নিজেদের প্রতারণার জালে নিজেই ফেঁসেছে বিএনপি: হানিফ

hanif2-550x303 (1)ইয়াছিন রানা : ইসরাইলের লিকুদ পার্টির নেতা মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের বৈঠকের সংবাদ ‘নাটক’ আখ্যায়িত করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-আলম হানিফ বলেছেন, বিএনপি হল প্রতারকের দল। প্রতারণা করে নাটক সাঝিয়ে নিজেদের জালে এবার নিজেরাই ফেঁসে গিয়েছে।
হানিফ বলেন, এই নাটকের রচয়িতা হচ্ছেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তাকের রহমান ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের সাবেক উপদেষ্টা জাহিদ এইচ সরদার সাদী। তিনি আরো বলেছেন, ওই নাটকের স্ক্রিপ্ট খুবই কাঁচা হাতের লেখা। ওনারা ভুল করেছেন, কারণ বাংলাদেশে এর চেয়ে অনেকে বড় বড় নাট্যকার ছিলেন।
রোববার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে শনিবারও সাংবাদিকদের কাছে ওই সংবাদকে নাটক বলে আখ্যায়িত করেছিলেন আওয়ামী লীগের এই নেতা।
বিএনপি নিজেদের ষড়যন্ত্র আড়াল করতেই মিথ্যা কাল্পনিক নাটক জানিয়েছে দাবি করে হানিফ বলেন, “আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, কখনোই মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বৈঠক হয়নি। এই নাটকের রচয়িতা হচ্ছেন মিথ্যাচার- ষড়যন্ত্র ও দুর্নীতি-সন্ত্রাসের দায়ে অভিযুক্ত তাকের রহমান।”
তারেক রহমানের সমালোচনা করে উইকিলিকসের কথা এ সময় উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, “আপনাদেরস্মরণ করিয়ে দিতে চাই, ঢাকাস্থ মার্কিন গোপন বার্তার উল্লেখ করে উইকিলিকস থেকে জানা যায়, ‘ দূতাবাস মনে করে, রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত ব্যাপক মাত্রায় দুর্নীতির জন্য তারেক রহমানই দায়ী। তারেক রহমান কুখ্যাত ও তাকে সবাই ভয় পায়। ”
‘‘আজকে খালেদা জিয়া ও তার পুত্র তারেক রহমান সরকার উৎখাতে ইসরাইলকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করে ধরা খেয়ে নতুন নাটক শুরু করে সজীব ওয়াজেদ জয়কে জড়ানোর অপচেষ্টা করছেন। কিন্তু কিন্তু সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, গত চার বছরে তিনি কাউকে এমন কোনো সাক্ষাৎ দেননি।’’
বিসিসি অনলাইন ওই খবরটি প্রকাশ করায় হানিফ বলেন, “আমরা এই প্রতিষ্ঠানটির এহেন ভিত্তিহীন সংবাদ পরিবেশনায় ক্ষুব্ধ, ব্যথিত, হতাশ ও মর্মাহত। আমরা মনে করি এ খবরটি প্রকাশের আগে তাদের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাইয়ের প্রয়োজন ছিল। আমরা সংশ্লিষ্টদের কাছে এ ধরনের সংবাদ পরিবেশনার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে সতর্ক হওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।”
বিবিসির এমন সংবাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেবেন সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, “বিসিসি আনলাইনের সম্পাদকের সঙ্গে ইতিমধ্যেই আমরা কথা বলেছি। আমরা ওই সংবাদের প্রতিবাদও পাঠিয়েছি। আমরা আশা করি প্রকৃত ঘটনা বিবিসি জনগণের সামনে নিয়ে আসবে।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, দুর্যোগ ও ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবলু, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, কেন্দ্রীয় নেতা সুজিত রায় নন্দী প্রমুখ।