এখন ৩০ কিলোমিটার নদীর দখল কলম্বিয়ার সামরিক বাহিনীর। লা মাকারেনা একটি ছোট অপরিচ্ছন্ন শহর। এই শহরই ক্যানো ক্রিসটালেস-এর প্রবেশদ্বার। এখন সেই এলাকাটি পর্যটকদের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। নিরাপত্তারও অভাব নেই। মোটর বোটে করে গুআইয়াবেরু নদী ধরে যেতে হবে ক্যানো ক্রিস্টালেসে। পরে হাঁটা পথ। পরিবেশের বুনো রূপ ঠিক রাখতে ট্যুর অপারেটরদের ব্যবস্থাটাই এমন। এ পথে পড়বে গোলাপী আভার খেলা।
নদীর বুকে রঙের খেলাটা করে একটা উদ্ভিদ। আলোর উজ্জলতার সঙ্গে চলে রঙ বদলের খেলা। প্রথমে লাল, পরে হালকা গোলাপী, আরো পরে গাঢ় গোলাপী এবং মেরুণ। রঙের এই বদলটা প্রায় সবসময়ই দেখা যায়। যেখানে নদী গেছে ছায়াময় পথে, সেখানে এই উদ্ভিদ হয়ে যায় গাঢ় সবুজ। তার পর ধীরে ধীরে নীল, হলুদ ও কমলা রঙ ধরে।
পর্যটকদের কালে ক্যানো ক্রিসটালেস নতুন আকর্ষণ। তবে নদী তীরের মানুষ এই মায়ার খেলা সম্পর্কে জানে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে। স্থানীয়দের বিশ্বাস এ নদীর জল প্রসবব্যাথার উপশম করে।
শুরুর দিকে পর্যটকদের আগমনকে স্বাগতই জানিয়ে ছিলো স্থানীয় অধিবাসীরা। পরে তারা দেখতে পায় নদী তীরে বনভোজনের আয়োজন প্রকৃতিকে নষ্ট করতে যাচ্ছে। এখন এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে হয় নিয়ন্ত্রণে থেকে। এখানে পরিবেশ আইনের প্রয়োগ কঠোর।
এ নদীর দুপাড়ে কলম্বিয়ার ২৫ শতাংশ ভূমি। এখানে আছে বনভূমি। জীববৈচিত্রে ভরা বনভূমি। এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে যতটা রক্ষা করে সরকার, তার চেয়ে বেশি রক্ষা করে স্থানীয় মানুষ। বিবিসি।