পাঁচ ধাপে ৩২৯০ ইউপিতে ভোটগ্রহণ: আ.লীগের ২১৯৫, বিএনপির ৩১৫ চেয়ারম্যান

7013621eff7d60daa77e638cfceb701c-1-2-550x282দেলওয়ার হোসাইন : চলমান ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রথম পাঁচ ধাপে ঘোষিত ৩ হাজার ২৯০টি চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ২ হাজার ১৯৫টিতে। এতে আওয়ামী লীগ এককভাবে ৬৭ শতাংশ ইউপিতে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি জয় পেয়েছে ৩১৫টিতে। অর্থাৎ ১০ শতাংশেরও কম ইউপিতে জয় পেয়েছে বিএনপি।
স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে তৃণমূলের এই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে ভোট হচ্ছে। এতে এ নির্বাচন ঘিরে সংঘাত-সহিংসতায় প্রায় ১১৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
নির্বাচন কমিশনের হিসাবে, প্রথম ধাপে ৭৪ শতাংশ, দ্বিতীয় ধাপে ৭৮ শতাংশ, তৃতীয় ধাপে ৭৬ শতাংশ ও চতুর্থ ধাপে ৭৭ এবং পঞ্চম ধাপে ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। এছাড়া পাঁচ ধাপের এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ১৯৩ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পঞ্চম ধাপে ৬৫৭ ইউপির প্রাথমিক ফলাফলে আওয়ামী লীগ ৩৮২ জন ও বিএনপির ৬৬ জন এবং ৪১ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এই পর্বে ১৬৮ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
এ বিষয়ে সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমাদের নির্বাচনী ব্যবস্থা অনেকটাই ভেঙ্গে পড়েছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ২০১৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে শঙ্কিত হবার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা অব্যাহত রয়েছে। এর কোন পরিবর্তন হয়নি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে। তোফায়েল আহমেদ বলেন, ২০১৪ সালের পর উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ সব নির্বাচনই একইভাবে হয়েছে। এতে বাংলাদেশে নির্বাচনের ভবিষ্যত কি তা বলা মুশকিল।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, কারা জয়ী হচ্ছে এটি বিষয় নয়। বিষয়টি হলো নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হচ্ছে না। কারচুপি হচ্ছে। ফলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না। তিনি বলেন, এই ভোটে স্বাভাবিক পন্থায় বিজয়ী হচ্ছেন, এই সংখ্যা বেশ কম। একটি বড় অংশ কারচুপি, বিনা ভোটে নির্বাচিত হচ্ছে, এটা খারাপ দিক।
নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপের চূড়ান্ত ফলে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান হয়েছেন ৪৯৪ জন ও বিএনপির ৫০ জন। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ১০৯ ইউপিতে। আর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের ৫৪ জন।
দ্বিতীয় ধাপে নৌকা প্রতীকের ৪১৯ জন ও ধানের শীষের ৬৩ জন বিজয়ী হয়েছেন। ১১৭ ইউপিতে জয় পেয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। এ ধাপে আওয়ামী লীগের ৩৪ জন প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
তৃতীয় ধাপের ভোটে আওয়ামী লীগ থেকে ৩৬৬ জন, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ২৯ জন চেয়ারম্যান হয়েছেন । এ ধাপে বিএনপি প্রার্থীরা ৬০টি ইউপিতে জয়ী হয়েছেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন ১৩৯ ইউপিতে।
চতুর্থ ধাপে নৌকা প্রতীকের ৪০৫ জন জয়ী হয়েছেন। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ৩৫ জন। বিএনপির ৭০ জন ও ১৬১ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী জয় পেয়েছেন এ ধাপে। শেষ ধাপে ৪ জুন ৭২৭ ইউপিতে ভোটের মধ্য দিয়ে এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের।