সরকার উৎখাতে ‘মোসাদ ষড়যন্ত্র’ নিয়ে যা বললেন আসলাম চৌধুরী (অডিও)

12670722_1177904018908985_7731941646028075142_n-550x376মাছুম বিল্লাহ : ভারতে তেলআবিব-দিল্লি সম্পর্ক উন্নয়ন বিষয়ক সেমিনারে যোগ দেননি এমন দাবি করে বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আসলাম চৌধুরী বলেছেন, ‘সেমিনার শেষে একটি চা চক্রে অংশ নিয়েছিলাম, সেখানে আগে থেকেই লাগানো একটি ব্যানারের সামনে গ্রুপ ছবি তোলা হয়। সেটি তোলাই ছিল আমার জন্য ভুল’।
তিনি বলেন, ‘ওই ছবি দিয়ে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা ভিত্তিহীনভাবে আমাকে সরকার উৎখাতের তৎপরতার সঙ্গে জড়ানোর অপচেষ্টা করা হয়েছে। এটা আমার বিরুদ্ধে গভীর ষড়যন্ত্র। আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
আমাদের সময় ডটকমকে দেয়া সাক্ষাতকারে আসলাম চৌধুরী বলেন, আমি জানতাম না মেন্দি এন সাফারি ইসরাইলের লিকুদ পার্টির নেতা। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর জানতে পারেন তার সঙ্গে মোসাদের সম্পর্ক রয়েছে। পত্রিকায় প্রকাশিত ছবির বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে তিনি বলেন, ছবি কিভাবে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হল তা বুঝতে পারছি না। তবে এ ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হলে সেজন্য নেতাকর্মী ও সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইতেও দ্বিধা নেই তার।
তিনি বলেন, ‘নিতান্তই ব্যবসার কাজে দিল্লিতে গিয়ে পূর্ব পরিচিত শিপন কুমার বসুর সঙ্গে দেখা হয়। এরপর আগ্রা’র তাজমহল দেখে ফেরার পথে আগ্রা’র মেয়রের চা চক্র অনুষ্ঠানে শিপন বাবু আমাকে আমন্ত্রণ জানায়। তার আমন্ত্রণে আমি সাড়া দিয়ে তাদের সাথে চা চক্রে অংশগ্রহণ করি এবং ছবি তুলি। ওই ছবি দিয়ে সরকার উৎখাতের যে কল্পকাহিনী উল্লেখ করে পত্রিকায় প্রতিবেদন হচ্ছে তা সম্পূর্ণই মিথ্যার বেসাতি। কেননা আমি সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির ধারায় বিশ্বাসী।’
বিষয়টি নিয়ে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে তার কথা হয়েছে উল্লেখ করে আসলাম চৌধুরী বলেন, ম্যাডামকে বলেছি, ‘এই সফর আমার ব্যক্তিগত।’ তারপরও এ ঘটনায় দল ক্ষতি হলে আমি তার কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছি। এরপরও দলের স্বার্থে তাকে পদ ছেড়ে দিতে বললে তাতে রাজি আছেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনার পর থেকে পরিবারের সদস্যরা আতংকে আছেন। যে কোনো সময় গ্রেফতার করা হতে পারে। তবে আমি গ্রেফতারে ভয় পাই না।
বিএনপির মত একটি বড় রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসরায়েলের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাভাবিক সম্পর্ক না থাকার পরও কেন দিল্লিতে আপনি ওই সেমিনারে যোগ দেন কিংবা এব্যাপারে তার দল বিএনপির ভূমিকা কি ছিল জানতে চাইলে আসলাম চৌধুরী বলেন, ভারত থেকে দেশে ফেরার পর আমাকে যুগ্ম সম্পাদক ঘোষণা করা হয়েছে। ভারতে সফরের সময় আমি বিএনপির সহ সম্পাদক ছিলাম এবং ওই সফরও কোনো দলীয় সফর ছিল না। ব্যবসায়ীক কারণে দিল্লি গেলে এবং রাজনীতি করি বলে নিতান্তই কৌতুহলবশত আগ্রার মেয়রের সঙ্গে সাক্ষাত করতে সেখানে আমি যাই।
তিনি বলেন, দেশ ও দেশের বাইরে কেউ গোপন বৈঠক করলে তার ছবি তোলা হবে এমন বোকা দুনিয়াতে খুজে পাওয়া দুষ্কর। সৌহার্দ্যবশত তোলা ছবি দিয়ে এমন বিভ্রান্তিকর সংবাদে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে।
আসলাম চৌধুরী বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবদী দল করি সেহেতু এই দলের আদর্শ বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এবং গণতন্ত্র’র প্রতি আমি শতভাগ আস্থাশীল। বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের অর্থ হলো মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, চাকমা,মারমা, ত্রিপুরাসহ সকল ধর্ম বর্ণের লোকজন যারা বাংলাদেশের ভূখ-ে বসবাস করে তাদের সকলের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। এই কথাগুলো আমরা যেকোন জায়গায় বলি এবং একইভাবে গণতন্ত্রের কথা বলি, এর সাথে সরকার উৎখাতের কি সম্পর্ক যে বিষয়টি আমার জানা নেই। দেশে কিংবা দেশের বাইরে মানুষের মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত আলাপচারিতা মানেই সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের গন্ধ খোঁজা বাতুলতা মাত্র।’
তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের শিপন বাবুর সাথে আমার পরিচয় সুবাদে টুরিষ্ট হিসেবে আগ্রা’র তাজমহল দেখে ফেরার পথে আগ্রা’র মেয়রসহ চা চক্র অনুষ্ঠানে শিপন বাবু আমাকে আমন্ত্রণ জানান। তার আমন্ত্রণে আমি সাড়া দিয়ে তাদের সাথে চা চক্রে অংশগ্রহণ করি এবং ছবি তুলি। ওই ছবি দিয়ে যে কল্পকাহিনী উল্লেখ করা হয়েছে সেটা সম্পূর্ণই মিথার বেসাতি। কেননা আমি সুষ্ঠু ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির ধারায় বিশ্বাসী।’
সম্প্রতি ইসরাইলভিত্তিক অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘জেরুজালেম অনলাইন ডটকমে’ এ সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হয়। সেখানে বলা হয়েছে, ইসরাইলের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোমেসি অ্যান্ড অ্যাডভোকেসির প্রধান ও লিকুদ পার্টির নেতা মেন্দি এন সাফারির সঙ্গে আসলাম চৌধুরী বৈঠক করেন। এরপর বাংলাদেশের কয়েকটি গণমাধ্যমেও এ সংক্রান্ত খবর এবং ছবি প্রকাশিত হয়। এরপর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়।