‘দুর্নীতি দমনে সবার আগে প্রয়োজন নাগরিক ক্ষমতায়ন’

b959c20f-3635-4e5d-a30f-a2810ddeb2b3-550x367নিজস্ব প্রতিবেদক : দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রে সবার আগে প্রয়োজন নাগরিকের ক্ষমতায়ন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এমন মন্তব্য করে বলেছেন, বাংলাদেশের বাস্তবতায় দুর্নীতি দমন মোটেও সহজসাধ্য নয়। রাষ্ট্র, সমাজ ও ব্যক্তির সম্মিলিত প্রয়াসেই এ সমস্যার সমাধান করতে হবে।
রোববার সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহে সরল ও গ্রাহকবান্ধব কর্মপদ্ধতি গ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাধারণ মানুষের জন্য কীভাবে দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা যায়- এ বিষয়ে রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে সব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত শুদ্ধাচার কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানে উত্তম সেবা ও জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠানগুলোতে শুদ্ধতা আনয়ন সম্ভব। তার মতে, শুধু দুর্নীতি করাই নয়, দুর্নীতি মেনে নেওয়াও এক ধরনের অন্যায়। তিনি প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এগিয়ে আসার আহবান জানান।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উদ্যোগে ও জাপানি দাতা সংস্থা জাইকার সহায়তায় মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন- মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম ও বাংলাদেশে জাইকার প্রধান প্রতিনিধি মিকিও হাতায়দা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।
মন্ত্রী পরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সেবা প্রদানের সময় মনে রাখতে হবে সরকারি কর্মকর্তারা জনগণের প্রভু নন, বরং জনগণই সরকারের প্রভু। তাহলেই কেবলমাত্র গ্রাহকবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে।
দাতা সংস্থা জাইকার প্রধান প্রতিনিধি মিকিও হাতায়দা বলেন, সরকার সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় ‘জাতীয় শুদ্ধাচার বাস্তবায়ন কৌশল’কে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে। যার মাধ্যমে সরকারি সেবার গুণগত মানবৃদ্ধি ও জনমুখী করার ব্যাপারে সরকারের অঙ্গীকার নিশ্চিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতি মুক্ত করা গেলে সমাজের সকল পর্যায়েই এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠন করা সহজসাধ্য হবে।
কর্মশালার দ্বিতীয় পর্বে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরল ও আরও গ্রাহকবান্ধব কর্মপদ্ধতি গ্রহণের মাধ্যমে কীভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোতে সাধারণ মানুষের জন্য দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা কয়েক দলে ভাগ হয়ে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানে সেবার মান বৃদ্ধি ও দুর্নীতির কারণ ও প্রতিকারসমূহ নিয়ে আলোচনা করে পরামর্শগুলো সবার সামনে উপস্থাপন করেন।
কর্মশালার শেষ পর্বে সকল মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি মুক্ত আলোচনার আয়োজন করা হয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের সচিব মোহাম্মদ মোস্তফা কামালের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে কর্মশালার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।