মামলা করেও ভরণ-পোষণ পেলেন না বাবা-মা

father-motherজাহিদ হাসান : জীবনে যা আয় করেছিলেন তার সবটুকু সন্তানদের পেছনে ব্যয় করেছেন মা-বাবা। সন্তানদের মুখে হাসি ফোঁটাতে সব বাবা-মা তাই করেন। শাহেদা বেগম এবং তার স্বামী হযরত আলীও সেটাই করেছিলেন। তাদের জীবনের ক্ষুদ্র সঞ্চয় তিন ছেলের জন্য ব্যয় করেছেন। ছেলেরা প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। এরপরই যার যার মতো করে আলাদা হয়ে চলে গেছেন। আর খোঁজ নেন না মা-বাবার। অসহায় মা-বাবা কোথায় থাকবেন? কি খাবেন? সেই খোঁজ আর রাখেন না তিন সন্তান। বাধ্য হয়ে ঢাকার নিম্ন আদালতে ভরণ-পোষণের দাবি জানিয়ে পৃথক দুটি মামলা করেন এই দম্পতি। তবে তাতেও মেলেনি ভরণ পোষণ।
২০১৩ সালে বাবা-মায়ের ভরণ পোষণের আইন পাস হওয়ার পর দেশের বিভিন্ন আদালতে এরকম অনেক মা-বাবা মামলা করেছিলেন।
সাহেদা বেগম ও হযরত আলী দম্পতির তিন ছেলে। হযরত আলী এমএলএসএস পদে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চাকরি করতেন। সাত-আট বছর আগে অবসরে গেছেন তিনি। অবসরে যা পেয়েছিলেন তা সব তিন ছেলের পেছনে ব্যয় করেছেন। ছেলেদের ব্যবসা বাণিজ্যে বিনিয়োগ করেছেন। বড় ছেলে মো. সেলিম একটি বীমা কোম্পানিতে চাকরি করেন। মেজ ছেলে মো. শামীম বাসচালক। ছোট ছেলে মো. শাহীন ব্যবসা করেন। কেউই বাবা-মায়ের খোঁজ রাখেন না।
উপায় না পেয়ে ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর হযরত আলী ও তার স্ত্রী সাহেদা বেগম ঢাকা মহানগর হাকিমের আদালতে তিন ছেলেকে বিবাদী করে একটি ভরণ পোষণের মামলা দায়ের করেন। সি. আর. মামলা নম্বর ৪৪১ ও ৪৪২।
তবে সবকিছু স্বীকার করে আইনমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি আমি দেখব। ইতোমধ্যে আমাদের কাছে কিছু টাকা এসে পৌছেছে সেগুলো আমরা তাদেরকে দিয়ে দিব।